× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ১৯ জুন ২০১৯, বুধবার
মাগুরা-২

আওয়ামী লীগের দখলে মাঠ, নীরব বিপ্লব ঘটাতে চায় বিএনপি

এক্সক্লুসিভ

মাহামুদুন নবী, মহম্মদপুর (মাগুরা) থেকে | ২৫ ডিসেম্বর ২০১৮, মঙ্গলবার, ৯:৪৩

মাগুরা-২ আসনের নির্বাচনী মাঠ আওয়ামী লীগের দখলে থাকলে ও ভোট বিপ্লবের মাধ্যমে  আসনটি পুনরুদ্ধারে মরিয়া বিএনপি। আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মাগুরা-২ আসন শালিখা ও মহম্মদপুর উপজেলার ১৫ ইউনিয়ন, সদর উপজেলার চার ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। এ আসনটি আওয়ামী লীগের দুর্গ হিসেবে খ্যাত। এ আসনে মহাজোট প্রার্থী ড. শ্রী বীরেন শিকদার প্রচার-প্রচরণায় নির্বাচনের মাঠ দখলে রাখলেও মাঠে খুব একটা দেখা মিলছে বিএনপি প্রার্থী এডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরীকে। অন্যদিকে পথসভা, জনসভা, হ্যান্ডবিল বিতরণের ও উঠান বৈঠকের মধ্য দিয়ে ঐক্যজোট প্রার্থী নির্বাচনী এলাকার দু’টি উপজেলার হাট-বাজার থেকে শুরু করে পাড়া মহল্লায় নির্বাচনী প্রচারণায় মাঠ গরম করলে ও চায়ের কাপে ঝড় ওঠেনি মফস্বল শহরের চায়ের দোকানগুলোতে। ভোটারদের অভিযোগ পকেটের টাকা দিয়ে চা খেয়ে জমছে না ভোটের আলাপ। আবার অধিকাংশ নেতা-কর্মীর মুখে অভিযোগর সুর। তাদের অভিযোগ, নির্বাচনী খরচ কতিপয় নেতার হাতে গেলেও তা পকেটেই থেকে যাচ্ছে।
সাধারণ কর্মী পর্যন্তু সেই টাকা না পৌঁছানোর কারণে মাঠকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। এর সমাধান না হলে নৌকার ভোটে বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগের একজন সিনিয়র নেতা।
অপরদিকে ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থী এডভোকেট নিতায় রায় চৌধুরী অভিযোগ করে মানবজমিনকে জানান, স্থানীয় প্রশাসন প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করায় তার নেতাকর্মীরা প্রচার-প্রচারণায় মাঠে নামতে পারছেন না। তিনি আরো জানান, পুলিশ নেতা-কর্মীদের ভয়-ভীতিসহ গ্রেপ্তার করতে বাড়ি বাড়ি গিয়ে তল্লাশি চালাচ্ছেন। পুলিশের এ রকম বিরূপ আচরণের কারণেই ভোটের মাঠে তেমন প্রচার-প্রচারণায় নামতে পারছে না বিএনপি দলীয় নেতাকর্মীরা।
১৯৯৪ সালে পরপর চারবার নির্বাচিত এডভোকেট আসাদুজ্জামানের মৃত্যুর পর মাগুরা-২ আসনটির উপ-নির্বাচনে বিএনপি’র প্রার্থী সেই সময় রাজনীতিতে নতুন মুখ শিল্পপতি কাজী সালিমুল হক কামাল আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী এভোকেট শফিকুজ্জামান বাচ্চুর বিরুদ্ধে জয় লাভ করার পর ভোট ডাকাতির অভিযোগ ওঠে। বিতর্কিত এই নির্বাচন  নিয়ে সরকার বিরোধী যে আন্দোলন গড়ে ওঠে তা জাতীয় পর্যায়ে রূপ নেয়। ১৯৯৬ সালে সেই আন্দোলন অবশেষে গণ-আন্দোলনে পরিণত হয়। এবং শেষ পর্যন্তু ১৯৯৬ সালে দু’বার সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ রাজনৈতিকভাবে চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করে। ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয় আওয়ামী লীগ এবং মাগুরা-২ আসনের ভোটযুদ্ধে  বিএনপি’র প্রার্থী কাজী সালিমুল হক কামালের সঙ্গে লড়াই করে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী ড. শ্রী বীরেন শিকদার বিপুল ভোটে জয় লাভ করেন। জাতীয় সংসদের ৯২ নম্বর এই নির্বাচনী এলাকায় স্বাধীনতার আগে থেকে ১৯৯৪ সাল পর্যন্তু আওয়ামী লীগ থেকে এডভোকেট আছাদুজ্জামান পর পর চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। সেই থেকে এ আসনটি আওয়ামী লীগের দুর্গ হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। ১৯৯৩ সালের ২৫শে ডিসেম্বর তার মৃত্যুর পর ১৯৯৪ সালের ২০শে মার্চ সেই বিতর্কিত উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। শালিখা ও মহম্মদপুর উপজেলার ১৫ ইউনিয়ন এবং মাগুরা সদর উপজেলার চার ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত মাগুরা-২ আসনটিতে ২০০৮ সালে নবম সংসদ নির্বাচনে বিএনপি’র প্রার্থী নিতাই রায় চৌধুরীর সঙ্গে লড়াই করে সামান্য ভোটের ব্যবধানে জয় লাভ করেন ড. বীরেন শিকদার। ২০১৪ সালের দশম সংসদেও মাগুরা-২ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর