× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ২২ মার্চ ২০১৯, শুক্রবার

পটুয়াখালীর ৪টি আসনে সরব প্রচারণায় আওয়ামী লীগ, নীরবে বিএনপি

এক্সক্লুসিভ

পটুয়াখালী প্রতিনিধি | ২৩ ডিসেম্বর ২০১৮, রবিবার, ৯:০৫

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণায় সরগরম হয়ে উঠেছে গোটা পটুয়াখালী। প্রতীক বরাদ্দের পর পরই সব দলের প্রার্থীরা প্রচার-প্রচারণায় মাঠে নেমেছেন। বহুল প্রতীক্ষিত এ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে উৎসবে পরিণত হয়েছে শহর থেকে শুরু করে গ্রামীণ মেঠোপথ। গ্রামবাংলার জনপদে ভোট উৎসবের উচ্ছ্বাস। প্রধান দুইটি রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির প্রতীক নৌকা ও ধানের শীষের প্রচারণায় মুখর অলিগলি। নির্বাচনের আর মাত্র ৭ দিন বাকি। তবে, কোথাও কোথাও সংঘর্ষের ঘটনায় আতঙ্কও রয়েছে ভোটারদের মধ্যে। দুপুর গড়াতেই নির্বাচনী এলাকার পাড়া-মহল্লায় চলে মাইকিং।
ভোট চেয়ে মাইকিংয়ের ফাঁকে ফাঁকে আবেগময়ী কণ্ঠের গানে সাধারণ ভোটারদের মন জয়ের চেষ্টা চলছে প্রার্থীদের পক্ষে।

চলছে উঠান বৈঠক ও আলোচনা সভা। ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন প্রার্থী ও প্রার্থীর সমর্থকরা। দিচ্ছেন নানা উন্নয়ন ও কল্যাণের প্রতিশ্রুতি। চায়ের দোকানগুলোতে চলছে জোর আলোচনা-সমালোচনা। নির্বাচনী মাঠে ঘুরপাক খাচ্ছেন সব দলের নেতাকর্মীরা। বিভেদ ভুলে সব দলের কর্মীদের প্রচারণায় ভোটের মাঠ এখন সরগরম। প্রার্থীরা এলাকায় জানান দিতে চালাচ্ছেন শোডাউন। দলীয় নেতাকর্মীরা রাস্তার অলিগলিতে পোস্টার সাঁটিয়েছেন।  পোস্টার আর ফেস্টুনে ছেঁয়ে গেছে পুরো এলাকা।

পটুয়াখালী-১: এ আসনে মূলত আওয়ামী লীগ আর বিএনপির মধ্যে লড়াই হবে। এ আসনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি দুটি দল ছাড়াও তৃতীয় স্থানে রয়েছে ইসলামী আন্দোলনের হতপাখার প্রচারণা। এ ছাড়া রয়েছে কমিউনিস্ট পার্টি, ইসলামী ঐক্য ও এনপিপি প্রার্থী। তাদেরও চলছে প্রচার প্রচারণা। এ আসনে বিএনপির নেতাকর্মীরা গ্রেপ্তার আতঙ্কে। বিএনপির চলছে নীরব প্রচারণা।  

এ আসনে আওয়ামী লীগ তথা মহাজোটের নৌকার প্রার্থী সাবেক ধর্মপ্রতিমন্ত্রী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. শাহজাহান মিয়া সকাল থেকে রাত অবধি প্রচার প্রচারণায় ব্যস্ত থাকছেন। ইতিমধ্যে সব ইউনিয়নে উঠান বৈঠকে মিলিত হয়ে সাধারণ মানুষের কাছে নৌকার সমর্থন আদায়ে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। উঠান বৈঠক ছাড়াও তিনি গণসংযোগ করছেন প্রতিদিন। এসব কর্মসূচিতে বর্তমান সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের চিত্র তুলে ধরছেন। পাশাপাশি নিজের ক্ষমতার আমলেরও জেলার সার্বিক উন্নয়নচিত্র জনগণের সামনে উপস্থাপন করছেন।

পাশাপাশি বিএনপি তথা ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে লড়াই করছেন কেন্দ্রীয় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও জেলা বিএনপির সভাপতি এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী। প্রতীক বরাদ্দের দিন সন্ধ্যায় গণসংযোগ শুরু করলেও নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতার কারণে এখনো জমিয়ে তুলতে পারেন নি প্রচার প্রচারণা। বেশ কয়েকটি উঠান বৈঠকের মিলিত হবার চেষ্টা করেও যোগ দিতে পারেন নি। তার ওপর রয়েছে নিজ দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল। জেলা বিএনপির সাবেক এক গ্রুপের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ এখনো তার সঙ্গে প্রচার প্রচারণায় নামতে দেখা যায়নি। এ আসনে নৌকার সঙ্গে ধানের শীষের লড়াই হবে হাড্ডাহাড্ডি।

 পটুয়াখালী-২: বাউফল উপজেলা নিয়ে আসনটি মূলত আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। দীর্ঘদিন পর বিএনপি এখানে আঘাত হানতে চায়। এজন্য বিএনপি তথা ঐক্যজোট সম্মিলিতভাবে মরণ কামড় দিতে প্রস্তুত। এখানে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ আ.স.ম ফিরোজ ছয়বার এমপি নির্বাচিত হয়ে এলাকায় নিজস্ব একটা বলয় তৈরি করেছেন।

তারপরেও আ.স.ম ফিরোজ বসে নেই। দিনরাত সমানতালে গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রতিটি ইউনিয়নে উঠান বৈঠকে মিলিত হচ্ছেন। মানুষের কাছে ছুটছেন। নৌকার পক্ষে ভোট চাচ্ছেন। এ আসনে বিএনপি তথা ঐক্যজোটের প্রার্থী হিসেবে বিএনপির সাবেক এমপি শহীদুল আলম তালুকদারের স্ত্রী সালমা আলম তালুকদার ধানের শীষ নিয়ে লড়ছেন। জেলার চারটি আসনের মধ্যে একমাত্র বাউফলেই বিএনপি কিছুটা শক্তিশালীভাবে গণসংযোগ চালাচ্ছেন। পথসভা থেকে শুরু করে ঘরে ঘরে মা বোনদের মন জয় করার চেষ্টা করছেন। সবমিলিয়ে এখানে বিএনপি আর আওয়ামী লীগের লড়াই হবে। এ আসনে শহিদুল আলম তালুকদার নিজে প্রার্থী থাকলে লড়াইটা হতো হাড্ডাহাড্ডি।  

পটুয়াখালী-৩: গলাচিপা-দশমিনা নিয়ে আসনে এবার নতুন মুখ আর নতুন চমক বিরাজ করছে। একদিকে প্রবীণ এক রাজনীতি ব্যক্তিত্বকে সটকে দিয়ে আওয়ামী লীগের এ আসনটিতে বসলেন প্রধান নির্বাচন কমিশনারের ভাগ্নে এসএম শাহজাদা সাজু। আর অন্যদিকে, তার প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে ধানের শীষ নিয়ে লড়ছেন নৌকার সাবেক এক মাঝি ও আলোচিত সংসদ সদস্য গোলাম মওলা রনি। অবশ্য তিনিও বিএনপির এ আসনটিতে অতিথি পাখির মতো দখল করেছেন। তবে, এ আসনটির বিএনপির বিভাজন মিটিয়ে নির্বাচনী প্রচারণায় মাঠে নামতে পারেনি তিনি। তবে, সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আলোচিত সাবেক এ সংসদ সদস্য রনি বলেন, নির্বাচনের মাঠে লড়াই করতে তিনি এ আসনে পদার্পণ করছেন। নির্বাচনী মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সঙ্গে কাদা ছোরাছুরি করে নয়, একজন নির্বাচন কুশলী হয়ে ভোটারদের মন জয় করে আগামী বিজয়ের প্রতীক ছিনিয়ে নেয়াটাই তার লক্ষ্য বলে জানান সাংবাদিকদের।

এদিকে, নৌকার প্রতীক নিয়ে এসএম শাহাজাদা সাজু মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। রাজনীতির মাঠে তার নতুন বিচরণ হলেও তিনি নিজেকে একজন দক্ষ ও পরিশ্রমী সমাজ সেবক দাবি করে সাংবাদিকদের বলেন, সিইসি আমার মামা হলেও আমার বংশের কেউ নয়। তিনি সর্ম্পকে মামা এটাই আমার আশঙ্কা। কারন তার সুনাম অক্ষুণ্ন রেখে আমার পথ চলতে হচ্ছে। তবে, আমার যোগ্যতায় নৌকা প্রতীক নিয়ে এ রণাঙ্গনে এসেছি। আগামী ৩০শে ডিসেম্বর ভোটের মাধ্যমে আমার যোগ্যতার প্রমাণ হবে। তবে,  গোলাম মওলা রনি ধানের শীষ নিয়ে রাজনীতির মাঠ ছেড়ে দেয়ার পাত্র নন।

পটুয়াখালী-৪: কলাপাড়া-রাঙ্গাবালী নিয়ে আসনে আওয়ামী লীগের নতুন মুখের সঙ্গে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে ধানের শীষের পুরনো প্রার্থীর। প্রতীক বরাদ্দের আগেই ধানের শীষের প্রার্থী কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা সাবেক ছাত্রদল নেতা এবিএম মোশাররফ হোসেন বড় ধরনের শোডাউন দেখিয়ে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে। দীর্ঘ প্রায় ১০ বছর পর বিএনপির পক্ষ থেকে এত বড় শোডাউন কেউ কখনো দেখেনি। এরপর ধীরে ধীরে গণসংযোগ শুরু করলে রাঙ্গাবালী উপজেলার খালগোড়া এলাকায় আওয়ামী লীগ-বিএনপি মুখোমুখি সংঘর্ষে লিপ্ত হয়।

এতে উভয়দলের কমবেশি অন্তত ৫০ জন নেতাকর্মী আহত হয়। এর মধ্যে উপজেলা বিএনপি সভাপতি ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকও রয়েছেন। এ ঘটনায় বিএনপির ৪৫ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে থানায় মামলার পর ২০ নেতাকর্মীকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। বিএনপির প্রার্থী এবিএম মোশাররফ হোসেন সাংবাদিকদের জানান, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা পরিকল্পিতভাবে তাদের হয়রানি করছে, হুমকি দিচ্ছে। যদিও নৌকার প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য সাবেক ছাত্র নেতা মুহিববুর রহমান মুহিব এসব অভিযোগ অস্বীকার করে উল্টো বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কথা বলছেন।

পাশাপাশি বর্তমান সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের চিত্র সাধারণ ভোটারদের মধ্যে প্রচার করে নৌকার পক্ষে ভোট প্রার্থনা করছেন এবং নৌকার জয়ের ব্যাপারে তিনি শতভাগ আশাবাদী। কারণ কলাপাড়া ও কুয়াকাটায় যে উন্নয়ন হয়েছে তা নজির বিহীন। এ অঞ্চলের মানুষ যা কোনোদিন আশা করেনি, তার চেয়ে হাজার হাজার গুণ বেশি উন্নয়ন হয়েছে। এ কারণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভালোবেসেই নৌকায় ভোট দেবে সাধারণ ভোটাররা।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর