× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ২৬ মার্চ ২০১৯, মঙ্গলবার

চিকিৎসক, আবার উপস্থাপকও!

ষোলো আনা

সাইফুল ইসলাম রিয়াদ | ২৫ জানুয়ারি ২০১৯, শুক্রবার, ৯:২৯

‘আমার ছোটবেলা থেকেই শিল্পের প্রতি একটা আগ্রহ সবসময় কাজ করতো। আমার বাবা পড়াশোনার ব্যাপারে অনেক বেশি কড়া ছিলেন। এখনো তিনি অনেক কড়া স্বভাবের। তাই দেখা যেত যে, আমরা ভাই বোনরা পড়াশোনায় অনেক ভালো করতাম সঙ্গে আলাদা কিছু কাজের সঙ্গেও থাকতাম। ক্লাসে যেমন ফার্স্ট গার্ল থাকতাম ঠিক তেমনি, আমি ডিবেট করতাম, অভিনয় করতাম, নাচ করতাম, বলতে গেলে সব কিছুতেই থাকতাম।’

এক নিঃশ্বাসে এভাবেই নিজের স্বপ্ন আর বেড়ে ওঠার গল্প বলে যাচ্ছিলেন বাংলাদেশের জনপ্রিয় উপস্থাপক শ্রাবণ্য তৌহিদা। এর পাশাপাশি তিনি একজন চিকিৎসকও। দুটো কাজই করে যাচ্ছেন সমান তালে। আবার পরিবারও সামলে যাচ্ছেন পুরোদস্তুর গৃহিণীর মতো।
শিল্পের প্রতি ভালোবাসা থাকলেও ছোটবেলায় স্বপ্ন ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়বেন, মঞ্চ নাটক করবেন। কিন্তু বাবার স্বপ্ন ছিল তার মেয়ে ডাক্তার হবে।

ভীষণ মেধাবী শ্রাবণ্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল দুটোতেই ভর্তির সুযোগ পেয়েছিলেন। বাবার স্বপ্নকেই প্রাধান্য দেন তিনি। বনে যান চিকিৎসক। কিন্তু চিকিৎসক হলেও তার অস্থিমজ্জায় মিশে আছে শিল্প। উপস্থাপনার জগতে বিচরণ শুরু করেন ২০১৪ সালে। শুরু চ্যানেল ২৪ দিয়ে। এরপর দুটো শো’র উপস্থাপনা করেন। এরপর সুযোগ আসে গাজী টিভিতে ‘ক্রিকেট ম্যানিয়া’ নামে একটা অনুষ্ঠান করার। সেই থেকেই তার পথ চলা শুরু। তিনি বলেন, ‘লাইভ করাটা চ্যালেঞ্জিং। এটাতেই আমি বেশি আনন্দ পাই।’ এবারের বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের ষষ্ঠ আসরে মাছরাঙা টেলিভিশনের হয়ে মাঠে ও স্টুডিওতে নিয়মিত উপস্থাপনা করছেন। প্রতিটা ম্যাচ, প্রতিটা বল কিংবা প্রতিটা শট মানেই ভিন্ন ভিন্ন গল্প। তবুও দমে যান না এ চিকিৎসক-উপস্থাপক। ‘একেবারে শুরুর কথা বলবো, অবশ্যই সমালোচনা হয়েছে। কারণ তখন কিন্তু একজন মেয়ে প্রেজেন্টার স্পোর্টস এনালাইসিস করতেছে।

শুরুর দিকে আমাদের নিয়ে ট্রল হতো বাট থিং ইজ তখন মেনে নেয়া আর না নেয়ার ব্যাপারটাই বড় ছিল। কিন্তু সাধারণ ভুল আমরা কখনো করি নাই ‘দ্যাট ইজ দ্যা মেইন পয়েন্ট’।’ সংসার, ডাক্তারি এবং উপস্থাপনা কোনটা আপনার কাছে বেশি প্রিয়? ‘একজন পারফর্মারের কাছে এই প্রশ্নটা খুব কঠিন। বাট আমি যখন যে জায়গায় যাই তখন সেই চরিত্রতে অবস্থান করি। আমি যাই করি না কেন বিহাইন্ড দ্যা মাইন্ড আমার ব্লাডের ভেতর আমার ছেলে অলওয়েজ থাকে।’ কিন্তু যিনি সবসময় রঙিন পর্দায় তিনি চিকিৎসা পেশাটাকে সামলান কীভাবে? ‘আমি যখন রোগী দেখি তখন একদম সিম্পল হয়ে থাকি মেকাপ ছাড়া। বাট রোগীরা যখন এক্সাইটেড থাকে তখন তারাই বলে আপা আপনাকে টিভিতে দেখেছি।’ দুই জায়গার পার্থক্য তার কাছে অনেক। যখন যেখানে যান তখন সেখানকার রূপই ধারণ করেন শ্রাব্যণ্য। তিনি বলেন, ‘প্রতিটা মানুষেকেই কিন্তু পারফর্ম করতে হয়। তার নিজ নিজ অবস্থান থেকে। সো আমি যখন ডাক্তার তখন আমি টোটালি ডাক্তার, মাথায় অন্য কিছু নেই না। আবার যখন আমি টিভির সামনে আসি তখন কিন্তু আমি আর ওই জিনিসটা মাথায় রাখছি না। আমি যখন যে কাজটা করি সেটা শতভাগ ডেডিকেশন দিয়ে করি।’

বর্তমানে যারা টেলিভিশন উপস্থাপনায় এগিয়ে আছেন তার মধ্যে শ্রাবণ্য একজন। তাই তার মতো যেসব মেয়েরা উপস্থাপনায় আসতে চান তাদের জন্য কিছু টিপসও দিয়েছেন। নতুনদের প্রতি শ্রাবণ্য বলেন, ‘সত্য একটা উপদেশ দিতে চাই, উপস্থাপকের চেহারা কিন্তু সুন্দর হলেই হয় না। বা সুন্দর করে কথা বলতে পারলেই কিন্তু হবে না। আমার কাছে মনে হয় তাদের বুদ্ধিমত্তাটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। সেই সঙ্গে শুদ্ধ উচ্চারণ জানা খুবই জরুরি।’ তার মতে নিজের অবস্থানটা নিজের জানাটা খুব গুরুত্বপূর্ণ।  ট্রল করার আগে নিজেকে জেনে নেয়া উচিত বলেও মনে করেন তিনি। ‘আর ক্রিকেটের উপস্থাপনা করতে হলে ক্রিকেটের উপর স্ট্যাডি করে অবশ্যই আসতে হবে।’

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর