× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ২২ মার্চ ২০১৯, শুক্রবার

১০ নির্দেশনাসহ এজেন্টদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে বিএনপি

এক্সক্লুসিভ

কাফি কামাল | ২৩ ডিসেম্বর ২০১৮, রবিবার, ৯:৩৮

পোলিং এজেন্ট নির্বাচন করে তাদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে বিএনপি। প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দের পর কেটে গেছে ১২ দিন। কিন্তু হামলা-মামলা ও গ্রেপ্তার-হয়রানির কারণে পুরোদমে প্রচারণায় নামতে পারেনি ধানের শীষের প্রার্থীরা। এমন পরিস্থিতিতে কেন্দ্রভিত্তিক পোলিং এজেন্ট নির্বাচন ও তাদের প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নিয়েছে বিএনপি। এক্ষেত্রে প্রাধান্য দেয়া হচ্ছে- স্থানীয় পর্যায়ে সাহসী, জনপ্রিয়, সবার কাছে গ্রহণযোগ্য ও প্রভাবশালী বিএনপি সমর্থক এবং দলের ত্যাগী ও বিশ্বস্ত তৃণমূল নেতাকর্মীদের। যারা প্রতিকূল পরিবেশেও কেন্দ্রে অবস্থান করে দায়িত্ব পালন করতে সক্ষম হবেন। ভোট জালিয়াতি, হামলা ও কেন্দ্র দখলসহ যেকোনো পরিস্থিতি সাহসের সঙ্গে মোকাবিলা করতে পারবেন।

পাশাপাশি পোলিং এজেন্ট হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হচ্ছে মহাজোট সরকারের আমলে খুন ও গুমের শিকার বিএনপি নেতাকর্মীদের স্বজনদের।
এজন্য প্রতিটি কেন্দ্রে দুই সেট করে পোলিং এজেন্টকে ভোট জালিয়াতির ৮টি উপায় চিহ্নিত ও তা প্রতিরোধে ১০ দফা নির্দেশনাসহ প্রশিক্ষণ দিচ্ছে বিএনপি। ভুয়া পুলিশ ও ভুয়া ভোটার, গণনা ও ফল ঘোষণা সম্পর্কে সচেতন করা হচ্ছে প্রশিক্ষণে। এজেন্টদের ক্ষমতা ও দায়িত্ব সম্পর্কে করা হচ্ছে সচেতন। ইতিমধ্যে প্রশিক্ষণ পাওয়া এজেন্ট ও দলটির সংশ্লিষ্ট নেতারা এ তথ্য জানিয়েছেন।

যেসব উপায়ে ভোট জালিয়াতি করা হতে পারে তা সম্পর্কে সচেতন থাকতে এজেন্টদের চিহ্নিত করে দেয়া হয়েছে ৮টি উপায়। সেগুলো হচ্ছে- নির্বাচনের আগে কেন্দ্রপ্রতি প্রয়োজনের ৩০ ভাগ অতিরিক্ত ব্যালট পেপার সরবরাহ ও অতিরিক্ত ব্যালট পেপারে নির্বাচনের আগের রাতে নৌকা মার্কায় সিল মেরে রাখতে পারে। নির্বাচনের আগের রাতে আইনশৃঙ্খলার অবস্থা পর্যবেক্ষণের দোহাই দিয়ে পুলিশ ও আওয়ামী এজেন্টরা এ কাজটি করবে। নির্বাচনের দিন আগেই সিলকৃত ব্যালট পেপার সুবিধাজনক সময়ে ব্যালট বাক্সে ঢুকিয়ে রাখতে পারে। কেন্দ্রে ভোটারদের লাইনে কৃত্রিম উপায়ে অস্বাভাবিক লাইন তৈরি করে রাখতে পারে। এভাবে ভোটগ্রহণ ধীরগতিতে হবে। কেন্দ্রের বাইরে সেনাবাহিনী ও বিজিবির টহল জোরদার করে বাইরের পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রাখবে। ভোট কেন্দ্রের বাইরে আগে থেকেই ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করে ভোটারদের ভোট কেন্দ্রে আসতে নিরুৎসাহিত করবে। নির্দেশনায় বলা হয়, আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের গুণ্ডাবাহিনীকে পুলিশের পোশাক পরিয়ে কেন্দ্রের ভেতরে ও বাইরে পাহারায় বসাবে। এই ভুয়া পুলিশ প্রয়োজনে সুবিধাজনক সময়ে ভোট কেন্দ্রে প্রবেশ করে সিল মারবে। এ ছাড়া ভুয়া পুলিশের পাহারায় কেন্দ্রে আওয়ামী লীগের গুণ্ডাদের ভুয়া ভোটার বানিয়ে একটি নির্দিষ্ট সময় অন্তর অন্তর ভোট কেন্দ্রে প্রবেশ করিয়ে ভুয়া ভোট দেবে। ভোট গণনা ও ফলাফল ঘোষণায় জালিয়াতের উপায়গুলো চিহ্নিত করে বলা হয়েছে, ভোট গণনার আগেই কেন্দ্রে উপস্থিত পোলিং এজেন্টদের ভয়-ভীতি দেখিয়ে ব্ল্যাংক ফলাফল শিটে প্রিজাইডিং অফিসার স্বাক্ষর নিয়ে নেবে।

পরবর্তীতে প্রকৃত ভোট যাই হোক না কেন্দ্র তাদের সুবিধামতো সংখ্যা পূর্বস্বাক্ষরিত শিটে বসিয়ে রেজাল্টশিট রিটার্নিং অফিসারের দপ্তরে পাঠানো হবে। কোনোভাবেই কোনো ফলাফল ভোট কেন্দ্র থেকে ঘোষণা দেয়া হবে না। প্রকৃত ফলাফল যাই হোক না কেন, আওয়ামী লীগকে বিজয়ী দেখিয়ে প্রিজাইডিং অফিসার কর্তৃক প্রস্তুতকৃত ফেব্রিকেটেড রেজাল্ট শিটের মাধ্যমে রিটার্নিং অফিসার ফল ঘোষণা করে দেবেন। তবে এতেও সম্ভাবনা থাকলে সরকার নিয়ন্ত্রিত বিটিভির মাধ্যমে মিডিয়া ক্যু করে কেন্দ্রীয়ভাবে ফলাফল ঘোষণা করা হবে।

ভোট জালিয়াতি প্রতিরোধে এজেন্টদের করণীয় সম্পর্কে ১০টি নির্দেশনা দিয়েছে বিএনপি। করণীয়গুলো হচ্ছে- ভোট কেন্দ্রের আশেপাশের জনপ্রিয় ও সাহসী ব্যক্তিকে পোলিং এজেন্ট নির্বাচন করতে হবে। যাতে কোনো অবস্থাতেই শত প্রতিরোধেও শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রে অবস্থান করতে পারে। পোলিং এজেন্টদের জাল ভোট শনাক্তকরণে অত্যাধিক সক্রিয় হতে হবে। জালভোট শনাক্ত করার সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত বাহিনীকে অবগত করতে হবে। পোলিং এজেন্টরা ভোট কেন্দ্রের সামগ্রিক পরিবেশ পর্যবেক্ষণ করবে। কোনো ধরনের অসংগতি বা জাল ভোট শনাক্ত করার সঙ্গে সঙ্গে কার্যকর ব্যবস্থা- নির্বাচনী পর্যবেক্ষক, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, স্ট্রাইকিং ফোর্স, নিজ দলের প্রার্থী, সম্ভব হলে কেন্দ্রের বাইরে অবস্থিত নিজ দলের ক্যাম্পে যেকোনো উপায়ে বার্তা পাঠাতে হবে। কেন্দ্রের মোট ভোটার সংখ্যা, ভোটের শুরুতে মোট প্রাপ্ত ব্যালট পেপারের সংখ্যা, এক ঘণ্টা অন্তর অন্তর ভোট কাস্টিং সংখ্যা রেকর্ড, ভোট শেষে অব্যবহৃত ব্যালটের সংখ্যার রেকর্ড, কেন্দ্রে আগত পর্যবেক্ষকদের তালিকা ও কেন্দ্রের অভ্যন্তরে ঘটে যাওয়া ঘটনাপঞ্জির রেকর্ড রাখতে হবে। এজেন্টদের জাল ভোট শনাক্ত করে তার সংখ্যা, ভোট গণনাকালীন প্রাপ্ত ভোটের হিসাব, চূড়ান্তভাবে গণনার পরের হিসাব, প্রাপ্ত ভোট যাচাইয়ের শিট রাখতে হবে।  

ভোট গ্রহণের আগে বুথে প্রাপ্ত প্রকৃত ব্যালট পেপার প্রিজাইডিং অফিসারের কাছ থেকে যাচাই করে রেকর্ড রাখার পাশাপাশি প্রিজাইডিং অফিসারের পূরণকৃত ফরমে স্বাক্ষর দিতে হবে। কোনোভাবেই কোনোরূপ ব্ল্যাংক পেপারে স্বাক্ষর দেয়া চলবে না। নির্বাচন শুরুর আগে বুথে সরবরাহকৃত মোট ব্যালট পেপারের সংখ্যা প্রিজাইডিং অফিসারের কাছ থেকে পরীক্ষা করে বুঝে শিটে লিপিবদ্ধ করে রাখতে হবে। প্রতিটি ব্যালট বই শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পোলিং অফিসারের কাছ থেকে বুঝে শিটে ব্যালটের ক্রমিক নং সহ লিখে রাখতে হবে। ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পরপরই ব্যবহৃত ও অব্যবহৃত ব্যালটের সংখ্যা যাচাই করে শিটে লিখে রাখতে হবে।

ভোট শুরুর আগে পোলিং এজেন্ট কর্তৃক বুথে আনা ব্যালট বাক্স পরীক্ষা করে তা খালি কিনা নিশ্চিত হয়ে পোলিং এজেন্টের সামনে সিল করা নিশ্চিত করতে হবে। প্রয়োজনে পোলিং অফিসারকে প্রতিটি ব্যালট বাক্সে একটি সাংস্কৃতিক চিহ্ন দিয়ে রাখতে বাধ্য করতে হবে। পোলিং বুথে প্রকৃত ভোটারের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে। বুথে প্রবেশকৃত সকল ভোটারকে তীক্ষ্ম দৃষ্টিতে পর্যবেক্ষণ করে জাল ভোট দেয়া প্রতিরোধ করতে হবে। বুথে উদ্দেশ্যমূলকভাবে অযথা ভিড় করলে সঙ্গে সঙ্গে তা পোলিং এজেন্টসহ ডিউটিরত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানাতে হবে। প্রযোজ্য ক্ষেত্রে নিজ দলীয় প্রার্থী বা তার এজেন্টকে বিষয়টি দ্রুত অবহিত করতে হবে। ভোট গণনার হিসেব রাখার জন্য আগে থেকে শিট প্রস্তুত রাখতে হবে। নির্বাচন কমিশন কর্তৃক সরবরাহকৃত ভোট গণনাশিটটি পর্যবেক্ষণ করে প্রকৃত ভোটের সংখ্যা নিশ্চিত হয়ে স্বাক্ষর করতে হবে। কোনোভাবেই ব্ল্যাংক শিটে স্বাক্ষর করা যাবে না। ভোট গণনার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত গণনাস্থলে নিজে সশরীরে উপস্থিত থাকতে হবে। কোনোরকম চাপে ভোট গণনা ব্যতিরেকে ভোট কেন্দ্র ত্যাগ করা যাবে না। ভোট গণনাকৃত শিটটির একটি কপি করে (সম্ভব হলে) গোপন স্থানে সংরক্ষণ করা যেতে পারে।

ভোট কেন্দ্রে পোলিং এজেন্টদের প্রতিবাদের উপায় বাতলে দিয়ে নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ভোট কেন্দ্রে কোনোরূপ অনিয়ম বা অন্যায় বা পোলিং তথা নির্বাচনী কর্মকর্তার পক্ষপাতিত্ব পরিলক্ষিত হলে তা সঙ্গে সঙ্গে প্রিজাইডিং অফিসারকে অবগত করতে হবে। একই সঙ্গে কর্তব্যরত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, ভোট পর্যবেক্ষক, নিজ দলীয় প্রার্থী বা তার এজেন্টকে বিষয়টি অবগত করতে হবে। প্রযোজ্য ক্ষেত্রে পোলিং এজেন্ট প্রকৃত চিত্র রেকর্ড করার জন্য গোপন ক্যামেরা, যেমন কলম ক্যামেরা, চশমা ক্যামেরা ইত্যাদি ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার করতে হবে। যা প্রয়োজনের সময়ে ব্যবহার করা যেতে পারে।

নির্দেশনায় গুরুত্ব দেয়া হয়েছে ভোট কেন্দ্রের তথ্য আদান-প্রদানের ওপর। বলা হয়েছে, নিজ দলীয় প্রার্থীর বা তার মনোনীত প্রতিনিধির ভোট কেন্দ্র পরিদর্শনের সময়, পর্যবেক্ষকরা ভোট কেন্দ্রে প্রবেশ করলে তাদের কাছে বা চা-নাস্তা করা, টয়লেটে যাওয়া বা দুপুরে লাঞ্চ করার জন্য বাইরে গিয়ে সময়ে সময়ে ভোটের চিত্র সম্পর্কে বার্তা আদান-প্রদান করা যেতে পারে। এ ছাড়া স্বল্পপাল্লার ক্ষুদ্রাতি ক্ষুদ্র ওয়াকিটকির (যা বাজারে কিনতে পাওয়া যায়) মাধ্যমে ভোট কেন্দ্রের বাইরে যোগাযোগ করা যেতে পারে।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর