× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ২৭ জুন ২০১৯, বৃহস্পতিবার

হাত বাড়িয়ে ডাকছে কুয়াকাটা

ষোলো আনা

পিয়াস সরকার | ৪ জানুয়ারি ২০১৯, শুক্রবার, ৮:৩২
ছবি- সাখাওয়াত হোসেন মাসুম

সমুদ্র পাড়ে একই স্থানে দাঁড়িয়ে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখা। এ যেন রূপকথার গল্পকেও হার মানায়। কিন্তু রূপকথার গল্প সত্য হয়ে ধরা দিয়েছে কুয়াকাটায়। পটুয়াখালী জেলায় অবস্থিত এই সমুদ্র সৈকতটি বিশ্বের একমাত্র সমুদ্র সৈকত যেখানে একই স্থানে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের নয়নাভিরাম দৃশ্য উপভোগ করতে পারবেন।

এই শীতে পরিবার কিংবা বন্ধু-বান্ধবসহ ঘুরতে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন? তবে, চলে যেতে পারেন প্রকৃতির কাছে, সাগরকন্যা কুয়াকাটায়। সমুদ্রের বালুকাবেলায় পা ভেজানোর পাশাপাশি পাচ্ছেন সুন্দরবনের একাংশ। আবার আপনার মন কাড়তে কুয়াকাটায় রয়েছে লাল কাকড়ার চর, ঝাউ বন, শুঁটকি পল্লী, বৌদ্ধ মন্দির ইত্যাদি।

কুয়াকাটা সমুদ্র পাড়ে গোসলের জন্য মিলবে লাইফ জ্যাকেট, পাম্ব, ব্যারেল ইত্যাদি। তবে, সাঁতার না জানলে পাড়ে গোসল সেরে নেয়াই ভালো। সমুদ্র পাড়ে মিলবে শোয়ার চেয়ার।
এই চেয়ারে বসে উপভোগ করতে পারেন সমুদ্রের উত্তাল গর্জনের শব্দ সঙ্গে মিষ্টি শীতল হাওয়া। সমুদ্র পাড়ে বসে সূর্যাস্ত যাবার দৃশ্য। সমুদ্রের পানির বুকে ধীরে ধীরে লাল আভার সূর্য মিলিয়ে যাবে। রাতে সমুদ্রের তীরে পা ভিজিয়ে শুনতে পারেন বাউল গান। বাউল গানের শিল্পীরা ৫০-৬০ দিলেই তুষ্ট মনে গান শুনিয়ে দেবে। ফটোগ্রাফারদের দ্বারা ছবি উঠিয়ে নিতে চাইলে দামাদামি আগে থেকেই করে রাখুন। বিপত্তি এড়াতে স্পষ্ট করে বলুন আমার ৫ বা ১০টি ছবি চাই।

সূর্যোদয় দেখতে
সূর্যোদয় দেখতে আপনার হোটেলের এলাকা থেকে যেতে হবে প্রায় ২ কিলোমিটার দূরে। তাই সূর্য ওঠার ঘণ্টাখানেক আগে বের হওয়া ভালো। মিলবে ভাড়ায় মোটরসাইকেল। এই মোটরসাইকেল স্পটে পৌঁছে দেয়ার জন্য ৫০ টাকা। তাদের সঙ্গে ১শ’ টাকায় সেরে নিতে পারেন যাতায়াতের চুক্তি। তবে, ভুলেও ভাড়া ঠিক না করে উঠবেন না এসব মোটরসাইকেলে। সূর্য ওঠার দৃশ্যে আপনার মন বিচলিত হবেই হবে। পানির ভেতর থেকে ধীরে ধীরে বেরিয়ে আসবে রক্তিম সূর্য।

নৌকা ভ্রমণ / সুন্দরবন যেতে
সুন্দরবনে ঘুরতে যাবার জন্য পাওয়া যায় নৌকা। ভাড়া করে কিংবা টিকিট কেটেও যেতে পারেন। জনপ্রতি টিকিটের মূল্য ২২০ টাকা। এই নৌকায় করে আপনাকে লাল কাকড়ার চর, শুঁটকি পল্লী, সমুদ্র ও নদীর মোহনা ঘুরিয়ে নিয়ে যাবে সুন্দরবনের একাংশে। সুন্দরবনের অপরূপ সৌন্দর্য আপনাকে মাতাল করে দেবে। নদী ঘেরা এই সুন্দরবনের একাংশের বনটির নাম ফাতরার বন।

আরো যা দেখবেন
রাখাইন মার্কেট। হোটেলের পাশেই এই মার্কেট। যেখানে থাকছে রাখাইনদের হাতে তৈরি চাদর, খেলনা, ঘর সাজানোর উপকরণ ইত্যাদি। এ ছাড়াও বার্র্মিজ আচার, চকলেট ইত্যাদিও মেলে। শুঁটকির বাজারে কিনতে পারেন হরেক রকমের শুঁটকি। বাজারের পাশেই রয়েছে বৌদ্ধ মন্দির। মন্দিরের পাশে স্থান করে নিয়েছে ২শ’ বছরের পুরাতন নৌকা। নৌকা দেখে ঘুরে আসবেন রাখাইন পল্লীতে। তাদের বাড়ি, সমাজ এসব দেখার জন্য আপনার জিজ্ঞাসু মনকে তৈরি রাখুন।

থাকার হোটেল ও খরচ
কুয়াকাটায় থাকার হোটেল রয়েছে প্রচুর। তবে, শীতে আগে থেকে রুম বুক দিয়ে যাওয়া ভালো। বুকিং দিয়ে না গেলেও সমুদ্র পাড় থেকে একটু দূরে মিলবে হোটেল। সব ধরনের ভাড়ার রুম মিলবে কুয়াকাটায়। ভালো মানের একটি রুমের জন্য গুণতে হবে ১ হাজার টাকা থেকে ১ হাজার ৫শ’ টাকা। এসি রুমের জন্য খরচ হবে ২ হাজার টাকা। এ ছাড়াও ৫শ’ থেকে ৮শ’ টাকায় পরিবার নিয়ে থাকার জন্য মানসম্মত হোটেল রয়েছে অহরহ।

খাবার
কুয়াকাটায় সমুদ্র পাড়েই বাজার। হোটেলের পাশেই এসব হোটেলে মিলবে হরেক রকমের খাবার। তবে, খাবার আগে মূল্য জেনে নেয়া ভালো। এখানকার হোটেলগুলোতে পাবেন সামুদ্রিক মাছ, নদীর মাছ, মাংসসহ হরেক পদের খাবার। আবার রয়েছে খাবারের প্যাকেজ। জনপ্রতি এসব প্যাকেজে খরচ পড়বে ১২০-১৫০ টাকা। একটু চোখ কান খোলা রেখে অনায়াসেই ৫০-৬০ টাকাতেও খাবার খাওয়া সম্ভব।

যা অবশ্যই খাবেন
কুয়াকাটায় ঘুরতে গিয়ে কাকড়া ভাজা না খেলে ভ্রমণটাই পানসে হয়ে যাবে। সমুদ্র পাড়েই বিচের দোকানে মিলবে কাকড়া ভাজাসহ সামুদ্রিক মাছ ভাজা। কাকড়ায় খরচ পড়বে ৫০ থেকে ২শ’ টাকা। টাটকা সামুদ্রিক কাকড়ার স্বাদ মুখে লেগে থাকার মতো। কুয়াকাটার ডাবের পানির রয়েছে আলাদা সুখ্যাতি। এ ছাড়া অবশ্যই স্বাদ নেবেন ইলিশ মাছের।

যেভাবে যাবেন?
ঢাকা থেকে যেতে চাইলে সদরঘাট থেকে গ্রিন লাইন লঞ্চে করে জনপ্রতি ১ হাজার টাকা টিকিট কেটে যেতে পারেন। স্পিটবোট লঞ্চে করে নিয়ে যাবে বরিশাল। আবার সেখান থেকে তাদের নিজস্ব পরিবহনে পৌঁছে দেবে কুয়াকাটা। এ ছাড়াও লঞ্চে যেতে পারেন পটুয়াখালী। লঞ্চের ভাড়া পড়বে সিঙ্গেল কেবিনে ১ হাজার টাকা, ডাবল কেবিন ১ হাজার ৮শ’ টাকা। সিঙ্গেল কেবিনে অনায়াসে যেতে পারেন দু’জন সেক্ষেত্রে অতিরিক্ত গুনতে হবে ২শ’ টাকা। কিংবা ডাবল কেবিনে ৪ জন, অতিরিক্ত ৪শ’ টাকা। সন্ধ্যার সময় লঞ্চে উঠে পটুয়াখালী পৌঁছাবেন সকাল ৬টায়। সেখান থেকে রিকশায় ২০/৩০ টাকায় বাস টার্মিনাল। পটুয়াখালী থেকে ২ ঘণ্টার বাস জার্নিতে চলে যাবেন সরাসরি কুয়াকাটা। অথবা গাবতলী থেকে ননএসি বাস ৬শ’ টাকা এসি বাস ৮শ’ থেকে ১ হাজার টাকায় সরাসরি যেতে পারেন কুয়াকাটা। সময় লাগবে ৮-১০ ঘণ্টা। আবার কুয়াকাটা টু দিনাজপুর, রংপুর, সিলেট, চট্টগ্রাম, খুলনা ইত্যাদি এলাকার দূরপাল্লার বাসও পাওয়া যায়।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর