× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ১৭ জানুয়ারি ২০১৯, বৃহস্পতিবার

কড়া নিরাপত্তায় কিশোরগঞ্জ নতুন কারাগারে বন্দি স্থানান্তর

বাংলারজমিন

স্টাফ রিপোর্টার, কিশোরগঞ্জ থেকে | ১৩ জানুয়ারি ২০১৯, রবিবার, ৯:০৯

কিশোরগঞ্জ শহরতলীর খিলপাড়া এলাকায় নবনির্মিত কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগারে বন্দি স্থানান্তর কার্যক্রম শেষ হয়েছে। শনিবার সকাল ৭টা থেকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে নতুন কারাগারে বন্দিদের নিয়ে যাওয়া হয়। গত বছরের পহেলা নভেম্বর ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নবনির্মিত কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগার উদ্বোধন করেন। এর দুই মাস ১১ দিন পর শনিবার ৮০০ বন্দির ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন নবনির্মিত এই কারাগারটিতে বন্দি স্থানান্তর করা হলো।
সকাল ৭টায় পুরুষ বন্দিদের স্থানান্তরের মধ্যদিয়ে নবনির্মিত কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগারে বন্দি স্থানান্তরের কার্যক্রম শুরু হয়। ৮টি প্রিজন ভ্যানে করে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে নবনির্মিত কারাগারে বন্দিদের নিয়ে যাওয়া শুরু হয়। এই ৮টি প্রিজন ভ্যান মোট ৩৬টি ট্রিপের মাধ্যমে পুরাতন কারাগারের মোট ১ হাজার ৩৮৪ জন বন্দিকে নতুন কারাগারে নিয়ে যায়। দুপুর পৌনে ২টায় মহিলা বন্দিদের স্থানান্তরের মধ্য দিয়ে স্থানান্তর কার্যক্রম শেষ হয়। এর আগে শুক্রবার রাতে নবনির্মিত কারাগারের পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ নেয় কারা কর্তৃপক্ষ।
রাতেই শহরের গাইটাল বটতলা এলাকার পুরাতন কারাগার থেকে মালামাল স্থানান্তর করা হয় নতুন কারাগারে। এ ছাড়া বন্দিদের স্থানান্তরের জন্য কারাগারে আটক বন্দিদের সঙ্গে তাদের আত্মীয়স্বজনসহ সকলের সাক্ষাৎ কার্যক্রম শুক্রবার ও শনিবার বন্ধ রাখা হয়।
বর্তমানে কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগারে বন্দির সংখ্যা ১ হাজার ৩৮৪ জন। এর মধ্যে নারী বন্দি ৩৮ জন এবং পুরুষ বন্দি ১ হাজার ৩৪৬ জন। ৮০০ বন্দির ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন নবনির্মিত কারাগারটিতে ৭৫০ জন পুরুষ ও ৫০ জন মহিলা বন্দির ধারণক্ষমতা রয়েছে। বন্দি স্থানান্তর কার্যক্রম নির্বিঘ্ন করতে শহরতলীর খিলপাড়া এলাকার নতুন এবং শহরের গাইটাল বটতলা এলাকার পুরাতন কারাগারে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়। সকাল থেকে পুরাতন কারাগার থেকে নতুন কারাগার পর্যন্ত বিভিন্ন পয়েন্টে পুলিশ মোতায়েন করা হয়। এরপর পুলিশের চৌকস দলের নেতৃত্বে বন্দিদের নিয়ে যাওয়া হয়। ১৯৪৮ সালে শহরের গাইটাল বটতলা এলাকায় মহকুমা কারাগারের যাত্রা শুরু হয়। ১৯৮৪ সালে কিশোরগঞ্জকে জেলা ঘোষণার পর এটি জেলা কারাগার হিসেবে উন্নীত হয়। ২৪৫ জন বন্দির ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন এই কারাগারে ২৩৩ জন পুরুষ ও ১২ জন মহিলা বন্দির ধারণক্ষমতা ছিল। ৭০ বছর পর শহরতলীর খিলপাড়া এলাকায় স্থানান্তরিত হলো কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগার।
কিশোরগঞ্জ জেলা সদরের পশ্চিমে সদর উপজেলার মারিয়া ইউনিয়নের খিলপাড়া এলাকায় কিশোরগঞ্জ-ভৈরব মহাসড়কের পাশে ২৮ একর জায়গার ওপর গণপূর্ত বিভাগের তত্ত্বাবধানে ৮০০ কয়েদি ও হাজতির ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন এই নতুন কারাগারটি নির্মাণ করা হয়েছে। এটি নির্মাণের জন্য ১৯৯৭ সালে জায়গা অধিগ্রহণ করা হয়েছিল। ২০০২ সালে কারাগারের প্যারিমিটার ওয়াল নির্মিত হয়েছিল। পরবর্তীতে ২০১১ সালে বাদ বাকি স্থাপনা নির্মাণ, আসবাবপত্রসহ সামগ্রিক কাজের প্রকল্প ব্যয় ধরা হয় ৬৮ কোটি ৩৮ লাখ ৩৬ হাজার টাকা। গত বছরের ৩০শে জুন কারাগারটি কারা কর্তৃপক্ষ বরাবরে বুঝিয়ে দেয়ার কথা থাকলেও কারাগারের সামগ্রিক নির্মাণকাজ বাকি থাকায় পুরনো কারাগার থেকে কয়েদি ও হাজতিদের নতুন কারাগারে স্থানান্তর করা সম্ভব হয়নি।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর