× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ১৯ জুন ২০১৯, বুধবার
ডাকসু’র গঠনতন্ত্র সংশোধন কমিটির সভা

যে দাবি জানিয়েছে ছাত্র সংগঠনগুলো

দেশ বিদেশ

বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার | ১১ জানুয়ারি ২০১৯, শুক্রবার, ১০:০৪

সেক্রেটারিয়েটের সংখ্যা বৃদ্ধি, প্রেসিডেন্টসহ নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য, নারী প্রতিনিধি নিশ্চিত করা, প্রার্থী ও ভোটারদের শর্ত শিথিল করাসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ’র (ডাকসু) গঠনতন্ত্রের মধ্যে বেশকিছু সংশোধনী আনার প্রস্তাব করেছে ক্যাম্পাসের ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠনগুলো। গতকাল বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবন মিলনায়তনে ডাকসুর গঠনতন্ত্র যুগোপযোগী ও সংশোধনের জন্য গঠিত কমিটির সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় এসব প্রস্তাবনা তুলে ধরে তারা। বেলা সাড়ে ১১টা থেকে দেড়টা পর্যন্ত দীর্ঘ দুই ঘণ্টা এ সভা হয়। গঠনতন্ত্র সংশোধন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কমিটির সদস্য শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল, অধ্যাপক ড. রহমত উল্লাহ, অধ্যাপক ড. জিনাত হুদা, অধ্যাপক ড. সুপ্রিয়া সাহা। সভায় ছাত্র সংগঠনগুলোর নেতৃবৃন্দের মধ্যে ছাত্রলীগের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস, সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হুসাইন, ছাত্রদলের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি আল মেহেদী তালুকদার, সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশার সিদ্দিকী, ছাত্র ফেডারেশনের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি উম্মে হাবিবা বেনজীর, ছাত্র ইউনিয়নের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি ফয়েজ উল্লাহ, সাধারণ সম্পাদক রাজিব দাস, বিসিএলের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি চন্দ্র নাথ পাল, সাধারণ সম্পাদক, মাহফুজুর রহমান রাহাত, ছাত্রফ্রন্টের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা সভাপতি সালমান সিদ্দিকী, সাধারণ সম্পাদক তমা বর্মণসহ ১৩টি ছাত্র সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। তারা নিজ নিজ সংগঠনের পক্ষে প্রস্তাবনা তুলে ধরেন। সময় স্বল্পতার কারণে আগামী সোমবারের মধ্যে নিজ নিজ সংগঠনকে লিখিতভাবে প্রস্তাবনা গঠনতন্ত্র সংশোধন কমিটিকে জমা দিতে বলা হয়েছে বলে সভা শেষে জানিয়েছেন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান। তিনি বলেন, আমরা ছাত্র প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলাপ করেছি।
এখানে যেসব ছাত্র সংগঠন ক্রিয়াশীল রয়েছে, তারা তাদের বক্তব্য দিয়েছে। কোথায় কোথায় সংযোজন-বিয়োজন দরকার, তা কেউ লিখিতভাবে, কেউ মৌখিকভাবে জানিয়েছে। যেহেতু অনেকে দাবি করছে, তারা নিজেদের বক্তব্য বা প্রস্তাবনা উপস্থাপনের জন্য প্রস্তুতি নেয়ার পর্যাপ্ত সময় পায়নি, তাই সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ছাত্র সংগঠনগুলোকে সময় দেয়া হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে তারা ডাকসুর গঠনতন্ত্র সংশোধন বিষয়ে নিজেদের বক্তব্য লিখিত আকারে জমা দিতে পারবে। এরপর বিষয়টি আমরা ভিসি বরাবর পেশ করবো। জানা গেছে, বৈঠকে সরকারদলীয় ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগ থেকে সেক্রেটারিয়েটের সংখ্যা বৃদ্ধি, নারী প্রতিনিধির পদ সৃষ্টি, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সমস্যাকেন্দ্রিক আলাদা সম্পাদকের পদ সৃষ্টি অন্যতম। এ ছাড়া ছাত্রদলের পক্ষ থেকে নির্বাচনে প্রচার-প্রচারণা ও ক্যাম্পাসে সকল সংগঠনের নেতাকর্মীরা যেন সমান সুযোগ পায় সে বিষয়ে প্রস্তাবনা রাখা হয়। বাম সংগঠনের প্রতিনিধিরা, বিশ্ববিদ্যালয়ের এমফিল করা (নিয়মিত) শিক্ষার্থীদের সদস্য রাখা, দীর্ঘদিন পরে নির্বাচন হচ্ছে বিধায় একটি নির্দিষ্ট সেশন পর্যন্ত শিক্ষার্থীকে নির্বাচনে অংশ নেয়ার সুযোগ দান, সভাপতির ক্ষমতা হ্রাস এবং সেক্রেটারিয়েট বডির সদস্যদের ক্ষমতা বৃদ্ধিসহ নানা প্রস্তাবনা পেশ করে। সভা শেষে ছাত্র ফেডারেশনের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি উম্মে হাবিবা বেনজীর বলেন, ডাকসুর বর্তমান গঠনতন্ত্রে সভাপতিকে একচেটিয়া ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। এতে পদাধিকার বলে সভাপতি (ভিসি) নির্বাচিত প্রতিনিধিকে বহিষ্কার করতে পারবে। তিনি যে বিষয়ে চাইবেন সে বিষয়ই আলোচিত হবে। আমরা বিষয়গুলোর পরিবর্তনে প্রস্তাবনা রেখেছি। পাশাপাশি যেহেতু দীর্ঘদিন নির্বাচন হয়নি তাই আমরা একটি নির্দিষ্ট সেশন পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার সুযোগ দেয়ার বিষয়টি বলেছি। ছাত্রলীগের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস বলেন, আমরা বৈঠকে আমাদের প্রস্তাবনাগুলো তুলে ধরেছি। আমরা চাই সকল সংগঠন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করুক। ক্যাম্পাসে সহাবস্থানের বিষয়ে তিনি বলেন, ক্যাম্পাসে সহাবস্থান আছে। যারা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত শিক্ষার্থী তারা ক্যাম্পাসে আসছেন আড্ডা দিচ্ছেন। সাধারণ শিক্ষার্থীরা যদি তাদের মতাদর্শ গ্রহণ করে নেয় তাহলে তারা ক্যাম্পাসে আসতে পারবে, কেউতো তাদের বাধা দিচ্ছে না। ছাত্রদলের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি আল মেহেদী তালুকদার বলেন, আমরা মনে করতে চাই ক্যাম্পাসে সহাবস্থান নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সহাবস্থান নিশ্চিত না হলে আমরা নির্বাচনে অংশ না-ও নিতে পারি।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর