× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, শুক্রবার

হামলা মামলায় জর্জরিত যবিপ্রবি

শিক্ষাঙ্গন

স্টাফ রিপোর্টার, যশোর থেকে | ২০ জানুয়ারি ২০১৯, রবিবার, ৮:৫২

হামলা মামলায় জর্জরিত যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (যবিপ্রবি)। অত্যাধুনিক সুযোগ-সুবিধা সমৃদ্ধ এই বিশ্ববিদ্যালয়টি ইতিমধ্যে একটি গবেষণাধর্মী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিশ্ব স্বীকৃতি অর্জন করলেও সাম্প্রতিক কিছু অপ্রীতিকর ঘটনা সেই অর্জনকে ম্লান করে দিচ্ছে। দীর্ঘ অচলাবস্থার কারণে বিশ্ববিদ্যালটিতে এখন লেখাপড়া মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। একাডেমিক ক্যালেন্ডার অনুসারে বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক কার্যক্রম পরিচালিত হলেও সরকারি ছাত্র সংগঠনের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণের কবলে পড়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া বন্ধ হবার উপক্রম হয়েছে। শুরু হয়েছে দীর্ঘ সেশনজটের। আর এসব ঘটনার প্রতিবাদ করতে গিয়ে হত্যার হুমকির শিকার হচ্ছেন একের পর এক শিক্ষক। শত শত কোটি টাকার মানহানির মামলা করা হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যাঞ্চেলরের নামে। কাল্পনিক সব ঘটনার জন্ম দিয়ে অশান্ত করা হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্ত পরিবেশকে।
র‌্যাগিংয়ের নামে বিশ্ববিদ্যালয়ে আগত নবাগত ছাত্র ছাত্রীদের যৌন হয়রানি করারও অভিযোগ উঠেছে নাম সর্বস্ব ছাত্র নেতাদের বিরুদ্ধে। যার পরিণতিতে ইতিমধ্যে বেশ কয়েকজন ছাত্রী এই বিশ্ববিদ্যালয় ত্যাগ করে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে বিভিন্ন কলেজে ভর্তি হয়েছে বলে জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের রিজেন্ট বোর্ডের সদস্য ডিন ও প্রভোস্ট প্রফেসর ইকবাল কবির জাহিদ। এছাড়া এই বিশ্ববিদ্যালয়টিকে জীবন জীবিকার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার অভিযোগ রয়েছে ছাত্রলীগ নেতাদের বিরুদ্ধে। নানা কারণে তারা এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে গিনিপিক বানিয়ে নিজেদের আখের গোছাতে ব্যস্ত। আর এসব অন্যায়ের প্রতিবাদ করায় ছাত্রলীগ নামধারী সন্ত্রাসীদের হাতে নাজেহার হচ্ছেন ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষকরা। যার সর্বশেষ শিকার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভোস্ট প্রফেসর ড. ইকবাল কবির জাহিদ। ছাত্রলীগ নামধারী সন্ত্রাসীদের বিভিন্ন অন্যয়ের প্রতিবাদ করায় সাবেক এক ছাত্রলীগ নেতা তাকে হত্যার হুমকি দিচ্ছেন বলেও তিনি অভিযোগ করেন মিডিয়া কর্মীদের কাছে। তবে এসব অভিযোগ বরাবর অস্বীকার করছে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। ২০০৯ সালে ৪টি বিষয়ে ১৬০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে যাত্রা শুরু করেছির যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। সময়ের আবর্তে বর্তমানে ৭টি ফ্যাকাল্টিতে ২৪ বিষয়ে প্রায় ৪২শ’ শিক্ষার্থী লেখা পড়া করছে এই ক্যাম্পাসে। শুরুতে এই বিশ্ববিদ্যালয়টিকে রাজনৈতিক মুক্ত ক্যাম্পাস হিসেবে ঘোষণা করলেও বছর পেরুতে না পেরুতে এখানে ছাত্রলীগ তার রাজনৈতিক কার্যক্রম শুরু করে। প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়ে ক্যাম্পাসে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের শাখা কমিটির অনুমোদন দেয় জেলা ছাত্রলীগ। এর পর পরই অন্য বেশ কয়েকটি ছাত্র সংগঠন ক্যাম্পাসে তাদের কার্যক্রম শুরুর উদ্যোগ দিলেও ছাত্রলীগসহ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বাধার কারণে তা আলোর মুখ দেখেনি। ফলে দিন দিন ছাত্রলীগ ক্যাম্পাসে একছত্র নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করতে থাকে। বিভিন্ন হলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে তারা পছন্দমতো নেতৃত্ব নির্বাচন করে। এক পর্যায়ে তারা নতুন এই বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ঠিকাদারি কাজে নিজেদের ইনভল্ব করে শুরু করে টেন্ডারবাজি। যার ফলে ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষে হত্যার শিকার হন ঢাকার ছেলে নাইমুল ইসলাম রিয়াদ এক মেধাবী ছাত্র। এ ঘটনায় ছাত্রলীগের একাংশ বাদী হয়ে অপর অংশের বেশ কয়েকজন নেতার নামে মামলা করেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এই হত্যার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট  ছাত্রলীগের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করেন। যে হত্যা মামলাটি এখনো চলমান। কাল চক্রে ছাত্রলীগ নামধারীরা আরো বেশি বেপরোয়া হয়ে ওঠে। তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের শুধু ঠিকাদারি কাজ নয়, নিয়োগ থেকে শুরু করে যাবতীয় প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে হস্তক্ষেপ করতে শুরু করে। অভিযোগ রয়েছে এই বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এমন কোন কাজ নেই যা ছাত্রলীগ নেতাদের বাদ দিয়ে করা সম্ভব। শিক্ষক নিয়োগ, কর্মকর্তা নিয়োগ, কর্মচারী নিয়োগ, উন্নয়ন কাজের টেন্ডার, ক্রয় সংক্রান্ত কাজ, ল্যাব সংশ্লিষ্ট কাজছাত্র ছাত্রী ভর্তি, হলে ছিট বণ্টন থেকে শুরু করে ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা সংক্রান্ত কাজেও ছাত্রলীগের সম্পৃক্ততা স্পষ্ট। যার কারণে দিন দিন ক্যাম্পাসের পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছিল। যার সর্বশেষ ঘটনা ঘটে চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে। যশোর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন বিপুল একটি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মোবাইল ফোনে শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও ডিন ড. ইকবাল কবির জাহিদকে মা-বোন তুলে গালিগালাজ করে। এক পর্যায়ে তিনি তাকে হত্যার হুমকি দেন। অপরদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কালেন্ডারে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি বিকৃত করার অভিযোগে জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন বিপুল বাদী হয়ে যশোরের একটি আদালতে ভিসি প্রফেসর ড. আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে ৫শ’ কোটি টাকার মানহানির মামলা করেছেন। একই সঙ্গে তার নামে অপবাদ দেয়ার অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি প্রফেসর ড. ইকবাল কবির জাহিদের নামে আরো ১০ কোটি টাকার মানহানির মামলা করেছেন। তবে এসব বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রয়েসর ড. আনোয়ার হোসেন বলেন, ক্যাম্পাসে আসলে কোনো সমস্যা নেই। শহর থেকে একটি রাজনৈতিক মহল কলকাটি নেড়ে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশকে নষ্ট করছে। তারা ব্যক্তি স্বার্থ চরিতার্থ করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ব্যবহার করছে। শিক্ষককে অপমান করছে। অবৈধ ভাবে অর্থনৈতিক সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করছে। সরকারি ছাত্রসংগঠনের নাম ব্যবহার করে এসব বহিরাগতরা যবিপ্রবি ক্যাম্পাসকে অশান্ত করছে। যার খেসারত দিতে হচ্ছে সাধারণ শিক্ষার্থীদের। তবে খুব দ্রুত এসব সমস্যার সমাধান হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর