× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ২৬ মার্চ ২০১৯, মঙ্গলবার

রকেট উৎক্ষেপণকেন্দ্র পুনরায় চালু করছে উত্তর কোরিয়া

বিশ্বজমিন

মানবজমিন ডেস্ক | ৭ মার্চ ২০১৯, বৃহস্পতিবার, ১০:০৬

উত্তর কোরিয়া তাদের একটি রকেট উৎক্ষেপণকেন্দ্র পুনরায় চালু করার উদ্যোগ নিয়েছে। ইতিমধ্যেই টংচাং-রিতে অবস্থিত ওই স্থাপনাটি সংস্কার করে আংশিক ব্যবহারোপযোগী করে তোলা হয়েছে। গত বছর সিঙ্গাপুরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের ঐতিহাসিক বৈঠকের পর পিয়ংইয়ং স্থাপনাটি ধ্বংস করতে শুরু করে। কিন্তু এবারের হ্যানয় সামিটের পর সেটি মেরামত করে আবারো চালু করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।  

বিবিসি’র খবরে বলা হয়েছে, পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে ডনাল্ড ট্রাম্প ও কিম জং উনের দ্বিতীয় বৈঠক ভেঙে যাওয়ার দুইদিন পর স্যাটেলাইট থেকে উত্তর কোরিয়ার ছবিটি নেয়া হয়। এতে দেখা যায়, টংচাং-রি’র ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণকেন্দ্রের ‘লঞ্চ প্যাড’ পুনঃনির্মাণ করা হয়েছে। ১৬ই ফেব্রুয়ারি থেকে ২রা মার্চের মধ্যে কোনো এক সময় এই পুনঃনির্মাণ কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, হ্যানয় সামিট ব্যর্থ হওয়ার পরই উত্তর কোরিয়া সেখানে তৎপরতা শুরু করে।
এই স্থাপনাটি উত্তর কোরিয়া স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ ও ক্ষেপণাস্ত্রের ইঞ্জিন পরীক্ষার কাজে ব্যবহার করতো। তবে এখান থেকে কখনো সরাসরি ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করা হয়নি। গত বছরের ১২ই জুন সিঙ্গাপুরের সেন্তোসা দ্বীপে ঐতিহাসিক বৈঠকে বসেন ডনাল্ড ট্রাম্প ও কিম জং উন। বৈঠকের অঙ্গীকার অনুসারে উত্তর কোরিয়া এই রকেট উৎক্ষেপণকেন্দ্রটি গুঁড়িয়ে দিতে শুরু করে। কিন্তু কয়েক মাস বাদে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় স্থবিরতা দেখা দেয়ায় কেন্দ্রটি ভেঙে ফেলার কাজ বন্ধ রাখা হয়। এই কেন্দ্র ধ্বংস করাকে দু’দেশের মধ্যে আস্থা অর্জনের পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছিল। কিন্তু এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র সতর্কবার্তা দিয়ে বলে, উত্তর কোরিয়া আরো নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে পারে। এমন পরিস্থিতিতে পিয়ংইয়ং তাদের দৃশ্যত নিরস্ত্রীকরণ কার্যক্রমে বিরতি দেয়। গত মাসে হ্যানয়ের দ্বিতীয় ট্রাম্প-কিম সামিটে এ অচলাবস্থার অবসান ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছিল। কিন্তু উভয়পক্ষের কঠোর অবস্থানে চূড়ান্ত কোনো সমঝোতা বা চুক্তি ছাড়াই মধ্যপথে ওই সামিট ভেঙে যায়। এর কয়েকদিন পরেই যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার একাধিক গোয়েন্দা পর্যবেক্ষক সংস্থা স্যাটেলাইট থেকে ধারণকৃত ছবি প্রকাশ করলো। এতে দেখা গেছে, টংচাং-রি’র সোহায় নামক স্থাপনার রকেট ‘লঞ্চ প্যাড’ পুনঃনির্মাণ কাজ অনেক দূর এগিয়েছে। গত বছরের জুলাইয়ের ছবিতে দেখা যায়, উত্তর কোরিয়া এই স্থাপনাটি গুঁড়িয়ে দিতে শুরু করেছে।

২০১২ সাল থেকে এই স্থাপনাটি উত্তর কোরিয়ার প্রধান স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। পাশাপাশি মার্কিন ভূ-খণ্ডে হামলা করতে সক্ষম এমন ক্ষেপণাস্ত্রের ইঞ্জিনও এখানে পরীক্ষা করা হয়। ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘৩৮-নর্থ’-এর ব্যবস্থাপনা সম্পাদক জেনি টাউন জানান, উত্তর কোরিয়া কখনোই এই স্থাপনাটি ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার কাজে ব্যবহার করেনি। এই স্থাপনাটি গুরুত্বপূর্ণ।  উত্তর কোরীয়রা মনে করে, এই স্থাপনাটি পুনরায় চালু করার অর্থ তাদের ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি কার্যক্রম পুনরায় শুরু করা না। বরং তারা এটিকে বেসামরিক মহাকাশ কর্মসূচি হিসেবে দেখে। আগেও এ বিষয়ে তারা নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে। জেনি টাউন বলেন, স্থাপনাটির অবকাঠামো পুনঃনির্মাণ সমঝোতা প্রক্রিয়ায় আস্থার ঘাটতির ইঙ্গিত হতে পারে।

বিবিসি’র সিউল প্রতিনিধি লরা বিকার বলেন, পুনঃনির্মাণ কার্যক্রমকে অশুভ ইঙ্গিত হিসেবে দেখা যায়। কিন্তু আমি স্যাটেলাইটে দূর থেকে ধারণকৃত ছবির বিষয়ে সবসময় সতর্ক থাকি। প্রত্যন্ত অঞ্চলে স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ কেন্দ্র পুনঃনির্মাণ নিয়ে পিয়ংইয়ংয়ে কি আলোচনা হয়েছে তা আমরা ধারণা করতে পারি না। উত্তর কোরিয়ার এই কার্যক্রম হতে পারে ওয়াশিংটনকে উস্কে দেয়ার জন্য। এর মাধ্যমে পিয়ংইয়ং ট্রাম্প প্রশাসনকে স্মরণ করিয়ে দিতে চাইছে যে, তাদের হাতে এখনো অস্ত্র তৈরির প্রযুক্তি আছে। আর এটা তারা সহজে হাতছাড়া করবে না।

 বেশির ভাগ বিশ্লেষক মনে করেন, সম্ভবত কিম জং উন ব্যালেস্টিক  ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার প্রস্তুতি নেয়ার পরিবর্তে ডনাল্ড ট্রাম্পের ধৈর্য পরীক্ষা করছেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে এমনটি হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। উত্তর কোরিয়া যদি স্থাপনাটি পুনঃনির্মাণের চেয়ে বেশি কিছু করে, সেটা হবে পরমাণু অস্ত্র ত্যাগের জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দেয়া অঙ্গীকারের লঙ্ঘন। আর এতে দেশটি মার্কিন প্রেসিডেন্টের ক্রোধের শিকার হতে পারেন। দরিদ্রপীড়িত দেশটির ওপর নতুন করে আরো অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হতে পারে। নিজের দেশে পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের কথা বলে কিম জং উন জনগণের সহানুভূতি আদায় করেছেন। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজের রাষ্ট্রনায়কোচিত ভাবমূর্তির চর্চা করেছেন। এখন নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার কার্যক্রম শুরু করে তিনি কি এতসব অর্জনকে আসলেই ঝুঁকির মুখে ফেলবেন?

মঙ্গলবার এক টিভি সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টন ইতিমধ্যেই উত্তর কোরিয়ার ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকি দিয়েছেন। তিনি বলেন, পিয়ংইয়ং তাদের পরমাণু অস্ত্র ত্যাগের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করছে কিনা, ওয়াশিংটন তার ওপর নজরদারি চালিয়ে যাবে। যদি তারা এতে অনাগ্রহী হয়, তাহলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অবস্থান খুবই পরিষ্কার। উত্তর কোরিয়া তাদের ওপর আরোপিত বিধ্বংসী অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্তি পাচ্ছে না। আমরা ওই নিষেধাজ্ঞা আরো জোরালো করার কথা ভাববো।

উত্তর কোরিয়ার ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপের ফলে নিশ্চিতভাবেই ওয়াশিংটন-পিয়ংইয়ং সমঝোতা প্রচেষ্টা হোঁচট খাবে। দু’দেশের শান্তি আলোচনাতে অচলাবস্থা দেখা দেবে। আর উত্তর কোরিয়া নতুন নিষেধাজ্ঞার প্রতিক্রিয়া সবসময় একইভাবে দেখায়।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর