× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ২৬ এপ্রিল ২০১৯, শুক্রবার

সাংবাদিক রাজি’র অবিলম্বে মুক্তি দাবি সিপিজের

বিশ্বজমিন

মানবজমিন ডেস্ক | ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, রবিবার, ৩:২৯

পাকিস্তানে আটক সাংবাদিক রিজওয়ানুর রেহমান রাজি’র অবিলম্বে মুক্তি ও তার বিরুদ্ধে আনীত সব আইনি প্রক্রিয়া প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে সাংবাদিকদের অধিকার বিষয়ক সংগঠন কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস (সিপিজে)। বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল দীন নিউজের উপস্থাপক রাজি। তাকে শনিবার লাহোর থেকে গ্রেপ্তার করে নিরাপত্তা হেফাজতে নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। সিপিজের এশিয়া প্রোগ্রাম বিষয়ক সমন্বয়কারী স্টিভেন বাটলার এক রিপোর্টে বলেছেন, মত প্রকাশ, এমনকি সমালোচনামূলক মত প্রকাশ হলেও তা অপরাধ হিসেবে দেখা উচিত নয় পাকিস্তান বা অন্য কোথাও। পাকিস্তানের সংবিধানে সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতার প্রতি গ্যারান্টি রয়েছে। তাই রিজওয়ান রাজি’কে অবিলম্বে মুক্তি দেয়ার মাধ্যমেই শুধু এক্ষেত্রে ন্যায়বিচার করা যেতে পারে।
উল্লেখ্য, রিজওয়ান রাজি পাকিস্তানে ‘রাজি দাদা’ নামেও পরিচিত। তাকে শনিবার সকাল সাড়ে দশটায় নিজের বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায় বলে জানিয়েছেন তা ছেলে ওসামা রাজি।
এ সময় তার পিতাকে প্রহার করা হয়েছে। তারপর একটি কালো গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। এর পর তাকে নিয়ে ওই গাড়িটি তাদের বাড়ি থেকে দূরে চলে যায়।
সিপিজের সঙ্গে এক সাক্ষাতকারে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় তথ্যমন্ত্রী ফাওয়াদ চৌধুরী নিশ্চিত করেছেন যে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট দেয়ার কারণে ফেডারেল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এফআইএ) গ্রেপ্তার করেছে রাজিকে। ওই সব পোস্ট পাকিস্তানের প্রিভেনশন অব ইলেকট্রনিক ক্রাইমস অ্যাক্টকে লঙ্ঘন করেছে বলে তার অভিযোগ। ওদিকে কিছুক্ষণ পরে সাংবাদিক রাজির হ্যান্ডকাফ পরা ছবি ছড়িয়ে পড়ে। এফআইএ-এর সাইবার ক্রাইম উইং এফআইআরে বলেছে, টুইটার একাউন্টে বিচার বিভাগ, সরকারি প্রতিষ্ঠান ও পাকিস্তারেন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর বিরুদ্ধে মানহানিকর ও আপত্তিকর পোস্ট দিয়েছেন সাংবাদিক রাজি।
ওই এফআইআরে আরো বলা হয়েছে, সাংবাদিক রাজি ওইসব পোস্ট আপলোড করার কথা স্বীকার করেছেন এবং ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। তিনি ভবিষ্যতে এমন পোস্ট দেয়া থেকে বিরত থাকবেন বলেও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এফআইএ আরো বলেছে, তারা রাজি’র মোবাইল ফোন জব্দ করে তাতে অনুসন্ধান চালিয়েছে।
তবে প্রকৃতপক্ষে কি কারণে সাংবাদিক রাজিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তা পরিষ্কারভাবে জানা না গেলেও, এ মাসের শুরুর দিকে তিনি নিরাপত্তা রক্ষাকারীদের হাতে পাঞ্জাবে বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের সমালোচনা করেছিলেন। এতে তিনি সেনাবাহিনীর দিকে অঙ্গুলি নির্দেশ করেছিলেন। টুইটারে তিনি @RayiDada হিসেবে পরিচিত। কিন্তু শনিবার তার একাউন্ট অচল দেখা গেছে।
সাংবাদিক রাজি’র ছেলে ওসামা রাজি বলেছেন, তিনি মনে করেন তার পিতাকে একজন ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠনের জন্য তোলার পরে মুক্তি দেয়া হতে পারে বলে তিনি বিশ্বাস করেন, যদিও এ বিষয়ে কোনো নিশ্চয়তা নেই। শনিবার তিনি বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, বন্ধুদের সঙ্গে সাক্ষাত করতে বাসা থেকে বেরিয়েছিলেন আমার পিতা। তার বন্ধুরা সবাই চলে যাওয়ার পর অজ্ঞাত ব্যক্তিরা একটি কালো হোন্ডা সিভিক গাড়িতে করে আসে। তারা তাকে টেনেহিঁচড়ে গাড়িতে তুলে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। আমি গাড়ির পিছন পিছন দৌড়েছি। কিন্তু কিছু করতে পারি নি।
ওদিকে পাকিস্তানের সাংবাদিকরা বলছেন, তারা গত বছর নির্বাচনের পর থেকে ক্রমশ এক বিরূপ পরিবেশের মুখোমুখি।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর