× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ২৫ জুন ২০১৯, মঙ্গলবার

রোগীর পেট থেকে ২৮ দিন পর কাপড়ের টুকরো উদ্ধার

বাংলারজমিন

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি | ১৩ জানুয়ারি ২০১৯, রবিবার, ৮:৩৬

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ শহরের একটি প্রাইভেট ক্লিনিকে অপারেশন করার ২৮ দিন পর রুগীর পেটের মধ্যে রাখা রক্ত পরিষ্কার করা কাপড়ের টুকরা পাওয়া গেছে। গত বৃহস্পতিবার কালীগঞ্জ উপজেলার রায়গ্রাম ইউনিয়নের ভাটাডাঙ্গা গ্রামের মোশারেফ হোসেনের স্ত্রী চামেলী (২৭) খাতুনের পেট থেকে এই কাপড়ের টুকরা অপাশেনের মাধ্যমে বের করেন ঝিনাইদহ শহরে প্রাইম হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চিকিৎসক ডা. মাছুদুল হক। যা দেখে ডাক্তার নিজেই হতবাক হয়ে পড়েন। চামেলীর স্বামী মোশারফ হোসেন জানান, গত ডিসেম্বর মাসের ১৩ তারিখে কালীগঞ্জ বাসস্টান্ডের ফাতেম প্রাইভেট হাসপাতালে আমার স্ত্রীর সিজার করা হয়। আব্দুল্লাহ কাফি নামে এক চিকিৎসক চামেলিকে সিজার করেন। সিজার করে একটি মেয়ে শিশুর জন্ম হয়। তারপর আমরা তাকে বাড়ি নিয়ে যাই। কিন্তু আমার স্ত্রী সুস্থ হয় না।
পুনরায় আমরা ওই হাসপাতালে তাকে ভর্তি করি কিন্তু ৭৫ হাজার টাকা খরচ করার পরও রোগী সুস্থ না হওয়ায় গত ৮ই জানুয়ারি ফাতেমা হাসপাতাল থেকে আমাদের ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়। সদর হাসপাতালের ডাক্তাররা রোগীর অবস্থা ভালো না বলে ছাড়পত্র দিয়ে দেয়। স্বামী মোশাররফ জানান, এই অবস্থায় আমার এক আত্মীয়ের মাধ্যমে ঝিনাইদহ প্রাইম হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভর্তি করি। চিকিৎসক অপারেশন করার পর রোগীর পেটের মধ্যে রক্ত পরিষ্কার করা কাপড়ের টুকরা বের করে। একই সঙ্গে প্রায় ২ কেজির মতো দুর্গন্ধযুক্ত পুঁজ-রক্ত বের করা হয়। অপারেশনকারী ডা. মাছুদুল হকের সঙ্গে কথা বললে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন চামেলির পেটের মধ্যে রক্তমাখা গজকাপড় পাওয়া গেছে। তিনি বলেন, কালীগঞ্জের ফাতেমা ক্লিনিকে যে ডাক্তার অপারেশন করেছিল তিনি হয়তো ভুলে এই গজ রেখে সেলাই করে দেন। কালীগঞ্জের ফাতেম প্রাইভেট হাসপাতালের মালিক একরামুল হকের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, আমরা তো রোগী সুস্থ করেই বাড়ি পাঠিয়েছিলাম। কিন্তু বাড়িতে রোগী ঠিকমতো ওষুধ সেবন না করায় তার ইউট্রাস ইনফেকশন হয়। চামেলিকে অপারেশনকারী ডাক্তার আব্দুল্লাহ কাফী জানান, আমি কালীগঞ্জে অনেক দিন অপারেশন করিনি। অনেক সময় কালীগঞ্জের ক্লিনিক মালিকরা এ ধরনের অপকর্ম করে আমার নাম বলে চালিয়ে দেয়। এই প্রসঙ্গে ঝিনাইদহ সিভিল সার্জন রাশেদা সুলতানা বলেন ঘটনা আমি জানি না। তবে পেটের মধ্যে যদি গজ পাওয়ার ঘটনা সত্য হয় তবে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।  

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর