× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ২৬ এপ্রিল ২০১৯, শুক্রবার
রয়টার্সের রিপোর্ট

বিদেশে শ্রমিক নিয়োগ দালালমুক্ত করার পরিকল্পনা

বিশ্বজমিন

মানবজমিন ডেস্ক | ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, মঙ্গলবার, ১:১৫

শ্রমিক নির্যাতন ও পাচার রোধে অসাধু নিয়োগকারী দালালদের কোণঠাসা করে ফেলার পরিকল্পনা নিয়েছে বাংলাদেশ। সার্টিফায়েড এজেন্টদের একটি তালিকা করার মাধ্যমে এমনটা করা হবে। এ স্কিম বাস্তবায়ন হলে বিদেশে শ্রমিক পাঠানোর খরচ কমে আসতে পারে। বিদেশে শ্রমিক পাঠাতে ফি হিসেবে খরচ পড়ে কয়েক হাজার ডলার। এরপরও শ্রমিকদের ওপর আছে নির্যাতন ও পাচার। তাই বাংলাদেশী শ্রমিকদের এসব অনাচার থেকে মুক্ত করার জন্য এ পরিকল্পনা নিয়েছে বাংলাদেশের সমাজকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ক মন্ত্রণালয়। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
সরকারি ডাটা উল্লেখ করে ওই রিপোর্টে আরো বলা হয়েছে, বর্তমানে দেশের বাইরে রয়েছেন ৭৫ লক্ষাধিক বাংলাদেশী।
২০১৭ সালে কমপক্ষে ১০ লাখ মানুষ বিদেশে কর্মসংস্থানে গিয়েছেন। এটা এযাবতকালের সর্বোচ্চ রেকর্ড। এ বিষয়ে সমাজকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র কর্মকর্তা রওনক জাহান রয়টার্সকে বলেছেন, এ পরিকল্পনায় রিক্রুটমেন্ট এজেন্সিগুলোকে বলা হবে তাদের হয়ে অনানুষ্ঠানিকভাবে যারা ব্রোকার হিসেবে কাজ করছে তাদের সম্পর্কে বিস্তারিত জানাতে। এ তথ্য পাওয়ার পর আমরা ওইসব নাম প্রকাশ করে দেবো। জানিয়ে দেবো সার্টিফায়েড ব্রোকারদের নাম। এতে জনগণ সচেতন হবে। এ উদ্যোগে মানবপাচার প্রতিরোধ করা যাবে।
উল্লেখ্য, বিদেশে কাজ খুঁজে পেতে বাংলাদেশের বিপুল সংখ্যক অভিবাসী নির্ভর করেন ব্রোকার বা দালালদের ওপরে। রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিচার্স ইউনিটের তথ্যমতে, ওইসব মানুষের প্রায় অর্ধেকই নানা রকম প্রতারণা ও হয়রানির শিকার হন।
গত বছর বিদেশে কর্মরত অবস্থায় প্রায় ৩৮০০ বাংলাদেশী শ্রমিক মারা যান। ২০০৫ সালের পর এটি এক বছরে মারা যাওয়া সর্বোচ্চ শ্রমিকের সংখ্যা। এতে বিদেশে শ্রমিকদের ওপর অশোভন আচরণের বিষয়ে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
এক্ষেত্রে সরকারি প্রস্তাবনার প্রশংসা করেছে অভিবাসীদের অধিকার বিষয়ক গ্রুপগুলো। তারা বলেছে, এতে গ্রামীণ অঞ্চলে অভিবাসী হিসেবে কাজ করতে যাবেন যেসব শ্রমিক তাদের জন্য সহায়ক হবে। এতে তারা প্রতারিত হবেন না। প্রতারিত হলে তারা আদালতে ন্যায়বিচার দাবি করতে পারবেন।
বাংলাদেশে এক হাজার ২ শতাধিক লাইসেন্সধারী রিক্রুটমেন্ট এজেন্সি আছে। কিন্তু তাদের বেশির ভাগই শহরে। কিন্তু জনগোষ্ঠীর বেশির ভাগই যে গ্রামে বাস করেন, তাদের ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকে এসব এজেন্সি। এমনটা বলেছেন অভিবাসীদের অধিকার বিষয়ক সংগঠন অভিবাসী কর্মী উন্নয়ন প্রোগ্রামের চেয়ারম্যান শাকিরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ওই কারণে বিদেশে কাজের সন্ধানকারীরা এসব এজেন্সির নাগাল পাওয়ার জন্য একজন দালাল ধরেন বিদেশে যাওয়ার জন্য। একই সময়ে এজেন্সিগুলোরও রয়েছে সক্ষমতায় ঘাটতি। তারাও দালালের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে।
বিদেশে কাজের সন্ধান করেন যেসব শ্রমিক তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি খরচের অন্যতম দেশ হলো বাংলাদেশ। এখানে বিদেশে যেতে হলে কিছু অভিবাসী শ্রমিককে ফি পরিশোধ করতে হয় ৮৫০০ ডলার। এমন হিসাব জাতিসংঘের। এই খরচের সবটাই যে ডকুমেন্ট বা কাগজপত্রভিত্তি তা নয়। তাই যখন কোনো শ্রমিক নির্যাতিত হয়ে দেশে ফেরেন তখন তারা আদালতের আশ্রয় নিতে পারেন না। এ কথা বলেছেন আরএমএমআরইউয়ের মেরিনা সুলতানা। তিনি আরো বলেন, এক্ষেত্রে একমাত্র ডকুমেন্ট হলো সরকারি ফি-এর রিসিপ্ট কপি। এর মাঝামাঝি যে বিপুল অংকের অর্থ লেনদেন হয় তার দায়িত্ব কেউ নেয় না। তাই এসব অর্থ কোথায় গেছে, কার হাতে গেছে তা প্রমাণের কোনো উপায় নেই।
পার্টটাইম ভিত্তিক তিনটি রিক্রুটমেন্ট এজেন্সিতে ব্রোকার হিসেবে কাজ করেন মোহাম্মদ পারভেজ। তিনি বলেন, যদি এক্ষেত্রে মধ্যস্থতাকারী ব্যক্তি (দালাল)কে সরকারি কোনো ডকুমেন্ট দেয়া হয় তাহলে প্রতারণা ও জালিয়াতি কমিয়ে আনতে তা সহায়তা করতে পারে। যদি তারা (সরকার) আমাদেরকে সরকারিকরণ করে এবং মাসিক একটি বেতন দেয় তাহলে সবার জন্যই তা শুভকর হবে। প্রতারণার পরিমাণ কমে আসবে। কারণ, তখন প্রত্যেকেই জবাব দিতে বাধ্য থাকবে।
তবে বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রটিং এজেন্সির (বায়রা) সেক্রেটারি জেনারেল শামিম আহমেদ চৌধুরী নোমান বলেছেন, রিক্রটিংয়ে মধ্যস্থতাকারীদের নিয়ন্ত্রণে আনার মধ্য দিয়ে সিস্টেমের কোনো উন্নতি হবে না। ফিও কমে আসবে না। তিনি বলেন, যদি আপনি অভিবাসীদের ফি কমাতে চান, তাহলে আপনি সিস্টেমে আরো বেশি স্টেকহোল্ডারকে যুক্ত করতে পারেন না।
এমন স্কিম অসংখ্য শ্রমিককে সহায়তা করতে পারে, যারা মোহাম্মদ মাহবুবের মতো একই রকম ভাগ্যবরণ করেন। মাহবুব বাংলাদেশের পূর্বাঞ্চলের একজন কর্মকার। তিনি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দু’বার দালালের খপ্পরে পড়েছিলেন। তাকে ভুয়া ওয়ার্ক পারমিট দেয়া হয়েছিল। তার কাছ থেকে দালালরা লুফে নিয়েছিল বিপুল অংকের অর্থ।
দুয়েক মাস আগে, যে দালাল মাহবুবের সঙ্গে এমন আচরণ করেছিল, সে তাকে ফোন করে এবং তাকে বলে, যদি তিনি মালয়েশিয়া যেতে চান তাহলে আরো টাকা দিতে হবে। মাহবুব বলেন, তাকে আমি বলে দিয়েছি- না। যথেষ্ট হয়েছে। আমার কাছে আর কোনো অর্থ নেই। আমাকে দু’বার বোকা বানানো হয়েছে। আমি জানি ওই ব্যক্তি আমাকে সত্য বলে নি।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর