× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ২০ মার্চ ২০১৯, বুধবার

ফাঁকা মাঠে চুমকি বিএনপির প্রার্থী জেলে

এক্সক্লুসিভ

ইকবাল আহমদ সরকার, গাজীপুর থেকে | ২৪ ডিসেম্বর ২০১৮, সোমবার, ১০:০৩

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গাজীপুর-৫ আসনের আওয়ামী লীগ প্রার্থী প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি ফাঁকা মাঠে দৌড়াচ্ছেন। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত নানাভাবে রয়েছেন নির্বাচনী মাঠে, ভোটারদের পাশে। আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ মনে করছেন, জেলার এই আসনে তাদের বিজয় এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। অন্যদিকে, বিএনপির প্রার্থী দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক জেলা বিএনপির সভাপতি একেএম ফজলুল হক মিলনের স্বজন ও তাদের দলীয় নেতাদের অভিযোগ, নির্বাচনে সরকার দলীয় প্রার্থীর পরাজয় আঁচ করতে পেরেই বিএনপির এই আসনের জনপ্রিয় প্রার্থীকে পরিকল্পিতভাবে বন্দি রাখা হয়েছে জেলখানায়। তাদের প্রার্থীর পক্ষের কাউকেই, এমনকি তার স্ত্রীকেও নামতে দেয়া হচ্ছে না নির্বাচনী মাঠে। নামলেই চালানো হচ্ছে হামলা, গাড়ি ভাঙচুর করে আহত করা হচ্ছে নারীকর্মীদের। মামলা না থাকলেও গ্রেপ্তার করা হচ্ছে, দেয়া হচ্ছে নানা ধরনের হুমকি। এমনকি প্রতিপক্ষের চাপের মুখে দলীয় কর্মীরা নিজেদের বাড়িতেও থাকতে পারছেন না।
এমন বাস্তবতায় শেষ পর্যন্ত এই প্রার্থীর পক্ষে কর্মী-সমর্থকদেরও মাঠে থাকা দুষ্কর বলে মনে করছেন তারা।
গাজীপুর-৫ আসনের বিএনপির প্রার্থী কারারুদ্ধ ফজলুল হক মিলনের সহধর্মিণী শম্পা হক জানান, আমার স্বামী ধানের শীষের জনপ্রিয় প্রার্থী ফজলুল হক মিলনকে ফিল্মি কায়দায় বাড়ি থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লোকজন তুলে নিয়ে গেছে। মিথা্য, সাজানো সব মামলায় তিনি জামিনে ছিলেন। এর পরও নির্বাচন থেকে দূরে রাখতে তাকে কারাগারে আটক রাখা হয়েছে। প্রার্থীকে কারাগারে বন্দি রাখায় তিনি নিজেই এলাকায় ছুটে যাচ্ছেন ভোট চাইতে। তার অভিযোগ, প্রচারে গেলেই পুলিশের সামনেই সরকারদলীয় লোকজনের বাধার মুখে পড়ছেন। অন্যদিনের মতো পূর্বঘোষিত শিডিউল মোতাবেক শুক্রবার নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিয়েছিলেন। প্রচারণার শিডিউলটি সম্পর্কে আগের দিন অবহিত করা হয় স্থানীয় থানার ওসিকে। সেদিন দুপুরে পুবাইলের মাঝুখান বাজারে পুলিশের সহায়তায় আওয়ামী লীগ সমর্থিত ছাত্রলীগ-যুবলীগের কর্মীরা অতর্কিত হামলা করে। রাস্তার সামনের দিকে ৩০-৪০ জন পুলিশ অবরোধ করে গতিরোধ করে এবং এ সময় ছাত্রলীগ যুবলীগের ২০-২৫টি বাইক রাস্তার সম্মুখ দিকে অবস্থান নেয়। পিছন দিক থেকে তাদের আরও ৩০-৪০ জন হকিস্টিক, রড ইত্যাদি হাতে আক্রমণ করে। শম্পা হকের সঙ্গে এ সময় দলীয় লোকজন ছিল ১০০-১৫০ জনের মতো বিএনপি সমর্থিতসহ সাধারণ জনগণ এবং তার সঙ্গে দুটি গাড়ি এবং ১৫টি বাইক। হামলা করে একটি গাড়ি পুরোপুরি ভেঙে তিনজন নারীসহ ৫-৬ জনকে মেরে আহত করে। এমন পরিস্থিতিতে পুলিশ শুধু নীরব দর্শকের ভূমিকাই নয় বরং ক্যাডার বাহিনীর ভূমিকা পালন করেছে। স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় শম্পা হক এবং তার সহযোগীদের উদ্ধার করা হয় এবং পরবর্তীকালে তারা গাজীপুরের রিটানিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আশ্রয় নেন। পরে জেলা প্রশাসককে জানানো হলে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেয়া হয়। এর দুদিন আগে জেলা প্রশাসকের অফিসে মতবিনিময় করতে যাওয়ার সময় ডিসি অফিসের কাছে যেতেই গ্রেপ্তার করা হয় উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি ফজলুল হক নয়ন বাগমারকে। কারাগারে আটক রাখা স্বামীর পক্ষে যেখানেই নির্বাচনী মাঠে নামছেন, সেখানেই প্রতিপক্ষের হামলা ও বাধার মুখে পড়ছেন। এসব বিষয়ে জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানার ওসিকে অভিযোগ দিয়ে কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি। বরং নির্বাচনী কর্মকাণ্ডের শিডিউল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করে আরো বেশি বিপাকে পড়তে হচ্ছে। মামলা, হামলা ও গ্রেপ্তারের ভয়ে নেতাকর্মীরা মাঠে নামতে না পারায়, কিছুসংখ্যক নারী কর্মী নিয়ে মাঠে নামার পর নারী নেতাকর্মীরাও হামলার শিকার হচ্ছেন। পোস্টার লাগাতে বাধা দেয়া হচ্ছে। আবার লাগালে তা ছিঁড়ে ফেলা হচ্ছে। এসব বিষয়ে রিটানিং অফিসার ও সহকারী রির্টানিং অফিসারের কাছে অভিযোগ দিয়ে কোনো ফায়দা পাওয়া যাচ্ছে না। অন্যদিকে প্রতিদিনই বিভিন্ন ইউনিয়নের হাট-বাজার কিংবা পাড়া-মহল্লায় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত গণসংযোগ, উঠান বৈঠক, পথসভা করছেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি। এসব স্থানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলছেন, উন্নয়ন অব্যাহত রাখতে আসুন আমরা সবাই শপথ নেই, ৩০শে ডিসেম্বর নৌকা মার্কা ভোট দেই। আমার সালাম নিন, নৌকা মার্কায় ভোট দিন। জনগণের রায়ে আবার আমি ক্ষমতায় যেতে পারলে নির্বাচনী এলাকার কালীগঞ্জ-পুবাইলে-বাড়িয়া থেকে সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, মাদক, সামপ্রদায়িকতা ও দুর্নীতি নির্মূল করে গণতন্ত্র ও আইনের শাসনকে সুসংহত করবো। গত ১০ বছরে আমরা কী করিনি, মানুষ কি অন্ধ? যে তারা আমাদের উন্নয়ন দেখছে না। তিনি বলেন, উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে নৌকার বিকল্প নেই। প্রতিপক্ষ বিএনপির প্রার্থী লোকজনের অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, তারা তো ভোটের জন্য নামছেনই না, কেন নামছেন না তা তো জানিনা, তাদের যে অপকীর্তি, তারা মানুষকে কী বলবে, তাই হয়তো নামছেন না। হয়তো তাদের কিছুর অতীত অপকর্মের খেসারত দিচ্ছে। আমাদের কেউতো বাধা দিচ্ছে না। এছাড়া নির্বাচনী এলাকার পরিবেশ পরিস্থিতি বেশ ভালো রয়েছে।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর