× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ২৪ জুলাই ২০১৯, বুধবার

‘রোহিঙ্গা সমস্যার দ্রুত সমাধান না হলে উগ্রপন্থার জন্ম হতে পারে’

শেষের পাতা

কূটনৈতিক রিপোর্টার | ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, সোমবার, ১০:১৯

রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসনে রাখাইনে একটি ‘সেইফ জোন’ গড়ে তোলার নতুন প্রস্তাব নিয়ে কাজ করছে বাংলাদেশ। গতকাল বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে রাজধানীতে দিনব্যাপী এক সেমিনারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন এ তথ্য জানান। বলেন, রোহিঙ্গা ঢলের পরপরই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘ অধিবেশনে দেয়া বক্তৃতায় রাখাইনে সেইফ জোনের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে মিয়ানমারের সঙ্গে যে সব অ্যারেঞ্জমেন্ট হয়েছে, সেখানে এটি ছিল না। এবার নতুন করে তারা ওই সেইফ জোনের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা শুরু করেছেন জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, এই প্রস্তাবটি আমরা আবার দিচ্ছি এবং নতুনভাবে দিচ্ছি। মন্ত্রী সেইফ জোনের আগের প্রস্তাবের তুলনায় এবার সুনির্দিষ্টভাবে কিছু সংযোজনেরও প্রস্তাব করেন। বলেন, আমরা চাই রাখাইনে একটি ‘সেইফ জোন’ হবে, যেখানে ভারত, চীন ও আসিয়ানের দেশগুলো রোহিঙ্গাদের দেখাশোনা করবে। কারণ, ওই রাষ্ট্র এবং রাষ্ট্রগুলোর জোটের প্রতি মিয়ানমারের আস্থা আছে।


মন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গারা ফেরত গেলে এই দেশগুলো তাদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করবে। প্রত্যাবাসন বিষয়ে তার আগের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আমলে তড়িঘড়ি করে যে অ্যারেঞ্জমেন্ট সই হয়েছিল তাতে কোনো ‘সংশোধনী’ আনা হবে কিনা- জানতে চাইলে নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ নিয়ে খোলাসা করে কিছু বলেন নি। বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির সঙ্গে রোহিঙ্গা ইস্যুকে যুক্ত করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেন বলেন, বাংলাদেশে মানবাধিকারের সবচেয়ে বড় উদাহরণ হচ্ছে ১০ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেয়া। বর্মী বর্বরতায় দিকভ্রান্ত বাস্তুচ্যুতদের সেদিন বাংলাদেশ আশ্রয় না দিলে সেখানে লাখ লাখ রোহিঙ্গা মারা যেতো। অনুষ্ঠানে দেয়া বক্তব্যেও প্রত্যাবাসনের তাগিদ দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। বলেন, এখন আমাদের এবং বিশ্ব সম্প্রদায়ের অগ্রাধিকার হচ্ছে বাস্তুচ্যুত ওই বিশাল জনগোষ্ঠীকে তাদের জন্মস্থান রাখাইনে দ্রুত ফেরত পাঠানো নিশ্চিত করা। এরা যত তাড়াতাড়ি ফেরত যাবে, ততোই মঙ্গল। বাংলাদেশে তাদের অবস্থান প্রলম্বিত হলে, দীর্ঘ সময় ধরে বাস্তুচ্যুতরা ক্যাম্পে থাকলে তাদের মধ্যে অনিশ্চয়তা বাড়বে। এতে তাদের সন্ত্রাস এবং উগ্রবাদের পকেটে পরিণত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। যা বাংলাদেশ বা মিয়ানমার নয়, এ অঞ্চল এবং গোটা বিশ্বের জন্য নতুন হুমকির সৃষ্টি করবে। মন্ত্রী দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, সর্বজনীন মানবাধিকার রক্ষায় বাংলাদেশ বরাবরই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তার দাবি বাংলাদেশের যে উচ্চ প্রবৃদ্ধি হয়েছে তার বড় কারণ হচ্ছে সুশাসন প্রতিষ্ঠা।

দেশে অন্ন-বস্ত্র-বাসস্থান ও অন্যান্য মৌলিক মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা এবং সুরক্ষায় সরকার কাজ করছে বলেও জানান তিনি। উল্লেখ্য, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও জাতিসংঘের বাংলাদেশ অফিস যুক্তভাবে ‘বাংলাদেশ এবং মানবাধিকার’ শীর্ষক ওই সেমিনারের আয়োজন করে। সেমিনারের মুখ্য আলোচ্য হয়ে ওঠে রোহিঙ্গা সংকট। পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রধান অতিথির বক্তৃতায় কোনোরকম রাখঢাক না করেই বলেন, রাখাইনে যে বর্বরতা চলছে এবং সেখানে যে মানবাধিকারের লঙ্ঘন হচ্ছে জাতিসংঘের ভাষায় যেটা এথনিক ক্লিনজিনিং আর অন্যরা বলছে জেনোসাইড বা গণহত্যা সেটার অবসানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কঠিন অবস্থান এবং সক্রিয় সহযোগিতা চায় বাংলাদেশ। সংকটের উৎপত্তি মিয়ানমারে সুতরাং এর সমাধান উৎপত্তিস্থলেই খুঁজবে বিশ্ব নেতৃত্ব, বাংলাদেশে নয়- এমনটাই আশা করে ঢাকা। দেশের অভ্যন্তরীণ মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে মন্ত্রী তার বক্তৃতায় বলেন, আইনের শাসন এবং দেশের সব মানুষের অধিকার নিশ্চিতে বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার রয়েছে। সংবিধানে এটি যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। বাংলাদেশের উন্নয়নের অধিকারকে মানবাধিকার হিসাবেও বর্ণনা করেন তিনি। বলেন, জাতিসংঘ মহাসচিবও বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রশংসা করেছেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জাতিসংঘের ঢাকাস্থ আবাসিক সমন্বয়কারী মিয়া সেপ্পো বক্তৃতা করেন। এদিকে দিনের অন্যান্য সেশনে বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি আলোচনা করেন সংঘাতময় পরিস্থিতিতে যৌন সহিংসতা বিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ দূত প্রমীলা প্যাটেন, জেনেভাস্থ ওএইচসিএইচআর-এর ফিল্ড অপারেশন অ্যান্ড টেকনিক্যাল কো-অপারেশন ডিভিশনের ডিরেক্টর জর্জেট গ্যাগনন এবং ওআইসি’র ইন্ডিপেন্ডেন্ট পার্মানেন্ট হিউম্যান রাইটস কমিশনের ভাইস চেয়ারপারসন ড. রাশিদ আল বালুসি। বক্তৃতায় তারা নিজ নিজ ফিল্ডে অর্জিত অভিজ্ঞতা শেয়ার করা ছাড়াও সর্বজনীন মানবাধিকার এবং বাংলাদেশ প্রেক্ষিত নিয়ে কথা বলেন। অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম এমপি, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মো. শহীদুল হক, আইন মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ অ্যান্ড পার্লামেন্টারি অ্যাফেয়ার্স ডিভিশনের জ্যেষ্ঠ সচিব মোহাম্মদ শহীদুল হক, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, আইন ও সালিশ কেন্দ্রসহ মানবাধিকার নিয়ে কাজ করা দেশের বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধি কথা বলেন। অনুষ্ঠানে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মিজানুর রহমান বাংলাদেশের মানবাধিকার প্রশ্নে পশ্চিমা দুনিয়ার যে ধারণা তার সঙ্গে ভিন্নমত পোষণ করেন।

একই সঙ্গে তিনি রাজনৈতিক কারণে মানবাধিকারের ব্যাখ্যা পরিবর্তনে ভুল নীতির নিন্দা করেন। ব্যাংক এবং হল-মার্কের অর্থ লোপাটকে নিয়ে সাবেক অর্থমন্ত্রীর মন্তব্য ‘৪০০০ কোটি টাকা কিছুই না’ উদ্ধৃত করে বলেন, এটা মানবাধিকারের লঙ্ঘন। তিনি ৭২-এর সংবিধানে মানবাধিকারের সংজ্ঞায় যে অসম্পূর্ণতা বা অপূর্ণতা ছিল তার সমালোচনা করতেও ছাড়েন নি। বলেন, আজকে সময় এসেছে অতীতের ভুল শোধরানোর। এ সময় তিনি ড. কামালের প্রসঙ্গও টানেন। বলেন, তিনি বঙ্গবন্ধুকে ভুল বুঝিয়েছিলেন। অবশ্য ড. মিজান সমালোচনায় ড. ইউনূস, গ্রামীণ ব্যাংক থেকে শুরু করে দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী কাউকেই ছাড় দেন নি।

 রোহিঙ্গা প্রশ্নে মানবাধিকারকর্মীদের অবস্থান: অনুষ্ঠানে দেয়া বক্তৃতায় আইন ও সালিশ কেন্দ্রের প্রধান নির্বাহী শিপা হাফিজা রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে দেরি হওয়ায় মধ্য মেয়াদি ব্যবস্থা হিসেবে সীমান্ত এলাকা থেকে তাদের অন্যত্র পুনর্বাসনের পরামর্শ দেন। জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমানও প্রায় অভিন্ন মত দেন।

নিরাপত্তা পরিষদে বিভক্তি সত্ত্বেও বিশ্ব সম্প্রদায় কাজ করছে: এদিকে সংঘাতময় পরিস্থিতিতে যৌন সহিংসতা বিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ দূত প্রমীলা প্যাটেন সেমিনারে বলেন, রাখাইন প্রশ্নে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের বিভক্তি সত্ত্বেও বিশ্ব সম্প্রদায় মিয়ানমারকে জবাবদিহির মধ্যে আনতে চাপ অব্যাহত রেখেছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, এরই মধ্যে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর (তাথমাদাও) যেসব সদস্য যৌন সহিংসতার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তাদের চিহ্নিত করার কাজ শুরু হয়েছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক সংস্থা সেখানে ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশন পাঠাচ্ছে। আন্তর্জাতিক ক্রিমিনাল কোর্ট এ নিয়ে কাজ করছে। যার প্রতি বাংলাদেশ সব ধরনের তথ্যগত সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, আমি আমার ম্যান্ডেড অনুযায়ী কাজ করছি। অন্যরাও করছেন।

এসব উদ্যোগের মধ্য দিয়ে রাখাইনে মানবাধিকার লঙ্ঘনের যে ভয়াবহতা বিশ্ববাসী লক্ষ্য করেছে তার বিচার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়ার জন্য তিনি বাংলাদেশের নেতৃত্বের প্রতি কৃতজ্ঞতা পুনর্ব্যক্ত করেন। বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের স্রষ্টা মিয়ানমার। এখানে বাংলাদেশ বোঝা শেয়ার করছে। তাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনে দ্বিপক্ষীয় চুক্তি হয়েছে। মিয়ানমারও ইউএনডিপি এবং ইউএনএইচসিআর-এর সঙ্গে চুক্তির বিষয়টি উল্লেখ করেন। বলেন, মিয়ানমারকে সময় বেঁধে দেয়ার পথেই বিশ্ব এগুচ্ছে। অনুষ্ঠানে দেয়া বক্তৃতা এবং প্রশ্নোত্তরপর্বে তিনি এসব কথা বলেন।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
পাঠকের মতামত
**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক
১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, রবিবার, ১২:২৮

সীমান্ত খোলার আগে হিসাব কসতে অনেক বড় ভুল হয়ে গেছে যা এখন দিবালোকের মত ফুঁটে উঠছে।আর তাই গুণীজনেরা বলে গেছেন ভাবিয়া করিও কাজ,করিয়া ভাবিও না।।

অন্যান্য খবর