× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, শুক্রবার

মোদি সরকারের বিরুদ্ধে ধর্মতলায় ধরণায় মমতা

ভারত

কলকাতা প্রতিনিধি | ৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, সোমবার, ১২:১৮

নরেন্দ্র মোদি সরকারের বিরুদ্ধে ধর্মতলায় মেট্রো চ্যানেলে ধরণায় বসেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রবিবার রাত থেকেই শুরু হয়েছে এই ধরণা। সেখানে তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা-মন্ত্রীদের পাশাপাশি হাজির ছিলেন রাজীব কুমার-সহ পদস্থ পুলিশ কর্তারাও।  সরকারে থাকাকালিন মমতার এই প্রথম ধরণা।  ধরণা মঞ্চে তিনি জানিয়েছেন, এই সত্যাগ্রহ আন্দোলন অনির্দিষ্টকাল চলবে। একই সঙ্গে তিনি দলীয় কর্মীদের রাজ্যজুড়ে প্রতিবাদে সামিল হতে আহ্বান জানিয়েছেন। মোদি সরকারের হাত থেকে দেশ ও সংবিধান বাঁচানোর আন্দোলন হিসেবে মমতা একে অভিহিত করে সারা ভারতের ২১ বিরোধী দলকে ঐক্যবদ্ধ প্রতিবাদ করার আহ্বান জানিয়েছেন। ইতিমধ্যেই সর্বভারতীয় বিরোধী নেতারা মমতার আন্দোলনে সমর্থন জানিয়েছেন। বেআইনি অর্থলগ্নী সংস্থার তদন্তে ‘সহযোগিতা’ না করার অভিযোগ নিয়ে সিবিআই অফিসাররা রবিবার সন্ধ্যায় কলকাতার পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমারের বাড়িতে হানা দিতেই পরিস্থিতি জটিল আকার নিয়েছে। কলকাতা পুলিশ সিবিআই আধিকারিকদের আটকে দেবার পাশাপাশি তাদের আটক করে থানায় নিয়ে গিয়েছিলেন।
পুলিশ কর্তাদের অভিযোগ, সিক্রেট অপারেশনে এসেছিল সিবিআই। তাই আটকে দেওয়া হয়েছে। সিবিআই অবশ্য দাবি করেছে, সব নথি নিয়েই তারা সেখানে গিয়েছিলেন। এর পরেই নজিরবিহীনভাবে পুলিশ কমিশনারের বাড়িতে  ছুটে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে পদস্থ পুলিশ অফিসারদের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেছেন। এর আগে রবিবার সকালে মমতা টুইট করে কলকাতা পুলিশ কমিশনারকে বিশ্বের সেরা অফিসারদের অন্যতম বলে সার্টিফিকেট দিয়েছিলেন। সিবিআইকে তদন্তে সহযোগিতা না করা এবং রাজ্য প্রশাসনের বাধা দেবার অভিযোগে সিবিআই সোমবারই সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানাতে চলেছে। রাজ্য সরকারও পাল্টা প্রস্তুতি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে হাজির থাকবে বলে জানা গেছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশেই সিবিআই বেআইনি অর্থলগ্নী সংস্থা নিয়ে তদন্ত করছে। উল্লেখ্য, বিরোধী নেত্রী থাকাকালীন তৎকালীন বাম সরকারের বিরুদ্ধে এমন ধরণা আন্দোলন মমতা করেছেন। সর্বশেষ সিঙ্গুর আন্দোলনের সময়ে এই মেট্রো চ্যানেলেই ২৬ দিন অনশন করেছিলেন তিনি। এখন কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে পথে বসে মমতা আবার অতীতের স্মৃতি ফিরিয়ে এনেছেন। তিনি বলেছেন, কেন্দ্র এখানে রাষ্ট্রপতির শাসন জারি করলেও পরোয়া নেই। তিনি ‘দেখে নেবেন।’ মমতা অভিযোগ করেছেন, গত ১৯ জানুয়ারি কলকাতার দেশের সব বিরোধী নেতাদের নিয়ে মোদী বিরোধী সমাবেশ করার পর থেকেই অভ্যুত্থানের চেষ্টা চলছে। বিরোধীরা গোটা পরিস্থিতিকে ‘স্বাধীনতার পর বেনজির ঘটনা’ বলে উল্লেখ করে প্রশ্ন তুলেছেন, প্রধানমন্ত্রীকে হঠানোর ধর্নামঞ্চে কী করে আইপিএস অফিসাররা হাজির থাকতে পারেন? সেই সঙ্গেই প্রশ্ন উঠেছে, পুলিশ দিয়ে কর্তব্যরত সিবিআই অফিসারদের আটক করা এবং পুলিশ-কর্তাদের সঙ্গে নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর ধরনায় বসা কি সংবিধানসম্মত? সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের সাড়ে চার বছর পরেও বেআইনি অর্থলগ্নী সংস্থার তদন্তে সিবিআই পর্যাপ্ত গতি দেখায়নি বলে অভিযোগ করেছেন বিরোধীরা।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর