× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ১৮ জানুয়ারি ২০১৯, শুক্রবার
সংবাদ সম্মেলনে মঈন সমর্থকদের প্রতিক্রিয়া

ভোটের কাছে আবেগের হার

এক্সক্লুসিভ

স্টাফ রিপোর্টার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে | ১১ জানুয়ারি ২০১৯, শুক্রবার, ৮:৪২

মোট ভোট ১০৫৭৪। আর দুই প্রতিদ্বন্দ্বীর মধ্যে ভোটের ব্যবধান ১০১৫৯। বাকি শুধু ৪১৫ ভোট। ১০ হাজার ১৫৯ ভোট পাওয়ার পর সোয়া চার শ’ ভোটের হিসাব। তার মধ্যে মৃত-প্রবাসী এসব ভোটারের হিসাবও উঠে এসেছে। সব মিলিয়ে কঠিন অবস্থা। জয় দুরুহ। কিন্তু আবেগের কাছে তুচ্ছ হয়ে যায় ভোটের এই হিসাব-নিকাশ।
‘কলারছড়ি’র জয় চিন্তায় দিনরাত এক হয়ে গিয়েছিল সবার। বিশেষ করে আশুগঞ্জ উপজেলার মানুষের। সংসদ সদস্য হওয়ার দ্বারপ্রান্তে এই উপজেলার সন্তান জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহসভাপতি মঈন উদ্দিন মঈন। সেই সুযোগ হাতছাড়া হতে দেয়া যায় না।

এমন মনোভাবের মধ্যে বুধবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ নির্বাচনী এলাকার স্থগিত ৩ কেন্দ্রের নির্বাচন হয় খুবই কড়াকড়িভাবে। যেখানে আবেগের হার হয় ভোটের হিসেবের কাছে। তবে মঈন জয়ী হন ওই তিনকেন্দ্রে। বুধবার রাতে এক সংবাদ সম্মেলনে এই পরাজয়ের জন্য আশুগঞ্জ আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতাকে দায়ী করেন মঈন ও তার সমর্থকরা। ওই সংবাদ সম্মেলনে জয়ী বিএনপির উকিল আবদুস সাত্তার ভূঁইয়াকে অভিনন্দন জানান মঈন। অনেক প্রতিকূল অবস্থার মধ্যে সরাইল-আশুগঞ্জের মানুষ তার পাশে থাকায় তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে আশুগঞ্জ আওয়ামী লীগের ৮ নেতার বহিষ্কার ও ওসির অপসারণ দাবি করা হয়। ওদিকে উকিল আবদুস সাত্তার ভূঁইয়া স্থগিত ৩ কেন্দ্রের নির্বাচনে প্রশাসনের ভূমিকার প্রশংসা করেন।

তিনি ভোটারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। সংবাদ সম্মেলনে আশুগঞ্জ আওয়ামী লীগের কয়েক নেতার প্রতি প্রচণ্ড ক্ষোভ প্রকাশ করেন মঈন ও তার সমর্থকরা। তাদেরকে দল থেকে বহিষ্কার এবং আশুগঞ্জে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়। ৭  দিনের মধ্যে আশুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বদরুল আলম তরফদারের অপসারণও দাবি করেন তারা। ওসি’র সহায়তায় ৩০শে ডিসেম্বরের নির্বাচনের একদিন আগেও বিএনপির কর্মী-সমর্থকরা আশুগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে মিছিল করার সুযোগ পায় বলে অভিযোগ করা হয় সংবাদ সম্মেলনে। স্থগিত ৩ কেন্দ্রের ভোটের আগে মঈনের সমর্থকদের হুমকি দেয়ারও অভিযোগ আনা হয় ওসি’র বিরুদ্ধে। সংবাদ সম্মেলনে দলের নেতাকর্মী ও বিভিন্ন ইউনিয়নের বর্তমান ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানরা  আশুগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক ছফিউল্লাহ মিয়ার নানা ষড়যন্ত্রের কারণে মঈনের পরাজয় হয় বলে অভিযোগ করেন। অথচ তার সভাপতিত্বে দলের সভায় মঈনকে নির্বাচন করার সম্মতি দেয়া হয়েছিল বলে জানান তারা। সংবাদ সম্মেলনে নেতারা বলেন, এটি প্রমাণিত হয়েছে সুষ্ঠু নির্বাচন হলেও আওয়ামী লীগ এখানে জয়ী হবে।

সংবাদ সম্মেলনে মঈন উকিল আবদুস সাত্তার ভূঁইয়াকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন- তিনি শপথ নিলে তাকে আমরা সহায়তা করবো। নির্বাচনে গণসংযোগে গিয়ে দেখেছি সরাইলের জয়ধরকান্দি, তেলীকান্দি, দুবাচাইল, অরুয়াইল, ধামাউড়া, কাকরিয়া ও রাজাপুর কত অবহেলিত। আমার একটা স্বপ্ন ছিল এসব এলাকা নিয়ে। তিনি ৪ বারের এমপি, একবার মন্ত্রী। কিন্তু কিছুই করতে পারেননি। আমি তাকে বলবো শপথ নেন, এলাকার জন্য কাজ করেন। আমরা আপনার পাশে থাকবো। দলের যারা নির্বাচনে যড়যন্ত্র করেছে তাদের মুখোশ উন্মোচন করার ঘোষণা দিয়ে মঈন বলেন- রাজনীতি করি আর না করি এই সমস্ত থানার দালাল, ইয়াবা ব্যবসায়ী এবং  ফ্রিডম পার্টি, জামায়াত, জাতীয় পার্টিকে নিয়ে সিন্ডিকেট করে যারা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবসা করে তাদের ছাড়া হবে না। সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক আবু নাসের আহমেদ, আশুগঞ্জ সদরের ইউপি চেয়ারম্যান মো. সালাউদ্দিন, তালশহর ইউপি চেয়ারম্যান আবু শামা, চর-চারতলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জিয়াউদ্দিন খন্দকার, আড়াইসিধা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সেলিম মিয়া, দুর্গাপুর ইউপি চেয়ারম্যান জিয়াউল করিম খান সাজু, শরীফপুর ইউপি চেয়ারম্যান সাইফুদ্দিন চৌধুরী ও আশুগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আমীর হোসেন।
উকিল আবদুস সাত্তারের প্রতিক্রিয়া: জয়ে আল্লাহর কাছে শোকরিয়া জ্ঞাপন করেন উকিল আবদুস সাত্তার ভূঁইয়া। তিনি বলেন, আজকে প্রশাসন যেভাবে সহায়তা করেছে সেজন্যে প্রশাসনের ওপর আমি সন্তুষ্ট। প্রশাসন যদি ৩০ তারিখ এমন সজাগ থাকতো, তৎপর থাকতো তাহলে আজকে আমাদের এই কষ্টের কোনো প্রয়োজন ছিল না। ওইদিনই তারা সঠিক রেজাল্ট দিতে পারতো। আমি কৃতজ্ঞ প্রশাসন, দেশবাসী ও আমার ভোটারদের কাছে। উল্লেখ্য, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের চূড়ান্ত ফলাফলে ৮৩ হাজার ৯৯৭ ভোট পেয়ে জয়ী হন বিএনপি প্রার্থী উকিল আবদুস সাত্তার ভূঁইয়া। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী মঈন উদ্দিন মঈন পান ৭৫ হাজার ৪১৯ ভোট।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর