× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ২৫ জুন ২০১৯, মঙ্গলবার

উপজেলা নির্বাচনে সিলেটে অর্ধশতাধিক প্রার্থী লড়াইয়ে

শেষের পাতা

ওয়েছ খছরু, সিলেট থেকে | ১২ জানুয়ারি ২০১৯, শনিবার, ৯:৫০

সিলেটে বইছে উপজেলা নির্বাচনের হাওয়া। জেলাজুড়েই নির্বাচনী তোড়জোড় শুরু করেছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা। বিশেষ করে সরকারি দল আওয়ামী লীগের প্রার্থী হতে তোড়জোড় বেশি।বিএনপির তথা বিরোধী জোটের প্রার্থীরা এখনো মাঠে নামার কোনো ইঙ্গিত দেননি। তবে গত নির্বাচনে যারা প্রার্থী হয়েছেন তারা এবার নিজ দল কিংবা জোট থেকে প্রার্থিতা চাইবেন। কেউ কেউ চাইছেন জাতীয় নির্বাচনের জবাব উপজেলা নির্বাচনের মাধ্যমে দিতে। সিলেটের ১৩টি উপজেলার মধ্য এবার নির্বাচন হবে ১২টিতে। কেবলমাত্র ওসমানীনগর উপজেলায় নির্বাচন হবে না। মেয়াদ শেষ না হওয়ার কারণে পরে এই উপজেলার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
অন্য ১২টি উপজেলায়ই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

সিলেটের ১২টি উপজেলা অর্ধশতাধিক সম্ভাব্য প্রার্থী এখন থেকেই আটঘাট বেঁধে মাঠে নামছেন। প্রার্থী হতে প্রবাস থেকেও ছুটে আসছেন প্রবাসীরা। স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও তারা বাজিমাত করতে চান। রাজনৈতিক দলগুলোও উপজেলা নির্বাচনে তাদের কর্তৃত্ব ধরে রাখতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন। গত উপজেলা নির্বাচনে সিলেট জেলার ১২টি উপজেলার মধ্যে ৪টিতে আওয়ামী লীগ, ৫টিতে বিএনপি ও ৩টিতে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা জয়লাভ করেছেন। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ জয় পেয়েছিল সিলেট সদর, দক্ষিণ সুরমা, বিয়ানীবাজার ও কোম্পানীগঞ্জে। আর বিএনপি জয় পেয়েছিল বিশ্বনাথ, বালাগঞ্জ, জকিগঞ্জ, কানাইঘাট ও গোয়াইনঘাটে। জামায়াতে ইসলামী জৈন্তাপুর, ফেঞ্চুগঞ্জ ও গোলাপগঞ্জ উপজেলায় জয় পেয়েছিল। জোটগতভাবে ১২টির মধ্যে ৮টিতেই জয় পায় বিএনপি ও জামায়াত।

এবারো সিলেট সদর উপজেলায় জয়ের ধারা অব্যাহত রাখতে চায় আওয়ামী লীগ। এ উপজেলায় এবার আওয়ামী লীগ থেকে বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান আশফাক আহমদ ও সিনিয়র আওয়ামী লীগ নেতা অধ্যক্ষ সুজাত আলী রফিক প্রার্থী হতে চাইছেন। ওই দুই নেতারই শক্তিশালী ভোট ব্যাংক রয়েছে সদরে। এর মধ্যে খানিকটা এগিয়ে আছেন বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান আশফাক আহমদ। বিগত দিনে অর্থমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠজন হওয়ার কারণে এলাকায় প্রচুর উন্নয়ন কাজ করিয়েছেন।

সিলেট সদরে বিএনপির ভোট বেশি থাকলেও একাধিক প্রার্থী থাকার কারণে বিএনপি অতীতে জয় ঘরে তুলতে পারেনি। এবার এই উপজেলা থেকে জেলা বিএনপির সহসভাপতি নুরুল হুদা, চেয়ারম্যান আবদুল শহীদ ও সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আবুল কাশেম পল্লব প্রার্থী হতে চাইছেন।

প্রবাসী অধ্যুষিত বিশ্বনাথে প্রবাসী প্রার্থীর সংখ্যা বেশি। বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান হচ্ছেন বিএনপির সোহেল আহমদ চৌধুরী একজন প্রবাসী। এবার এই উপজেলায় বিএনপি থেকে এম ইলিয়াস আলীর ভাই লন্ডন প্রবাসী আছকির আলীকে চাচ্ছে নেতাকর্মীরা। ফলে শেষ মূহূর্তে আছকির আলীও প্রার্থী হতে পারেন। এছাড়া বিএনপির সিনিয়র নেতা গৌছ খান ও বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান নুর উদ্দিনও প্রার্থী হতে চাইছেন। আওয়ামী লীগ এবার যোগ্য প্রার্থী দিয়ে এ উপজেলাটির দখল নিতে চাইবে। আওয়ামী লীগ থেকে প্রার্থী তালিকা রয়েছেন- উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি পংকি খান, জেলা আওয়ামী লীগ নেতা এস এম নুনু মিয়া, প্রয়াত নেতা বাবুল আক্তারের স্ত্রী নেহার বেগম ও প্রবাসী আশিকুর রহমান।

বালাগঞ্জ উপজেলার বর্তমান চেয়ারম্যান বিএনপির আবদাল মিয়া। তিনি গত বার অবিভক্ত বালাগঞ্জে নির্বাচন করে জয়লাভ করেছেন। এবার বালাগঞ্জ ভেঙে ওসমানীনগর উপজেলা হয়েছে। ৬টি ইউনিয়ন নিয়েই এবারের নির্বাচন। আবদাল মিয়া এবারো বিএনপির মনোনয়ন চাইছেন। তার সঙ্গে উপজেলা বিএনপির সিনিয়র নেতা কামরুল হুদা জায়গীরদার ও আবদুর নুরও প্রার্থী হতে চান। আওয়ামী লীগ থেকে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মোস্তাকুর রহমান মফুর ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আনহার মিয়া প্রার্থিতা চাইছেন বলে জানা গেছে।

ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার বর্তমান চেয়ারম্যান জামায়াতে ইসলামীর সাইফুল্লাহ খালেদ। এবারো তিনি জোট থেকেই মনোনয়ন চাইবেন। তার সঙ্গে বিএনপি থেকে প্রতিযোগিতা করতে চাইছেন জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক ছাত্রনেতা আবদুল আহাদ খান জামাল, সিনিয়র বিএনপি নেতা ছুফি চৌধুরী। আওয়ামী লীগ থেকে এ উপজেলায় এবারো প্রার্থীর অভাব নেই। ইতিমধ্যে অর্ধডজট আওয়ামী লীগ নেতার নাম ভোটের মাঠে ভাসছে। এর মধ্যে রয়েছেন- সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম, সাবেক ছাত্রনেতা ও সাংবাদিক শাহ মুজিবুর রহমান জকন, থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল বাছিত টুটুল, এ আর সেলিম, নুরুল হোসেন খোকন।

দক্ষিন সুরমা উপজেলায় এবারো ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান আবু জাহিদ আওয়ামী লীগ থেকে এবারো এই উপজেলায় প্রার্থী হতে চাইছেন। তার সঙ্গে গেল বারের দ্বিতীয় হওয়া জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলী আহমদও প্রার্থী হচ্ছেন বলে জানা গেছে। আর সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও জামায়াত নেতা লোকমান আহমদ এবারো এই উপজেলায় প্রার্থী হচ্ছেন। গোলাপগঞ্জের বর্তমান চেয়ারম্যান জামায়াতের হাফিজ নজমুল ইসলাম। এবারো তিনি দল ও জোটের মনোনয়ন নিয়ে প্রার্থী হতে চান। পাশাপাশি উপজেলা বিএনপির সভাপতি নসিরুল হক শাহীন ও সাধারণ সম্পাদক জিলাল আহমদ প্রার্থী হতে চাচ্ছেন। আওয়ামী লীগ থেকে প্রবীণ নেতা ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ইকবাল আহমদ চৌধুরী, সৈয়দ মিসবাহ উদ্দিন আহমদ ও লুৎফুর রহমানের নাম শোনা যাচ্ছে।

বিয়ানীবাজার উপজেলার বর্তমান চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগের আতাউর রহমান। এবারো তিনি আওয়ামী লীগের প্রার্থী হচ্ছেন। তার সঙ্গে দলীয়ভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন- যুক্তরাজ্য প্রবাসী নেতা মুহিবুর রহমান, দেলোয়ার হোসেন, শামীম আহমদ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আবুল কাশেম পল্লব। বিএনপি থেকে জেলা যুবদলের সভাপতি আবদুল মান্নান ও উপজেলার শীর্ষ নেতা নজমুল ইসলাম পুতুল প্রার্থী হতে চাচ্ছেন। জামায়াতের প্রার্থী হচ্ছেন গত বারের প্রতিদ্বন্দ্বিকারী নেতা ফয়জুল ইসলাম। জকিগঞ্জের বর্তমান চেয়ারম্যান বিএনপির ইকবাল আহমদ। বিএনপি থেকে শাহীন আহমদও দলের মনোনয়ন চাইবেন। আওয়ামী লীগের বর্তমান সভাপতি লোকমান আহমদ চৌধুরী ও আলফাত হোসেন লস্করের নাম শোনা যাচ্ছে। জামায়াত থেকে গোলাম রূপবানী চৌধুরী জাভেদকে প্রার্থী করা হতে পারেন।

কানাইঘাটে বেড়েছে প্রার্থী সংখ্যা। বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান সিলেট জেলা বিএনপির সহসভাপতি আশিক উদ্দিন চৌধুরী এবারো প্রার্থী হবেন। এছাড়া কানাইঘাট উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সদর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ সিরাজুল ইসলাম, সিলেট জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রশীদ মামুন, সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের উপপ্রচার সম্পাদক সাতবাঁক ইউপি চেয়ারম্যান মোস্তাক আহমদ পলাশ, কানাইঘাট উপজেলা পরিষদের বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান সাবেক ছাত্রনেতা জাহাঙ্গির আলম রানা, জমিয়তে উলামার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বড়চতুল ইউপি চেয়ারম্যান মাওলানা আবুল হোসাইন চতুলী, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সংসদের সাবেক ধর্মবিষয়ক সম্পাদক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি গবেষণারত খায়ের উদ্দিন চৌধুরী, যুক্তরাজ্য যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শামীম আহমদ, যুক্তরাজ্য প্রবাসী আওয়ামী লীগ নেতা শামসুজ্জামান বাহার প্রার্থী তালিকা রয়েছে। এছাড়া জামায়াত থেকে চেয়ারম্যান পদে লড়তে তৎপরতা চালাচ্ছেন সিলেট জেলা জামায়াতের আমীর হাফিজ আনোয়ার হোসাইন খান, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রনেতা মুহাম্মদ আব্দুর রহীম। চেয়ারম্যান পদে স্বতন্ত্র হয়ে লড়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি গবেষণারত সাংবাদিক এহসানুল হক জসিম।

জৈন্তাপুর উপজেলার বর্তমান চেয়ারম্যান জামায়াতের জয়নাল আবেদীন। তিনি এবারো এই উপজেলা থেকে প্রার্থী হচ্ছেন। তবে বিএনপি থেকে সভাপতি এনায়েত উল্লাহ, মুহিবুল হক মুহিব ও যুগ্ম সম্পাদক জাকারিয়া আহমদ চেয়ারম্যানের নাম শোনা যাচ্ছে। আওয়ামী লীগের প্রার্থী তালিকায় রয়েছেন ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কামাল আহমদ, সাধারণ সম্পাদক এম লিয়াকত আলী ও যুগ্ম সম্পাদক ফয়েজ আহমদ বাবর। জাতীয় পার্টি থেকে উপজেলার আহ্বায়ক ইসমাইল আলী আশিক ও সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক বশির উদ্দিনও প্রার্থী হতে চাচ্ছেন। গোয়াইনঘাটের বর্তমান চেয়ারম্যান বিএনপির আব্দুল হেকিম চৌধুরী এবারো প্রার্থী হচ্ছেন। তার সঙ্গে দলের ভেতরে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আছেন উপজেলার সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম স্বপন, যুগ্ম সম্পাদক লুৎফুল হক খোকন। আওয়ামী লীগের কাছে এই উপজেলা এবার প্রেস্টিজ ইস্যু। এখান থেকে প্রার্থী হতে চাইছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রবীন নেতা মো. ইব্রাহিম, সাধারণ সম্পাদক গোলাম কিবরিয়া হেলাল, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ফারুক আহমদ ও পূর্ব জাফলং ইউনিয়নের চেয়ারম্যান লুৎফুর রহমান লেবু। কোম্পানীগঞ্জের বর্তমান চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগের হাজী আব্দুল বাছির এবার আর প্রার্থী হচ্ছেন না। তবে তার ছেলে আওয়ামী লীগ নেতা হাজী শামীম আহমদ এবার এই উপজেলায় নির্বাচন করছেন। তিনি দলীয় মনোনয়ন চাইবেন। দল থেকে না পেলেও স্বতন্ত্র হিসেবে প্রার্থী হবেনই। শামীম দীর্ঘদিন ধরে উপজেলা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভোটের মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। সংসদ নির্বাচনের পর থেকে তিনি নব উদ্যমে মাঠে কাজ শুরু করেছেন। এছাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আপ্তাব আলী কালা মিয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলমও প্রার্থী হতে চাইছেন। বিএনপি থেকে উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. শাহাবউদ্দিনের নাম শোনা যাচ্ছে।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর