× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৮, রবিবার

শিক্ষক কারাগারে ক্লাসে ফিরছে ভিকারুননিসার শিক্ষার্থীরা

প্রথম পাতা

স্টাফ রিপোর্টার | ৭ ডিসেম্বর ২০১৮, শুক্রবার, ১০:৩২

ভিকারুননিসা নূন স্কুলের শিক্ষার্থী অরিত্রী অধিকারীর আত্মহত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া শ্রেণি শিক্ষক হাসনা হেনাকে জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টা ২০ মিনিটে ডিবি পুলিশ তাকে আদালতে হাজির করে। এ সময় মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের উপ-পরিদর্শক কামরুল ইসলাম। আবেদনে তিনি আরো বলেন, শিক্ষিকা জামিনে মুক্তি পেলে পলাতক হয়ে সুষ্ঠু তদন্তে বিঘ্ন সৃষ্টি করতে পারে। অপরদিকে শিক্ষিকার আইনজীবী জাহাঙ্গীর হোসেন তার জামিন চেয়ে আবেদন করেন। শুনানিতে আইনজীবী জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ঘটনার সঙ্গে তিনি জড়িত নন। প্রধান শিক্ষক ওই শিক্ষার্থীর (অরিত্রী) অভিভাবককে ডাকতে বলায় উনি ডেকেছেন। এর বেশি কিছু তিনি জানেন না।
তবে রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি হেমায়েত হোসেন শুনানিতে বলেন, তিনি শিক্ষিকা নামের কলঙ্ক। তার জামিন নামঞ্জুর করা হোক। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম আবু সাইদ তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এর আগে বুধবার রাত ১১টার দিকে রাজধানীর উত্তরার একটি হোটেল থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ডিবি কার্যালয়ে নেয়া হয়।

এদিকে অরিত্রী অধিকারীর আত্মহত্যার ঘটনায় স্কুলের গভর্নিং বডির পদত্যাগসহ ছয় দফা দাবির অধিকাংশ পূরণ হওয়ায় আন্দোলন আপাতত স্থগিত করেছে ভিকারুননিসা শিক্ষার্থীরা। তিনদিনের টানা আন্দোলনের পর গতকাল বিকাল সাড়ে ৪টায় আন্দোলন স্থগিতের ঘোষণা দেয় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী আনুশকা রায়। এর আগে শিক্ষক এবং গভর্নিং বডির সঙ্গে বৈঠক করেন শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থী আনুশকা রায় জানায়, আমাদের দাবি প্রায় সবগুলো মেনে নেয়া হয়েছে। তবে আমাদের ছয় দফার মধ্যে ১ ও ৫ দফা তদন্তের বিষয় স্কুল কর্তৃপক্ষের হাতে নেই। এগুলো মন্ত্রণালয় ও সরকারের ব্যাপার, তদন্তের ব্যাপার। তবে ২, ৩, ৪ ও ৬ দফা স্কুল কর্তৃপক্ষ মেনে নিয়েছে। এজন্য সময় দিতে হবে। এই শিক্ষার্থী জানায়, আমরা আন্দোলন স্থগিত করেছি। কাল থেকে আমরা পরীক্ষায় অংশ নেবো। আমাদের কোনো  নির্দোষ শিক্ষক ও শিক্ষার্থী যাতে এই ঘটনায় হেনস্থা না হয় আমরা সেটা চাই। ঘটনার একটি সুষ্ঠু তদন্ত চাই। দোষীরা যাতে বিচারের মুখোমুখি হয়।

গভর্নিং বডির পদত্যাগের যে দাবি শিক্ষার্থীরা করছে এ বিষয়ে গোলাম আশরাফ বলেন, পদত্যাগের বিষয়টি আমরা গভর্নিং বডির সভায় তুলব। এটা সদস্যদের ব্যক্তিগত ব্যাপার, তারা পদত্যাগ করবেন কিনা। নিজের অবস্থানের বিষয়ে তিনি বলেন, নতুন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিয়োগের মাধ্যমে স্কুল ও কলেজকে স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরিয়ে নিতে দু-একদিনের মধ্যে গভর্নিং বডি সভা ডাকা হবে।

এদিকে গতকাল সকাল থেকেই তৃতীয় দিনের মতো সকাল থেকে অরিত্রী অধিকারীর আত্মহত্যার ঘটনায় স্কুলের গভর্নিং বডির পদত্যাগসহ ছয় দফা দাবিতে উত্তাল ছিল বেইলি রোর্ডের ভিকারুননিসার মূল ক্যাম্পাস। গত দুই দিনের মতো গতকালও বিভিন্ন স্লোগান লেখা পোস্টার-ফেস্টুন নিয়ে প্রতিবাদ দেখাতে থাকে শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা ছয় দফা দাবিতে বিক্ষোভ করে। দাবি যতক্ষণ পর্যন্ত না মানা হবে, ততক্ষণ আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন। এ সময় অধ্যক্ষকে দ্রুত আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানান শিক্ষার্থীরা। আজকের মধ্যে দাবি না মানা হলে পরীক্ষা বর্জনের কথাও বলেন এসব শিক্ষার্থী। অন্যদিকে স্কুলে এক সংবাদ সম্মেলনে গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান সৈয়দ আশরাফ তালুকদার বলেন, স্কুলের বৃহত্তর স্বার্থে গভর্নিং বডির পদ থেকে পদত্যাগ করতে আমি প্রস্তুত।

সব শিক্ষার্থীকে আন্দোলন বর্জন করে ক্লাসে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়ে এই ঘটনায় অরিত্রীর বাবা মায়ের কাছেও ক্ষমা চেয়েছেন তিনি। বেলা ৩টার দিকে স্কুলের শিক্ষকরা এসে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন প্রত্যাহার করতে বলেন। কিন্তু শিক্ষার্থীরা বলেন, দাবি না মানা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। পরবর্তীতে শিক্ষকদের সঙ্গে দাবি দাওয়া নিয়ে কথা বলতে সব শিক্ষার্থী স্কুলের ভেতরে প্রবেশ করেন। তবে কোনো অভিভাবককে তাদের সঙ্গে ভেতরে ঢুকতে দেয়া হয়নি। এর আগে শিক্ষার্থীদের একটি প্রতিনিধিদল ছয় দফা দাবির স্মারকলিপি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠান। দাবিগুলো হচ্ছে- অধ্যক্ষের পদত্যাগ এবং ৩০৫ ও ৩০৬ ধারায় আত্মহত্যার প্ররোচনার অপরাধে অধ্যক্ষের শাস্তি নিশ্চিত করা, প্রত্যেক শিক্ষার্থীর আচরণ ও চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের ওপর ভিত্তি করে মানসিক স্বাস্থ্যের বিবেচনা করে আলাদা যত্ন নিতে হবে।

কোনোভাবেই শারীরিক ও মানসিক চাপ এবং অত্যাচার করা যাবে না, কথায় কথায় বহিষ্কারের হুমকি দেয়া বন্ধ করে অন্যায় ডিটেনশন পলিসি বন্ধ করতে হবে, বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক ও কর্মরত সবার মানসিক সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে মানসিক পরামর্শদাতা থাকতে হবে। শৃঙ্খলাভঙ্গকারী শিক্ষার্থীকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিতে হবে, গভর্নিং বডির সবাইকে পদত্যাগ করতে হবে এবং অরিত্রীর মা-বাবার সঙ্গে দুর্ব্যবহারের জন্য অধ্যক্ষ ও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে। এ দাবির মধ্যে ১, ৫ ও ৬ নম্বর দাবি এখনই মেনে নিতে হবে এবং ২, ৩ ও ৪ নম্বর দাবি মেনে নেয়ার জন্য লিখিত দিতে হবে। তবেই শিক্ষার্থীরা তাদের আন্দোলন প্রত্যাহার করবে। আর না হলে আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। এদিকে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে গতকাল বিকালে জরুরি বৈঠকে বসেন শিক্ষকরা। বেইলি রোডের এ বৈঠকে আজিমপুর, বসুন্ধরা ও ধানমন্ডি শাখার দুই শতাধিক শিক্ষক বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। সেখানে আটক শিক্ষকের মুক্তি ও নতুন কাউকে গ্রেপ্তার না করার বিষয়ে আলোচনা হয়।

গত সোমবার শান্তিনগরের বাসায় আত্মহত্যা করে ভিকারুননিসা নূন স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্রী অরিত্রী অধিকারী। এ ঘটনায় কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ, শাখাপ্রধান ও এক শ্রেণিশিক্ষককে আসামি করে মামলা হয়। এরপর গত বুধবার রাত ১১টার দিকে উত্তরা এলাকা থেকে অরিত্রীর শ্রেণিশিক্ষক হাসনা হেনাকে গ্রেপ্তার করা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ভিকারুননিসার বরখাস্ত ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নাজনীন ফেরদৌস, শাখাপ্রধান জিনাত আখতারকে গ্রেপ্তার করা হতে পারে। বৃহস্পতিবারের মধ্যে তারা আদালতে আত্মসমর্পণ না করলে আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী গ্রেপ্তার করা হবে। অরিত্রীর মৃত্যুর পর দ্রুত তৎপর হয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। পরে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশের পর স্কুলের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষসহ তিন শিক্ষককে বরখাস্ত করে গবর্নিং বডি। এ ছাড়াও এসব শিক্ষকের এমপিও স্থগিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে মাউশিকে চিঠি দেয়া হয়। পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
পাঠকের মতামত
**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।
Md. Shahiduzzaman
৭ ডিসেম্বর ২০১৮, শুক্রবার, ৮:২৫

শিক্ষিকাকে কেন কারাগারে পাঠানো হলো বুঝতে পারলাম না। নকল ধরার অপরাধে ? এখন আত্মহত্যার ভয়ে নকল ধরা যাবে না এটাই প্রমাণিত হলো।

অন্যান্য খবর