× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ২০ এপ্রিল ২০১৯, শনিবার
৩ বছর পর রহস্য উদ্‌ঘাটন পিবিআই’র

চাকরি দেয়ার কথা বলে ঢাকায় এনে হত্যা

এক্সক্লুসিভ

স্টাফ রিপোর্টার | ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, সোমবার, ৯:৩২

গ্রামের বাড়িতে কৃষি কাজ করতেন খুলনার রূপসা থানার ২২ বছর বয়সী যুবক রাসেল। একই গ্রামে বিয়ে করেন সজল নামের আরেক যুবক। তাই দু’জনের মধ্যে বেশ সখ্য গড়ে উঠে। সজল ঢাকার কদমতলী এলাকায় থাকতেন। ভালো চাকরির লোভ দেখিয়ে রাসেলকে তিনি ঢাকায় আসার প্রস্তাব করেন। প্রস্তাবে রাজি হয়ে মায়ের কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা নিয়ে চাকরির সন্ধানে ঢাকা আসেন রাসেল। কিন্তু দীর্ঘদিন অতিবাহিত হলেও চাকরি দিতে ব্যর্থ হন সজল। তাই দু’জনের মধ্যে শুরু হয় মনোমালিন্য।
পরে রাসেলের মা মোবাইল ফোনে খবর পান তার ছেলে ছুরিকাঘাতে আহত হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা গেছেন। হাসপাতাল মর্গে গিয়ে ডান পাঁজরে পিঠের দিকে ব্যান্ডেজ অবস্থায় তার ছেলের লাশ শনাক্ত করেন। ঘটনাটি ঘটেছিল ২০১৫ সালের ১০ই অক্টোবর। এ ঘটনায় তিনি অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে কদমতলী থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। চাঞ্চল্যকর ও ক্লু-লেস এই হত্যা মামলায় তদন্তভার পড়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন-পিবিআই’র ওপর। পিবিআই দীর্ঘ তদন্ত শেষে এই হত্যা মামলায় জড়িত দু’জনকে গ্রেপ্তার করেছে। তারা হলো- বাগেরহাট জেলার মোরলগঞ্জ থানার সজল ওরফে পিচ্ছি সজল (২২) ও ঢাকার শ্যামপুরের মোহাম্মদ হোসেন বাবু ওরফে হুন্ডা বাবু।
পিবিআই সূত্র জানায়, বাগেরহাট জেলার মোরেলগঞ্জ থানার আমতলী এলাকা হতে পিচ্ছি সজল ও শ্যামপুর থানাধীন হাজীগেট ব্যাংক কলোনী থেকে হুন্ডা বাবুকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারের সময় তাদের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দুটি ছুির উদ্ধার করা হয়। পিবিআই কর্মকর্তাদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছে। সজল জানিয়েছে, সে বিভিন্ন মামলার পলাতক আসামি হওয়ায় তার শ্বশুরবাড়ি এলাকায় অবস্থান করতো। ওই সময় ভিকটিম রাসেলের সঙ্গে তার সুসম্পর্ক গড়ে উঠে। একপর্যায়ে রাসেলকে টায়ারের ফ্যাক্টরিতে চাকরি দেয়ার কথা বলে ঢাকায় নিয়ে আসে। ঢাকায় আসার পরে চাকরি দেয়ার কথা বলেও চাকরি দিতে না পারায় তাদের মধ্যে মনোমালিন্যের সৃষ্টি হয়। অপরদিকে, সজলের পরিচিত পিংকি ও পারভেজ কদমতলী ও শ্যামপুর থানা এলাকার মাদক ও অস্ত্র ব্যবসা করতো। পিংকি ও পারভেজের মধ্যে এলাকার মাদক ব্যবসার প্রভাব বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিন যাবৎ বিরোধ চলছিল। বিরোধের জের ধরে মাদক সম্রাজ্ঞী পিংকি পারভেজকে খুন করার জন্য আসামি হুন্ডা বাবু ও পিচ্ছি সজলকে ভাড়া করে। সেই মোতাবেক ২০১৫ সালের ১০ই অক্টোবর রাত আনুমানিক ১১টার দিকে পিচ্ছি সজল, হুন্ডা বাবু, জুয়েল, আল-আমিন একত্রিত হয়। সেখানে ভিকটিম রাসেলকে কৌশলে নিয়ে আসে সজল। ঘটনাস্থলে পৌঁছে তারা সবাই মিলে একত্রে ইয়াবা সেবন করে। পূর্ব-পরিকল্পনা অনুযায়ী ইয়াবা সেবন শেষে পিচ্চি সজল ও হুন্ডা বাবু তাদের কোমরে থাকা চাকু দ্বারা এলোপাতাড়িভাবে পারভেজ ও রাসেলকে আঘাত করে পালিয়ে যায়।
পিবিআই সূত্র আরো জানায়, ঘটনায় ভিকটিমের মা রাশিলা বেগম (৪০) কদমতলী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। আর খবর পেয়ে কদমতলী থানা পুলিশ মৃত রাসেলের মরদেহের সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত করে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ মর্গে প্রেরণ করে। কদমতলী থানা পুলিশ কর্তৃক তদন্ত শেষে ঘটনাটি পেনাল কোডের ৩০২/৩৪ ধারার অপরাধ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়। তবে, এই ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত সেটা উদঘাটন করা সম্ভব হয়নি। ২০১৭ সালের ১৬ই সেপ্টেম্বর কদমতলী থানা চূড়ান্ত রিপোর্ট সত্য নং-৫৯, ধারা-৩০২/৩৪ পেনাল কোড আদালতে দাখিল করেন। খুনের রহস্য উদঘাটিত না হওয়ায় চূড়ান্ত রিপোর্টের বিরুদ্ধে ভিকটিমের মা আদালতে না-রাজির আবেদন করেন। পরে আদালতের নির্দেশে মামলার তদন্তভার দেয়া হয় পিবিআইকে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়া হয় পিবিআইয়ের উপ-পরিদর্শক আল আমিন শেখকে। তদন্তভার গ্রহণ করে ক্লু-লেস রাসেল হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনের জন্য তিনি ভিকটিমের গ্রামের বাড়ি খুলনা জেলার রূপসা থানা এলাকাসহ ঢাকা মহানগরীর কদমতলী এলাকায় ব্যাপক তদন্ত করেন। পরে মামলার নিয়োজিত গুপ্তচর ও আধুনিক তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে আসামিদের গ্রেপ্তার করেন। আটক আসামি পিচ্ছি সজল ও হুন্ডা বাবুর বিরুদ্ধে খুন, ডাকাতি, হত্যা চেষ্টা ও অস্ত্রসহ একাধিক মামলা রয়েছে।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর