× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ২৫ জুন ২০১৯, মঙ্গলবার

যবিপ্রবিতে শিক্ষক-ছাত্রলীগ মুখোমুখি

বাংলারজমিন

স্টাফ রিপোর্টার, যশোর থেকে | ১৩ জানুয়ারি ২০১৯, রবিবার, ৯:০৭

উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস। একজন সিনিয়র শিক্ষককে ছাত্রলীগের সাবেক এক নেতা কর্তৃক হত্যার হুমকির প্রতিবাদে আন্দোলনে শিক্ষক কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। এই হত্যার হুমকির সুষ্ঠু বিচার না হওয়া পর্যন্ত ক্লাস, পরীক্ষাসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ধরনের প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছেন শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। অন্যদিকে অভিযুক্ত একজন শিক্ষককে বহিষ্কারের দাবিতে রাজপথে নেমেছেন ছাত্রলীগের ব্যানারে শিক্ষার্থীরা। ফলে শিক্ষক কর্মকর্তা আর কর্মচারীদের মুখোমুখি অবস্থানে শিক্ষার্থীরা। এই দুই পক্ষের মুখোমুখি অবস্থানের কারণে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে গোটা ক্যাম্পাসে। উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে গোটা ক্যাম্পাস। যে কোন সময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশংকায় ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
এদিকে শিক্ষককে ছাত্রলীগ নেতা কর্তৃক হত্যার হুমকির ঘটনা তদন্তে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের আশ্বাস দিয়েছেন ভিসি ড. আনোয়ার হোসেন। গতকাল  বিশ্ববিদ্যালয় কনফারেন্স রুমে এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এই আশ্বাস প্রদান করে যারা যশোর শহরে বসে বিশ্ববিদ্যালয়কে অশান্ত করার হীন চেষ্টা করছেন তাদেরকে কঠোর হস্তে দমন করার জন্য সরকার ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ২১ লাখ টাকার ফার্নিচার সরবরাহকে কেন্দ্র করে জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন বিপুল বিশ্ববিদ্যায়ের প্রভোস্ট ও রিজেন্ড বোর্ডের সদস্য  সিনিয়র শিক্ষক ড. ইকবাল কবির জাহিদকে মোবাইল ফোনে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। এক পর্যায়ে তিনি প্রফেসর ড. জাহিদকে হত্যার হুমকি দেন বলে একটি মোবাইল কল রেকর্ড শুনিয়ে ড. জাহিদ সাংবাদিকদের কাছে এসব অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা বিপুল বেনামে বিশ্ববিদ্যালয়ের টেন্ডারে অংশ নিয়ে  ২১ লাখ টাকার ফার্নিচার সরবরাহ করে। যা অত্যন্ত নিম্ন মানের। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ওই নিম্ন মানের ফার্নিচার বুঝে  নিয়ে  বিল ছাড় না করার কারনে তিনি ড. ইকবাল কবির জাহিদকে হত্যার হুমকি দিয়েছেন। একই সাথে এই ঘটনা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে তিনিগত সংসদ নির্বাচনের কাজে ব্যবহৃত নৌকা প্রতীক ক্যাম্পাস থেকে সরিয়ে ফেলার ঘটনাকে পুঁজি করে একটি মনগড়া বক্তব্য তৈরী করে একজন সিনিয়র শিক্ষককে হত্যার হুমকি প্রদানসহ তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেছেন। যা কখনো কারোর কাম্য নয়। এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক কর্মকর্তা কর্মচারী আন্দোলনে নামতে বাধ্য হয়েছেন। এদকে উত্থাপিত অভিযোগ সম্পর্কে যোগাযোগ করা হলে জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন বিপুল বলেন, এসবই মিথ্যা অভিযোগ। তিনি কোন দিন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন কাজের ঠিকাদার ছিলেন না। ২১ লাখ টাকার ফার্নিচার সরবরাহের ঘটনা তিনি এই প্রথম শুনলেন। তিনি বলেন, শিক্ষক ডঃ ইকবাল কবির জাহিদ রাজাকার পরিবারের সদস্য। তিনি ছাত্রজীবনে শিবির করতেন। তার চাচা বিএনপি করেন। তিনি ড্যাবের নেতা। তার পরিবারের সদস্যরা এখনো জামায়াতের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দেয়ার পর থেকে তিনি ছাত্রলীগকে সহ্য করতে পারেন না। নৌকা প্রতীককে তিনি অপমান করেছেন। তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে এই সাবেক ছাত্র নেতা দাবি করেন।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর