× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ১৮ জুন ২০১৯, মঙ্গলবার

ব্রেক্সিট নিয়ে বোঝাপড়ার লক্ষণ নেই

বিশ্বজমিন

মানবজমিন ডেস্ক | ৮ মার্চ ২০১৯, শুক্রবার, ১০:৪২

ব্রেক্সিটের তিন সপ্তাহ ও ব্রেক্সিট চুক্তি নিয়ে বৃটিশ সংসদে ভোটাভুটির এক সপ্তাহ আগেও লন্ডন ও ব্রাসেলসের মধ্যে বোঝাপড়ার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। সপ্তাহান্তে সাফল্য এলে চুক্তিহীন ব্রেক্সিটের আশঙ্কা দূর হতে পারে। বৃটেন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে বিচ্ছেদকে কেন্দ্র করে অনিশ্চয়তা কাটার কোনো লক্ষণ এখনো দেখা যাচ্ছে না। এ খবর দিয়েছে ডয়েচে ভেলে। বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী টেরেসা মে আগামী ২৯ মার্চ নির্ধারিত সময় অনুযায়ী ব্রেক্সিট কার্যকর করতে চান। সেই লক্ষ্যে আগামী ১২ মার্চ তিনি সংসদে ব্রেক্সিট চুক্তি অনুমোদনের জন্য দ্বিতীয়বার চেষ্টা চালাবেন বলে জানিয়েছেন।

তবে কট্টর ব্রেক্সিপন্থিদের ভোট পেতে হলে প্রধানমন্ত্রীকে আইরিশ সীমান্তে ব্যাকস্টপ ব্যবস্থার প্রশ্নে ইইউ-র কাছ থেকে কিছু আইনসিদ্ধ ছাড় আদায় করতে হবে। সেই লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী বৃটিশ অ্যাটর্নি জেনারেল জেফ্রি কক্স-কে মঙ্গলবার ব্রাসেলসে পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু দুই পক্ষের আলোচনায় এখনো কোনো অগ্রগতি ঘটেনি বলে বুধবার জানিয়েছে ইইউ।

ইইউ-র প্রধান মধ্যস্থতাকারী মিশেল বার্নিয়ে তাঁর মুখপাত্রের মাধ্যমে বলেছেন, যে গঠনমূলক পরিবেশ সত্ত্বেও আলোচনা অত্যন্ত কঠিন ছিল।
এখনো পর্যন্ত বিচ্ছেদ চুক্তির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কোনো সমাধানসূত্র পাওয়া যায়নি। আগামী সপ্তাহান্ত পর্যন্ত আলোচনা চলবে বলে জানিয়েছেন ইইউ-র এক কর্মকর্তা। লন্ডনে প্রধানমন্ত্রীর এক মুখপাত্রও একই সুরে বলেন, যে কঠিন আলোচনা সত্ত্বেও সরকার বৃটিশ পার্লামেন্টের দাবি আদায় করার চেষ্টা চালিয়ে যাবে। উল্লেখ্য, ইইউ মূল ব্রেক্সিট চুক্তিতে কোনোরকম রদবদলের সম্ভাবনা শুরু থেকেই উড়িয়ে দিয়েছে। তবে বাড়তি এক নথির মাধ্যমে ব্যাকস্টপ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় আশ্বাস দিতে প্রস্তুত ব্রাসেলস।

এদিকে বৃটিশ সংসদের উচ্চ কক্ষ এক সর্বদলীয় প্রস্তাব পাস করে সরকারকে নতুন করে বিপাকে ফেলেছে। হাউস অফ লর্ডস ব্রেক্সিটের পর ইউরোপীয় ইউনিয়নের শুল্ক ব্যবস্থায় যোগ দিতে সরকারকে আলোচনার উদ্যোগ নিতে বলেছে। অথচ টেরেসা মে এমন পদক্ষেপের ঘোর বিরোধী। একমাত্র লেবার দল ও ক্ষমতাসীন টোরি দলের কিছু সদস্য এমন প্রস্তাবকে সমর্থন করেন। ফলে প্রধানমন্ত্রীর দুশ্চিন্তার তালিকায় নতুন একটি বিষয় যোগ হচ্ছে।

এমন প্রেক্ষাপটে নানা রকম সম্ভাব্য চিত্র উঠে আসছে। দুই পক্ষ যদি সপ্তাহান্তে ব্যাকস্টপ সংক্রান্ত কোনো বোঝাপড়া করতে সক্ষম হয়, সে ক্ষেত্রে টেরেসা মে আগামী সোমবার ব্রাসেলসে গিয়ে তা অনুমোদন করতে পারেন। তারপর বুধবার তিনি সংসদে সেই খসড়া পেশ করতে পারেন। আগামী ২১ ও ২২ মার্চ ইইউ শীর্ষ সম্মেলনে বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী ও বাকি নেতারা ব্রেক্সিটের তারিখ পেছানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। বৃটিশ সংসদ ব্রেক্সিট চুক্তি অনুমোদন করলে সেটি কার্যকর করতে কয়েক মাস বাড়তি সময় দিতে প্রস্তুত ইইউ। তবে কোনো নির্দিষ্ট কারণ ছাড়া মেয়াদ বাড়ানোর প্রশ্নে ইইউ সদস্য দেশগুলি বৃটেনের প্রতি মোটেই তেমন সহানুভূতিশীল নয়।
এমন নাজুক পরিস্থিতিতে চুক্তিহীন ব্রেক্সিটের আশঙ্কা আরও জোরালো হচ্ছে।

অন্যদিকে কট্টর ব্রেক্সিটপন্থিরাও উভয় সংকটে পড়েছেন। তাঁরা আবার ব্রেক্সিট চুক্তির বিরুদ্ধে ভোট দিলে এবং সে ক্ষেত্রে ব্রেক্সিটের তারিখ কয়েক মাস বা ২ বছর পর্যন্ত পিছিয়ে দেওয়া হলে গোটা প্রক্রিয়া অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে পারে বলে তাঁরা আশঙ্কা করছেন। বিশেষ করে দ্বিতীয় গণভোট অনুষ্ঠিত হলে ভোটাররা ইইউ-তে থেকে যাবার পক্ষে রায় দিতে পারেন। এমন ‘অঘটন' এড়াতে তাঁরা শেষ পর্যন্ত ব্রাসেলসের আশ্বাসের ভিত্তিতে ব্রেক্সিট চুক্তির পক্ষে ভোট দিতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সংলাপ ও ইতিবাচক প্রত্যাশা সত্ত্বেও চুক্তিহীন ব্রেক্সিটের প্রস্তুতি পুরোদমে চলছে। বৃটিশ বাণিজ্যমন্ত্রী লায়াম ফক্স বুধবার জানিয়েছেন, যে শুল্ক কাঠামোর এক খসড়া সম্পর্কে সরকারের মধ্যে ঐকমত্য সৃষ্টি হয়েছে। সংসদ সদস্যরা ব্রেক্সিট চুক্তি নিয়ে ভোটাভুটির আগেই সে বিষয়ে আরও জানতে চেয়েছেন। তাঁদের আশঙ্কা, সরকার শুল্কের হার একতরফাভাবে কমালে ভোক্তাদের কিছুটা সুবিধা হলেও ব্রিটিশ ব্যবসা-বাণিজ্য জগতের ক্ষতি হবে।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর