× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ২৫ জুন ২০১৯, মঙ্গলবার

নাহিদকে নিয়ে জল্পনার ইতি টানলেন সরওয়ার

এক্সক্লুসিভ

ওয়েছ খছরু, সিলেট থেকে | ১৩ জানুয়ারি ২০১৯, রবিবার, ৯:০১

জল্পনার ইতি টানলেন সরওয়ার হোসেন। সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদকে নিয়ে তিনি একটি ফেসবুক স্ট্যাটাস দিয়েছেন। বলেছেন, ‘নাহিদ ভাইকে সমাজে ছোট কিংবা বড় করে দেখানো থেকে বিরত থাকুন।’ আর এ স্ট্যাটাসের পর থেকে থেমে গেছে জল্পনাও। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ওঠা ঝড়ও কমে এসেছে।
সিলেটের দুই স্বচ্ছ রাজনীতিক ২০০৮ সাল থেকেই দায়িত্ব পালন করেছেন গুরুত্বপূর্ণ দুটি মন্ত্রণালয়ে। এর মধ্যে সিলেট-১ আসন থেকে নির্বাচিত এমপি আবুল মাল আবদুল মুহিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী ও সিলেট-৬ আসন থেকে নির্বাচিত এমপি নুরুল ইসলাম নাহিদ ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী। বিগত ১০ বছরে দায়িত্ব পালনের পর সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত নিজ থেকেই জনপ্রতিনিধি, মন্ত্রী থেকে অবসর নেন। ফলে সিলেট-১ আসনে এবার আর তিনি নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামেননি।
এ আসনে তার ছোট ভাই ড. একে আব্দুল মোমেন নৌকার প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করেন। এবং এমপি নির্বাচিত হয়ে তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হয়েছেন।

সিলেট-৬ আসনে নৌকার প্রার্থী হয়ে এবারো এমপি নির্বাচিত হন নুরুল ইসলাম নাহিদ। শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালেই তিনি এমপি নির্বাচিত হওয়ায় তাকে ঘিরে আগ্রহ বাড়ে কর্মী-সমর্থকদের। মন্ত্রিত্ব তো পাচ্ছেন- এমন ধারণা ছিল সবার। কিন্তু মন্ত্রিসভা থেকে বাদ পড়লেন নাহিদ। এরপর থেকে তাকে নিয়ে নানা আলোচনা শুরু হয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। তিনি আবার মন্ত্রী হচ্ছেন এমন ইঙ্গিত দিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন অনেকেই। আবার মন্ত্রিত্ব থেকে বাদ পড়ায় তাকে নিয়ে সমালোচনায় মেতে উঠেন সমালোচকরা। এমনকি এলাকায় তার বিরোধীরা মিষ্টি বিতরণও করেন।

নুরুল ইসলাম নাহিদের সঙ্গে এবার সিলেট-৬ আসনে দলীয় মনোনয়নে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলেছিলেন কানাডা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি সরওয়ার হোসেন। শেষ পর্যন্ত নৌকার টিকিট পান নাহিদই। এদিকে নির্বাচনের দিন থেকেই তিনি অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। ফলে নির্বাচন পরবর্তী অনেক ঘটনাই ছিল তার অজানা। সম্প্রতি সুস্থ হয়ে তিনি বাসায় ফিরেই নিজের ফেসবুক আইডিতে এক স্ট্যাটাসে সকল জল্পনার ইতি ঘটিয়েছেন। সরওয়ার হোসেন তার স্ট্যাটাসে সব মহলকে সংযত থেকে প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় সভানেত্রীর সিদ্ধান্তকে সম্মান জানানোর আহবান জানিয়েছেন।

ফেসবুকে সরওয়ার হোসেন স্ট্যাটাস দেয়ার কারণ উল্লেখ করে জানান- ‘নুরুল ইসলাম নাহিদ মন্ত্রিসভা থেকে বাদ পড়াতে গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজারের বিভিন্ন ইউনিয়নের নেতারা মিষ্টি বিতরণ ও উল্লাস করছেন। আবার কেউ কেউ 
নতুন শিক্ষা মন্ত্রী ডা. দিপু মনিকে অভিনন্দন জানাচ্ছেন। কিছু অতি উৎসাহী লিখছেন নাহিদ ভাই জনশাসনমন্ত্রী হচ্ছেন। আবার কেউ লিখছেন রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন। লিখাগুলো পড়ে কিছু কথা বলতে বাধ্য হলাম।’ তিনি লিখেন- ‘২০০৬ সালে আমাদের নেত্রী নাহিদ ভাইকে নমিনেশন দেন নাই। তখন নাহিদ ভাইসহ আমরা অনেক অনুনয়-বিনয় করেও নমিনেশন নিতে পারি নাই। আবার ২০০৮ সালে আমাদের নেত্রী আমাকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন নির্বাচন করবে কি-না। আমি নেত্রীকে উত্তরে বলেছিলাম, আমার সময় হয় নাই। আমাদের নাহিদ ভাইকে নমিনেশন দেন। আমাদের গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজার উপজেলাবাসী খিলাফতের মাওলানা হাবিবুর রহমানকে গ্রহণ করবে না এবং ২০০৮ সালে আমাদের নেত্রী নাহিদ ভাইকে নৌকা মার্কা দিয়ে নমিনেশন দিয়েছিলেন।’

তিনি উল্লেখ করেন- ‘আমাদের নেত্রী সরকার গঠন করে আমাদের প্রতিনিধি নাহিদ ভাইকে টানা ১০ বছর শিক্ষামন্ত্রী উপহার দিয়েছিলেন। আমি মনে করি সফলতার সহিত তিনি মন্ত্রণালয়ের কাজ করেছেন। এবার আমি গত ৫টি বছর এলাকায় কাজ করেছি এবং নির্বাচনে নমিনেশন চেয়েছিলাম। সিদ্ধান্তের মালিক জননেত্রী শেখ হাসিনা। কিন্তু নমিনেশন নাহিদ ভাইকেই দিয়েছেন। আমি বঙ্গবন্ধুর আদর্শের একজন সৈনিক হিসেবে নেত্রীর সিদ্ধান্তকে মেনে নিয়েছি। এবার নতুন মন্ত্রিপরিষদে সাবেক সফল পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দিপু মনিকে শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব দিয়ে নুরুল ইসলাম নাহিদ ভাইকে বাদ দিয়েছেন। এটাও আমাদের নেত্রীর সিদ্ধান্ত। সারা জীবন কেউই মন্ত্রী বা এমপি থাকেন না।

সফলতা এবং ব্যর্থতা থাকেই। আমাদের যারা (ঋ.ই) তে লিখালেখি করছেন সবাইকে বলছি আপনারা নেত্রীর সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান ও শ্রদ্ধা রেখে আমাদের সবার জনপ্রতিনিধি এমপি নাহিদ ভাইকে কেউ সমাজে ছোট করে দেখানোর বা কেউ বড় করে দেখানোর চেষ্টা থেকে বিরত থাকুন। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আপনাদের কাছ থেকে ভালো কিছু শিখা বা জানার আশা করে। রাজনীতিতে প্রতিযোগিতা থাকতে পারে। কিন্তু নোংরামি ঠিক নয়। কেউ কাউকে অসম্মানিত করলে আল্লাহ তাকেই অসম্মানিত করবেন।’

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর