× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ২২ এপ্রিল ২০১৯, সোমবার
জাবি শিক্ষক সমিতির নির্বাচন

আসছে নতুন জোট, পাল্টে যাচ্ছে ভোটের সমীকরণ

শিক্ষাঙ্গন

শাহাদাত হোসাইন স্বাধীন, জাবি প্রতিনিধি | ১৫ জানুয়ারি ২০১৯, মঙ্গলবার, ৬:১০

আগামী ৩১ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির নির্বাচন। গত ৯ জানুয়ারি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক এ কে এম আবুল কালাম। তফসিল ঘোষণার পরপরই বিশ্ববিদ্যালয়ে সক্রিয় শিক্ষক সংগঠনগুলো নির্বাচনী প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে। নির্বাচনকে সামনে রেখে পাল্টে যাচ্ছে দলীয় রাজনীতির সমীকরণ।

ইতিমধ্যে ভিসি অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের পুনঃনিয়োগ নিয়ে গত বছর থেকে আওয়ামীপন্থী শিক্ষকরা দু’ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েন। আওয়ামীপন্থীদের সংগঠন বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ ভেঙ্গে ভিসিপন্থীরা ‘বঙ্গবন্ধু-আদর্শের শিক্ষক পরিষদ’ নামে নতুন দল গঠন করেন। গত বছরের নির্বাচনে এই পরিষদ জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের কৌশলী সমর্থনে সভাপতি, সহ-সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ ৮ টি পদে জয়লাভ করেন।

কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে আইআইটির পরিচালক নিয়োগসহ বেশ কয়েকটি ইস্যুতে বর্তমানে ভিসির সঙ্গে বিএনপিপন্থীদের দূরত্ব তৈরী হয়েছে। তাই ভোটের সমীকরণে এবার উল্টো অবস্থান নিয়েছে বিএনপিপন্থী শিক্ষকরা। ভিসিবিরোধী বলে পরিচিত প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের সাথে জোটগতভাবে নির্বাচনে যাচ্ছে বিএনপিপন্থী শিক্ষকরা।
প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের নির্বাচন প্রস্তুতির হালচাল অনুসন্ধানে জানা যায়, সোমবার নিজেদের মধ্যে একটি সাধারণ সভার আয়োজন করেন।
যেখানে প্রায় ১৩০ জনের মতো শিক্ষক উপস্থিত ছিল বলে জানা যায়। সোমবার রাতে প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ বিএনপিপন্থীদের সাথে আরেকটি সভায় ‘সম্মিলিত শিক্ষক সমাজ’ ব্যানারে জোটগতভাবে নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নেয়। সে হিসেবে বিএনপিপন্থী শিক্ষকরা এবার ভিসি বিরোধী প্যানেলে নির্বাচন করবেন।

যোগাযোগ করা হলে প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের সাধারণ সম্পাদক ফরিদ আহমেদ মানবজমিনকে বলেন,  বিশ্ববিদ্যালয়ের সব দল-মতের শিক্ষকদের নিয়ে আমরা একটা সম্মিলিত প্যানেল দিতে যাচ্ছি। বিএনপিপন্থী শিক্ষকরা আমাদের সাথে একমত হয়েছেন। বামপন্থী শিক্ষকদের প্লাটফর্ম ‘শিক্ষক মঞ্চ’ এর সাথে কথা চলছে। আশা করি বিশ্ববিদ্যালয়ের বৃহত্তর স্বার্থে তারাও আমাদের সাথে থাকবেন। তবে জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের নেতৃবৃন্দ এখনও জোট নিয়ে মুখ খোলেনি।

শিক্ষক মঞ্চের নেতা অধ্যাপক সাঈদ ফেরদৌস বলেন, শিক্ষক সমিতি দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের ‘বি’ টিম হিসেবে কাজ করে আসছে। কিন্তু দেশ, জাতি ও রাষ্ট্রের প্রতি দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে গতিশীল ভূমিকায় দেখা যায় না শিক্ষক নেতাদের।

তবে ভিসিপন্থী শিক্ষকরাও নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন আলাদভাবে। একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে, এই প্যানেলে বঙ্গবন্ধু-আদর্শের শিক্ষক পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক আবদুল মান্নান চৌধুরীকে সভাপতি পদে এবং অধ্যাপক মোতাহের হোসেনকে সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচন করতে চুড়ান্ত ভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। গত ২৭ সেপ্টেম্বর ২৬৫ জন শিক্ষকের পক্ষে ভিসিপন্থী বঙ্গবন্ধু- আদর্শের শিক্ষক পরিষদ  প্রধানমন্ত্রীর ৭২তম জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানিয়ে বিবৃতি দেয়। পরে ২ ও ৩ অক্টোবর পাল্টা বিবৃতিতে ২৬৫ জন শিক্ষকের মধ্যে মোট ৪৬ জনকে নিজেদের সংগঠনের সদস্য বলে দাবি করেন আওয়ামীপন্থীদের অপর অংশ। তবে দোদুল্যমান অবস্থানে রয়েছেন নতুন নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকরা। এই সমীকরণে শিক্ষক সমিতির জয়-পরাজয়ে ফ্যাক্ট হয়ে উঠবে নির্দলীয় ভোটাররা। জাহাঙ্গীরনগরে এই ভোটের সংখ্যা প্রায় ১৫০ এর কাছাকাছি।

বিশ্লেষকরা বলছেন, যারাই জিতে না কেন এবার নির্বাচনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে। তাই নির্বাচনে জিততে দুই প্যানেলই শিক্ষকদের সাথে নিজেদের যোগযোগ বাড়াচ্ছেন। দুই প্যানেলই তাদের নিজেদের কৌশল নিয়ে এগোচ্ছেন।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর