× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ২৪ মার্চ ২০১৯, রবিবার

বিজেপিতে যোগ দিলেন তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ

ভারত

কলকাতা প্রতিনিধি | ৯ জানুয়ারি ২০১৯, বুধবার, ৮:৩৪

পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আসার পর তৃণমূল কংগ্রেস দল ভাঙানোর যে খেলা চালিয়ে আসছিল এবার তার শিকার হয়েছে নিজেরাই। আগামী দিনে তৃণমূল কংগ্রেসে আরও ভাঙনের সুর শোনা যাবে বলে আশা বিজেপি নেতাদের। বুধবারই দিল্লিতে বিজেপির সদর দপ্তরে গিয়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুরের সাংসদ সৌমিত্র খাঁ। বিজেপির সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের সংঘাত যখন তুঙ্গে, তখন তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদীয় দলে ভাঙন ধরিয়ে বিজেপি স্বাভাবিকভাবেই উল্লসিত। এই প্রথম তৃণমূল কংগ্রেসর কোনও লোকসভা সদস্য বিজেপিতে যোগ দিলেন। আরও কয়েকজন যে বিজেপিতে নাম লেখাতে পারে তা নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে অনেকদিন ধরেই গুঞ্জন চলছে। মমতাও ৬ জনকে এ ব্যাপারে চিহ্নিত করেছেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। তবে লোকসভা নির্বাচনের ঠিক চার মাস আগে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষে ঘটনাটি প্রবল অস্বস্তির বলে মনে করছেন রাজনৈতিক মহল।
এদিনই রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস সৌমিত্রসহ দুই জন সাংসদকে বহিষ্কার করেছে। দুই সাংসদের মধ্যে সৌমিত্র বিজেপিতে যোগ দিলেও অপর সাংসদ অনুপম হাজরা এখনও কোনও দলে যোগ দেননি। বীরভূম জেলার বোলপুর কেন্দ্রের সাংসদ অনুপম হাজরাকে নিয়ে দলের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে সমস্যা দেখা দিয়েছিল। বিভিন্ন সময়ে বোলপুরের সাংসদের নানাবিধ বক্তব্য ঘিরে বিড়ম্বনা বেড়েছিল রাজ্যের শাসকদলের। বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় অনুপমের পোস্ট ঘিরেও তৈরি হয়েছিল জটিলতা। অনুপম যে গোপনে বিজেপি নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলছিল সেটা স্পষ্ট হতেই বোলপুরের সাংসদকে দল থেকে বহিষ্কার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। তৃণমূল কংগ্রেসের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেছেন, অনুপম হাজরা অনেকদিন ধরেই দল বিরোধী কাজ করছিলেন। তার ক্রিয়াকলাপে দলের বিড়ম্বনা বাড়ছিল। সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর অ্যাক্টিভিটি নিয়েও জটিলতা তৈরি হচ্ছিল। সেই কারণেই অনুপম হাজরাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হল। তবে সৌমিত্র খাঁ দলবদল সম্পর্কে তিনি অবশ্য কিছু বলেন নি। তবে সৌমিত্র বিজেপিতে যোগ দিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেছেন, এই দল বদলের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়ায় সাংসদ সৌমিত্র খাঁ বলেছেন, তৃণমূল কংগ্রেস যুব সভাপতি অভিষেক বন্দোপাধ্যায়ের স্বৈরাচারী মনোভাব থেকে মুক্তি পেতে আমি বিজেপিতে যোগ দিয়েছি। তিনি অভিযোগ করেছেন, তৃণমূল কংগ্রেস এখন পিসি-ভাইপোর দল হয়ে গিয়েছে। ওই দলে আর কারও কোনও গুরুত্ব নেই। পিসি-ভাইপো মিলে গোটা বাংলায় পুলিশ রাজ কায়েম করেছেন। বাংলায় কোনও গণতন্ত্র নেই। এখন শুধু পুলিশতন্ত্র চলছে। দলত্যাগী সাংসদের বক্তব্য, আমি একজন সাংসদ, আমারই জীবনের নিরাপত্তা নেই। তা হলে সাধারণ মানুষের কী অবস্থা ভাবুন। গত মঙ্গলবারই সৌমিত্র তার আপ্ত সহায়ককে পুলিশের আটকে রাখার অভিযোগ ফেসবুকে লাইভ করেছিলেন। তবে সৌমিত্রের দলবদলের পর বুধবার সেই আপ্ত সহায়ককে পুলিশ অ¯্র আইনে গ্রেপ্তার করেছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষদের মতে, তৃণমূল কংগ্রেসে ভাইপোকে নিয়ে দ্বন্দ্ব বেড়ে চলেছে। মাঝে মাঝেই তা বিস্ফোরক আকারে গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের চেহারা নিচ্ছে। আর দলে যে তেল মর্দন ছাড়া কোনও কিছু হয় না মেটা কিছুদিন আগেই বহিষ্কৃত সাংসদ অনুপম হাজরা সোস্যাল মিডিয়াতেই লিখেছিলেন। পর্যবেক্ষকদের মতে, পশ্চিমবঙ্গের অনেক জায়গাতেই বিজেপি ভার ফল করেছে। অন্যদিকে ফল খারাপের জন্য তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী অনেককেই আগামী নির্বাচনে প্রার্থী করবেন না বলে ঠিক করে ফেলেছেন। আর তারই ফলে নিশ্চিত আসন পাওয়ার লক্ষ্যে এই দলবদল বলে মনে করা হচ্ছে।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর