× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ১৭ জানুয়ারি ২০১৯, বৃহস্পতিবার

আড়াইহাজারে গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষ

বাংলারজমিন

আড়াইহাজার (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি | ১২ জানুয়ারি ২০১৯, শনিবার, ৯:০৬

 সালিশি বৈঠককে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে শুক্রবার সকালে স্থানীয় চার গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় নারীসহ আহত হয়েছেন অন্তত ২০ জন। আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় বিভিন্ন সেবা কেন্দ্রে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। এ সময় স্থানীয় চম্পকনগর এলাকার প্রায় শতাধিক বসত বাড়িতে হামলা ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। খবর পেয়ে আড়াইহাজার থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
আহত সিহাবের বড় বোন মিতা জানান, স্থানীয় কবি নজরুল উচ্চবিদ্যালয় স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী সিহাবকে একই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রাজন, রুবেল ও ফাহিম তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মারধর করে। পরে বিষয়টি মীমাংসা করতে স্থানীয় ইউপি সদস্য মোসলেম ও গ্রাম্য মাতব্বর রব মিয়া শুক্রবার সকাল ১০টায় চম্পকনগর বাজারে সালিশ বসায়। স্থানীয় কাকড়াইল মোড়া, বাহেরচর ও তেঁতুইতলা এলাকার পক্ষ থেকে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা তোফাজ্জল, লোকমান ও রহিম তাতে অংশ নেন।
হঠাৎ বাগবিতণ্ডার এক পর্যায়ে বৈঠকে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে চম্পকনগর গ্রামের বিভিন্ন বসত বাড়িতে একের পর এক হামলা চালাতে থাকে। তিনি আরো জানান, হামলাকারীরা এ সময় সৌদিপ্রবাসী হাছানের বসতঘরের আসবাবপত্র ব্যাপক ভাঙচুর করে। আলমারীতে থাকা ৯ ভরি ওজনের স্বর্ণালঙ্কার, ৮০ হাজার টাকাসহ মূল্যবান আসবাবপত্র লুট করে নিয়ে যায় তারা। ক্ষতিগ্রস্ত ৪নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোসলেম জানান, তিন গ্রামের শত শত লোক লাঠিসোটা নিয়ে জড়ো হয়ে ঘণ্টাব্যাপী চম্পকনগর গ্রামে ব্যাপক তাণ্ডব চালিয়েছে। হামলায় ৫নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য লোকমান ও আওয়ামী লীগ নেতা তোফাজ্জল নেতৃত্ব দিয়েছেন। তিনি আরো বলেন, হামলাকারীরা তার ঘর থেকে চার লাখ পঞ্চাশ হাজার টাকা, ৮ ভরি স্বর্ণালঙ্কারসহ মূল্যবান সামগ্রী লুট করে নিয়ে গেছে। এ সময় তার বসত ঘরের আসবাবপত্র ব্যাপক ভাঙচুর করা হয়েছে। এর আগে চম্পকনগর গ্রামসহ স্থানীয় বাজারের বেশ কিছু ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুরসহ লুটপাট করা হয়েছে। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি শান্ত করে। খাগকান্দা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আরিফুল হক বলেন, আড়াইহাজারের ইতিহাসে এমন বর্বরোচিত হামলার ঘটনা আর ঘটেনি। তিনি আরো বলেন, চম্পকনগর এলাকার প্রায় এক থেকে দেড় শতাধিক বসত বাড়িতে হামলা চালানো হয়েছে। লোকমান মেম্বার ও তোফাজ্জল এই হামলার নেতৃত্ব দিয়েছেন বলে তিনি অভিযোগ করেন। তবে তোফাজ্জল তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, গ্রামবাসীর মধ্যে উত্তেজনা হয়েছিল। কিন্তু হামলার এই ঘটনায় আমি জড়িত নয়। আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করা হয়েছে। এদিকে আড়াইহাজার থানার ওসি আক্তার হোসেন বলেন, স্থানীয় কবি নজরুল ইসলাম স্কুল এন্ড কলেজের কিছু শিক্ষার্থীর মধ্যে দুইদিন আগে মারামারির ঘটনা ঘটেছিল। শুক্রবার বিষয়টি মীমাংসা করতে উদ্যোগ নেন স্থানীয় ইউপি সদস্য মোসলেম। বৈঠকে বাগবিতণ্ডার এক পর্যায়ে চম্পকনগর এলাকায় হামলা চালিয়ে কিছু বসতবাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করা হয়। তবে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর