× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ২৪ মে ২০১৯, শুক্রবার
রাষ্ট্রদূত নিয়োগ নিয়ে শুনানি

সৌদি আরব ইস্যুতে কড়া সমালোচনা

বিশ্বজমিন

মানবজমিন ডেস্ক | ৭ মার্চ ২০১৯, বৃহস্পতিবার, ২:৫৪

সৌদি আরবে যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী রাষ্ট্রদূত হিসেবে চার তারকাবিশিষ্ট অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল জন আবিজাইদকে মনোনয়ন দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। তারএ সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন সিনেটরা। একই সঙ্গে সৌদি আরবে মানবাধিকার পরিস্থিতি ও অন্যান্য ইস্যুতে দেশটির কড়া সমালোচনা করেছেন তারা। সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানকে আখ্যায়িত করেছেন ‘ফুল গ্যাংস্টার’ হিসেবে। সিনেট ফরেন রিলেশনস কমিটির চেয়ারম্যান জিম রিসচ সতর্ক করে দিয়ে বলেন, কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ মিত্র সৌদি আরব। তা সত্ত্বেও সেই মিত্রতা হতে হবে আমেরিকান মূল্যবোধের ভিত্তিতে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন আল জাজিরা।

ওই শুনানিতে ট্রাম্পের মনোনীত জন আবিজাইদ যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের মধ্যকার সম্পর্কের পক্ষ অবলম্বন করেন। কিন্তু সিনেটররা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেন, সৌদি আরব অপকর্ম নিয়ে মিথ্যা কথা বলে। আর ক্রাউন প্রিন্স হয়ে উঠেছেন ‘ফুল গ্যাংস্টার’। ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধ, কঠোর হস্তে কূটনীতি নিয়ন্ত্রণ, বেশ কিছু নারী সহ সমালোচকদের জেলে দেয়া ও নির্যাতন করার জন্য সৌদি আরবের কড়া নিন্দা জানান সিনেটররা। এ সময় তারা সৌদি আরবের সাংবাদিক জামাল খাসোগি হত্যার প্রসঙ্গ টেনে আনেন।
খাসোগি হত্যা নিয়ে সিনেটে এর দু’দিন আগে শুনানি হয়। তাতে নতুন কোনো তথ্য দেয়া হয় নি বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সিনেটররা। এরপরে রাষ্ট্রদূত নিয়োগ সংক্রান্ত শুনানিতে সিনেটররা জোর দিয়ে বলেন, তারা বিশ্বাস করেন সাংবাদিক জামাল খাসোগিকে হত্যার নির্দেশ দিয়েছেন সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান।

জবাবে জন আবিজাইদ বলেন, তার নিয়োগ নিশ্চিত হলে তিনি খাসোগি হত্যার বিষয়ে আরো বেশি তথ্য বের করে আনবেন। এ ছাড়া অন্যান্য মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে রিয়াদকে বাধ্য করবেন আলোচনা করতে। তিনি সিনেট ফরেন রিলেশনস কমিটির শুনাতে বলেন, দীর্ঘ মেয়াদে সৌদি আরবের সঙ্গে আমাদের শক্তিশালী ও পরিপক্ব অংশীদারিত্ব প্রয়োজন। এই সম্পর্ককে যথার্থ রাখতে হবে আমাদের স্বার্থের জন্যই।
উল্লেখ্য, ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের কড়া সমালোচক ও ওয়াশিংটন পোস্টের কলামনিস্ট জামাল খাসোগিকে গত বছর ২রা অক্টোবর তুরস্কের ইস্তাম্বুলে অবস্থিত সৌদি আরবের কনসুলেটের ভিতরে হত্যা করা হয়। এ হত্যাকে কেন্দ্র করে সৌদি আরবের মানবাধিকার নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে ওয়াশিংটন। গত মাসে কংগ্রেসের নি¤œকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদ একটি প্রস্তাব পাস করে। এতে সৌদি আরব নেতৃত্বাধীন জোটে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন বন্ধ করার কথা বলা হয়। এ উদ্যোগকে রিয়াদের জন্য একটি বড় আঘাত হিসেবে দেখা হয়।
শুনানিতে কমিটির র‌্যাংকিং সদস্য ডেমোক্রেট দলের সিনেটর বব মেন্ডেজ সৌদি আরবের সঙ্গে সম্পর্কের কৌশলগত গুরুত্ব স্বীকার করে নেন, ইরানের দিক থেকে হুমকি থাকার কারণে। তিনি বলেন, তাই বলে এইসব স্বার্থ অন্ধ করে দিতে পারে না আমাদের মূল্যবোধকে এবং আমাদের দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতার স্বার্থকে। ফ্লোরিডা থেকে নির্বাচিত রিপাবলিকান সিনেটর মারকো রুবিও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে জটিল মিত্র হলো সৌদি আরব। তিনি বলেন, তারা সবচেয়ে জটিল অংশীদার এ জন্য যে, তারা আমাদেরকে যেন বলেই দিয়েছে দেশের ভিতরে এবং বাইরে যেসব মানবাধিকার লঙ্ঘন ঘটে, তাদের ক্রাউন প্রিন্স সব বিষয়কে সহজ রাখছেন না, সে বিষয়ে আমাদেরকে নীরব থাকতে হবে। তিনি আরো বলেন, মোহাম্মদ বিন সালমান তো হয়ে উঠেছেন একজন ‘ফুল গ্যাংস্টার’। তার এ বক্তব্য পুনর্ব্যক্ত করেন সিনেটর রন জনসন।
মারকো রুবিও ক্রাউন প্রিন্সের সমালোচনায় বলেন, তিনি বেপরোয়া, নিষ্ঠুর। তার আছে শুধু উত্তেজনাকে বৃদ্ধি করার ঝোঁক, উচ্চ মাত্রায় ঝুঁকি নেয়ার ঝোঁক, পররাষ্ট্র নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক অবস্থায় যাওয়া।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর