× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ২৫ জুন ২০১৯, মঙ্গলবার

সুনামগঞ্জের ৫টি আসনে দ্বন্দ্ব বিরোধ কাটাতে মরিয়া প্রার্থীরা

এক্সক্লুসিভ

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি | ২৩ ডিসেম্বর ২০১৮, রবিবার, ৯:০০

সুনামগঞ্জের ৫টি নির্বাচনী আসনে বড় দুই জোটের নেতাদের মধ্যে মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব আর বিরোধ রয়েছে দীর্ঘদিনের। একাদশ জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে দুই জোটের একাধিক প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাশী থাকায় এ বিরোধ ছিল তুঙ্গে। নির্বাচনের শেষ মুহূর্তে এসে দুই জোটের প্রার্থীরা নিজ দলের দ্বন্দ্ব আর বিরোধ কাটাতে আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছেন। ম্যানেজ করছেন দলের মধ্যে থাকা বিরোধীদের। জেলার ৫টি আসনের বেশ কয়েকটিতে ইতিমধ্যে বিরোধ ভুলে নির্বাচনী মাঠে নেমেছেন অনেক নেতা। আবার কোথাও কোথাও এ দ্বন্দ্ব বিরোধ রয়ে গেছে। সুনামগঞ্জ-১ (জামালগঞ্জ-ধর্মপাশা-তাহিরপুর) আসনে আওয়ামী লীগের মধ্যে ছিল সবচেয়ে বেশি দ্বন্দ্ব। একাধিক নেতা সরকার দলীয় প্রার্থী মোয়াজ্জেম হোসেন রতনের বিরুদ্ধে ছিলেন।
শেষ মুহূর্তে এসে দ্বন্দ্ব-বিরোধ ভুলে নৌকার পক্ষে প্রচারণায় নেমেছেন বিরুদ্ধে থাকা নেতারা। এ আসনে অনেক আওয়ামী লীগ নেতাকে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ করতে দেখা যায়নি। এ আসনে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী বিএনপি নেতা নজির হোসেন। ভেদাভেদ ভুলে সাবেক এই সংসদ সদস্যের পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করছেন দলীয় নেতাকর্মীরা। তাহিরপুর উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুজ্জামান কামরুল জানান, নির্বাচনী মনোনয়নের জন্য এ আসনে বিএনপির একাধিক প্রার্থী প্রচারণায় ছিলেন। দলীয়ভাবে নজির হোসেনকে প্রার্থী দেয়ায় আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করছি।
সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই-শাল্লা) আসনের আওয়ামী লীগ প্রার্থী ড. জয়া সেনগুপ্তার পক্ষে মনোনয়ন বঞ্চিত সকলেই নেমেছেন। মনোনয়ন বঞ্চিত দলীয় নেতা অ্যাডভোকেট শামছুল ইসলাম শুক্রবার দিরাই উপজেলার শেষ সীমানা আকিল শাহ বাজারে জয়া সেনের সভামঞ্চে বক্তব্য দিয়েছেন। বিক্ষুব্ধ মনোনয়ন বঞ্চিত দলীয় নেতা অবনী মোহন দাসও জয়ার সঙ্গেই গণসংযোগে থাকবেন বলে দলীয় নেতাকর্মীদের জানিয়ে দিয়েছেন। এ আসনেও অনেক নেতা দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজে নামেন। সুনামগঞ্জ-৩ (জগন্নাথপুর-দক্ষিণ সুনামগঞ্জ) আসনে আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থী এমএ মান্নানের প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন আজিজুস সামাদ ডন। বিগত দশম জাতীয় নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেন ডন। এ বছর মনোনয়নের জন্য প্রচারণাও চালান ডন। শেষ পর্যন্ত মনোনয়ন পাননি। তবে তার অনুসারীরা দলীয় প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণায় নেমেছেন। সুনামগঞ্জ-৪ (সদর-বিশ্বম্ভরপুর) আসনে মহাজোটের পক্ষে জেলা জাতীয় পার্টির আহবায়ক বর্তমান সংসদ সদস্য পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ নির্বাচন করছেন। এখানে মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন সাবেক সংসদ সদস্য জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি মতিউর রহমান। প্রথম দিকে নির্বাচনী প্রচারণায় না থাকলেও গত বুধ ও বৃহস্পতিবার সুনামগঞ্জ শহরে এবং মঙ্গলকাটায় মহাজোটের প্রার্থীর পক্ষে সভায় বক্তব্য দিয়েছেন মতিউর রহমান।
বিএনপি প্রার্থী ফজলুল হক আছপিয়ার পক্ষে বৃহস্পতিবার শহরতলীর বেতগঞ্জ বাজারে সভায় বক্তব্য দিয়েছেন দলীয় মনোনয়ন বঞ্চিত সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদের চারবারের চেয়ারম্যান দেওয়ান জয়নুল জাকেরিন। দলের বিক্ষুব্ধ নেতা বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হারুনও দলীয় প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণায় নেমেছেন।
সুনামগঞ্জ-৫ (ছাতক-দোয়ারাবাজার) আসনে আওয়ামী লীগের চির প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন মানিক-কালাম। আওয়ামী লীগ প্রার্থী মুহিবুর রহমান মানিক ও আবুল কালাম চৌধুরী শুক্রবার একসঙ্গে সভা করেছেন। ছাতক সরকারি বহুমুখী মডেল হাইস্কুল মাঠের সভায় জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মতিউর রহমান সভাপতিত্ব করেন। সভায় মুহিবুর রহমান মানিক ছাড়াও আবুল কালাম চৌধুরীর ভাই শামীম চৌধুরী বক্তব্য দেন। এ আসনে মনোনয়ন বঞ্চিত জেলা বিএনপির সভাপতি কলিম উদ্দিন মিলনও দলীয় প্রার্থী মিজানুর রহমান চৌধুরীর পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় নেমেছেন।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর