× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ১৯ জুন ২০১৯, বুধবার
চট্টগ্রাম-২

আবারো কাণ্ডারি হতে চান ভাণ্ডারী, সন্ত্রাসমুক্ত করতে চান বাহার

এক্সক্লুসিভ

স্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রাম থেকে | ২৩ ডিসেম্বর ২০১৮, রবিবার, ৯:০০

দম ফেলার ফুরসত নেই নৌকার প্রার্থী সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারীর। নির্বাচনের দিন যত এগুচ্ছে তার ব্যস্ততাও বাড়ছে। প্রতিদিন ফটিকছড়ির মাঠ-ঘাট চষে বেড়াচ্ছেন তিনি। সকালে দলবল নিয়ে প্রচারণায় বের হয়ে রাতে বাসায় ফিরছেন। আশা করছেন আবারও ফটিকছড়ির কাণ্ডারি হবেন তিনি।
অপরদিকে জয়লাভ করে ফটিকছড়িকে সন্ত্রাসমুক্ত করতে চান ধানের শীষের প্রার্থী কর্নেল (অব.) আজিম উল্লাহ বাহার। তিনিও বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে দিন-রাত মাঠ-ঘাট চষে বেড়াচ্ছেন ফটিকছড়ির। ভোট চেয়ে ঘুরছেন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে।
আজিম উল্লাহ বাহার বলেন, ভোটাররা ভোটকেন্দ্রে যেতে পারলে ধানের শীষ প্রতীকের জয় ঠেকানো যাবে না। জয় নিশ্চিত করতে আমরা ভোটের দিন ভোট গণনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত কেন্দ্র পাহারা দেব। শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে বিপুলসংখ্যক দলীয় নেতাকর্মী নিয়ে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ করেন তিনি। এ সময় কারাবন্দি বিএনপি’র চেয়ারপারসন বেগম খলেদা জিয়াকে মুক্ত করতে ভোটারদের কাছে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট চান বাহার। ভোটারদের কাছে বিএনপি সরকারের নানা সাফল্য ও মহাজোট সরকারের নানা দুর্নীতির কথাও তুলে ধরেন তিনি। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ভোট কেন্দ্রগুলোাতে বাধা তৈরি করবে। কিন্তু মানুষ আওয়ামী দুঃশাসনের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছে। বিক্ষুব্ধ জনগণকে কেউ রুখতে পারেব না। আমরা কৌশল নিয়ে এগোচ্ছি। আসন্ন নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে আমরা শতভাগ আশাবাদী।
তিনি আরও বলেন, এলাকার উন্নয়নের জন্য, জনগণের জন্য কাজ করা এবং রাজনীতি করা কি অন্যায়? যদি তা না হয়, পুলিশ কেন বার বার বিএনপি’র নেতাকর্মীদের ওপর অন্যায়ভাবে আক্রমণ করছে? হামলা-মামলা কিংবা গ্রেপ্তার করে বিএনপি নেতাকর্মীদের মনোবল ভেঙে ফেলা যাবে না। পুলিশ যত নির্যাতন করবে ততই চাঙা হবে বিএনপি নেতাকর্মীরা।
বিকালে তিনি গণসংযোগ করেন কাঞ্চননগর এলাকায়। এ সময় ভোটারদের কাছে নানা প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি। নির্বাচিত হলে এলাকাকে সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত করব। অবহেলিত ফটিকছড়ির যোগাযোগ ও শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে ভূমিকা রাখব।
একইভাবে গণসংযোগকালে নজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারী বলেন, দেশের উন্নয়নে নৌকায় ভোট দেবে জনগণ। জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাকে মনোনয়ন দিয়েছেন। এতে হয়তো কেউ দুঃখ পেয়েছেন। ভেদাভেদ ভুলে আসুন সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে নৌকাকে জয়ী করি। আশা করি, ভোটারদের ভালোবাসায় নৌকার জয় হবেই।
তিনি বলেন, নৌকা জয়ী না হলে দেশের উন্নয়ন থেমে যাবে। দেশব্যাপী উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের যে জোয়ার তা ষড়যন্ত্রকারীদের দ্বারা আক্রান্ত হবে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে উন্নত রাষ্ট্র হওয়ার স্বপ্ন ধূলিসাৎ হবে।
গণসংযোগে প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, নৌকা জয়ী হলে ফটিকছড়িকে ইকোনমিক জোন হিসেবে গড়ে তোলা হবে। এজন্য কিছু মেগা প্রকল্প ইতিমধ্যে হাতে নেয়া হয়েছে। নৌকা জয়ী হলে শেখ হাসিনা আবার প্রধানমন্ত্রী হবেন। তিনি প্রধানমন্ত্রী হলে দেশ বাঁচবে।
তিনি বলেন, বিগত পাঁচবছরে ফটিকছড়িতে দুই হাজার ৩০০ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ করেছি। এখনও কিছু উন্নয়ন প্রকল্প চলমান আছে। আবার নির্বাচিত হলে ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ করবেন। ফটিকছড়িসহ আরও দু’টি উপজেলা করার উদ্যোগ নেবেন। এগুলো হলো- ভুজপুর ও মাইজভাণ্ডার উপজেলা। এছাড়া মাইজভাণ্ডার নামে একটি নতুন থানা করা হবে বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, আশি-নব্বই দশকের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত ফটিকছড়ি সন্ত্রাসের জনপদ ছিল। ফটিকছড়ির মানুষ জামায়াত-শিবিরের ২০-২২ ক্যাডার বাহিনীর হাতে জিম্মি ছিল। এ জনপদে অনেক রক্ত ঝরিয়েছে তারা। প্রথম দফায় শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসার পর ফটিকছড়িতে রক্তের হোলিখেলা বন্ধ হয়।
তিনি বলেন, স্থানীয় আওয়ামী লীগে কোনো বিভক্তি নেই। স্থানীয় কিছু নেতা ও মন্ত্রী এতে উস্কানি দিচ্ছেন। নৌকাকে জয়ী করতে সকল ভেদাভেদ ভুলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানান তিনি।
উপজেলা যুবলীগের কর্মী আলী হোসেন বলেন, ভাণ্ডারীই হবে আমাদের কাণ্ডারি। জননেত্রী শেখ হাসিনা তাঁকে নৌকা প্রতীক দিয়েছেন। ভাণ্ডারীকে জেতানো মানে শেখ হাসিনাকে জেতানো। আমরা ঐক্যবদ্ধ। এ সময় তারা মহাজোট সরকারের নানা উন্নয়ন ফিরিস্তি তুলে ধরেন।
বিবিরহাট বাজারের বাসিন্দা রহমান আলী বলেন, কোনো বিভেদ চাই না। কলাগাছকেও যদি নৌকা প্রতীক দেয়া হয় আমরা তাকেই ভোট দেবো।
কেমন এমপি চান জানতে চাইলে রাঙ্গামাটি এলাকার বাসিন্দা আবুল কালাম বলেন, বিএনপি’র প্রার্থী আজিম উল্লাহ বাহার ক্লিন ইমেজের মানুষ। সুষ্ঠু ভোট হলে এ আসনে তার জেতার সম্ভাবনা বেশি। জনগণ পরিবর্তনের আশায়।
একই এলাকার বাসিন্দা ইলিয়াছ হোসেন বলেন, নির্বাচন এলে ভোট তো দিই। তবে নির্বাচনের সময় যেভাবে প্রার্থীরা আন্তরিকতা নিয়ে ভোট চাইতে আসেন, সেভাবে যদি নির্বাচনের পরে আমাদের সুখ-দুঃখ দেখতে আসতেন তাহলে আমাদের মনে কোনো দুঃখ থাকতো না।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর