× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ২২ এপ্রিল ২০১৯, সোমবার

ভারতে বিরোধী জোটের মুখ হবেন মমতা !

ভারত

কলকাতা প্রতিনিধি | ২১ জানুয়ারি ২০১৯, সোমবার, ৭:৫৪

কলকাতায় বিজেপি বিরোধী নেতাদের প্রায় সকলেই বলে গিয়েছেন আগে মোদী হঠাতে সকলে একজোট হয়ে নির্বাচন করা জরুরি। মমতা নিজেও বলেছেন, কে প্রধানমন্ত্রী হবেন, সেটা ভোটের পরেও ঠিক করা যেতে পারে, আপাতত বিজেপির বিরুদ্ধে একজোট হয়ে লড়াই করাটাই বড় কথা। কিন্তু মোদীর বিরুদ্ধে বিরোধী জোটের মুখ কে হবেন সেই আলোচনা স্বতস্ফূর্তভাবেই উঠে আসছে। কলকাতা থেকে ফিরে গিয়েই ডিএমকে নেতা স্ট্যালিন এবং রাষ্ট্রীয় জনতা দল নেতা তেজস্বী যাদব জানিয়েছেন, রাহুল গান্ধীকেই বিরোধীদের মুখ হিসেবে তারা দেখতে চান। তবে কলকাতা থেকে ফিরে গিয়ে কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতার পক্ষে ব্যাট ধরেছেন। সোমবার তিনি একটি সংবাদ সংস্থার সঙ্গে সাক্ষাৎকারে বলেছেন,  দেশকে নেতৃত্ব দেওয়ার সব রকম ‘ক্ষমতা’ ও ‘গুণ’ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রয়েছে। বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর ‘সাধারণ’ জীবনযাপন থেকে রাজনৈতিক দূরদর্শিতাকে দরাজ সার্টিফিকেট দিয়েছেন কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী। ব্রিগেডের সমাবেশে মঞ্চে অনেকেই মমতার স্তুতি করেছেন, তবে কুমারস্বামীর মতে, উনি (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) সাধারণের মধ্যেও সাধারণ।
দক্ষ প্রশাসক।

আমি মনে করি, মমতাজির মধ্যে দেশকে নেতৃত্ব দেয়ার সবরকম গুণ রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গকে প্রায় আট বছর ধরে পশ্চিমবঙ্গের নেতৃত্ব দিয়ে ইতিমধ্যেই তিনি সেটা প্রমাণ করে ফেলেছেন। পাশাপাশি অবশ্য বলেছেন, বিভিন্ন রাজ্যে এমন নেতা-নেত্রীরা রয়েছেন, যারা যে কোনও জাতীয় দলের নেতাদের সমান যোগ্যতাসম্পন্ন। বিরোধীজোটের মুখ হওয়ার প্রশ্নে যে চোরা¯্রােত রয়েছে সেটা কিছুদিন আগেই স্পষ্ট হয়েছে বহুজন সমাজ পার্টির নেত্রী মায়াবতীর কথায়। তিনি বলেছেন, উত্তরপ্রদেশ বড় রাজ্য, সেখান থেকেই  প্রধানমন্ত্রী হয়। এবারও সেটাই হবে। কিন্তু গত এক বছরে লাগাতার তৎপরতা চালিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেভাবে বিরোধী জোটকে এক মঞ্চে সামিল করে নেতৃত্বের প্রজ্ঞার পরিচয় দিয়েছেন, তাতে তাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চান অনেকেই। বিশেষ করে মমতার নিজের দলের ভিতর থেকে ইতিমধ্যেই দাবি উঠেছে, এবার বাঙালি প্রধানমন্ত্রী দেখতে চাই। আর সেটা যে মমতাকে সামনে রেখেই তৈরি হচ্ছে সেটা স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে। ব্রিগেডের মঞ্চে আসা জনতার মধ্য থেকেও স্লোগান শোনা গেছে মমতাকে প্রধানমন্ত্রী চাই।

এব্যাপারে বাঙালি আবেগ বেশ তপ্ত হয়ে রয়েছে। কেননা, এর আগে সিবিআইএম নেতা জ্যোতি বসুর সামনে একবার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সুযোগ এসেছিল। কিন্তু দলের শীর্ষ নেতৃত্ব তাতে সায় দেননি। ফলে অনগত সৈনিকের মত জ্যোতি বসু সরে এসেছিলেন। পরে অবশ্য তিনি দলের সিদ্ধান্তকে ঐতিহাসিক ভুল বলে আখ্যায়িত করেছিলেন তাই এবার মমতাকে নিয়ে অনেক বেশি আশান্বিত বাঙালি জনতা। দেশের অনেক প্রবীণ নেতাও বিভিণœ সময়ে মমতার হয়ে সওয়াল করেছেন। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, মমতা প্রথমে কংগ্রেস ও বিজেপিকে বাদ দিয়ে ফেডারেল ফ্রন্ট গঠনের প্রশ্নে অনেকটা এগিয়ে গিয়ে নিজে দায়িত্ব কাধে তুলে নিয়েছিলেন। এখন অবশ্য স্পষ্ট যে, কংগ্রেসকে বাদ দিয়ে জোট করে লড়াই অসম্ভব। তবে কংগ্রেস কৌশলগতভাবে প্রধানমন্ত্রী দাবিদার হওয়া থেকে নিজেদের দূরে রেখেছে। বরং রাহুল বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কাউকে সমর্থনে কংগ্রেসের কোনও আপত্তি থাকবে না।

এটা ঠিক যে বিরোধী জোটের নেতারা মুখ কে হবেন তা নিয়ে জলঘোলা করবেন না। বরং ভোট মিটে যাওয়ার পর নেতা ঠিক করা যেতে পারে, এই সিদ্ধান্তেই সকলে অবিচল তাকবেন। তবে নির্বাচনের পরে আসন সংখ্যার বিচারে বিরোধী জোটের মুখ হিসেবে মমতার নাম উঠে আসতেই পারে ভারতের রাজ্যগুলির মধ্যে উত্তরপ্রদেশেই সবচেয়ে বেশি আসন (৮০টি)। কিন্তু নমাজবাদী পার্টি ও বহুজন সমাজ পার্টি ৩৮টি করে আসন ভাগাভাগি করে নিয়েছে। সেখানে পশ্চিমবঙ্গে লোকসভার আসন সংখ্যা ৪২। এই ৪২টি আসনে জেতার লক্ষ্যে মমতার ডাক দেবার পেছনেও যে কৌশলী চাল রয়েছে সেটা অনেকেই মনে করছেন। সত্যি সত্যি যদি মমতা ৩৮টির বেশি আসন পেয়ে যান তবে তার পক্ষেই জনমত গড়ে উঠবে। অবশ্য কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী কুমারস্বামী ইঙ্গিতপূর্ণভাবে বলেছেন, ১৯৭৭ সালে ইন্দিরা গান্ধী যেভাবে বিরোধিতার মুখে পড়েছিলেন, এবারের পরিস্থিতি অনেকটা সেইরকমই। তখনও সব বিরোধীরা একজোট হয়েছিল, এবারও তাই হচ্ছে।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর