× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ২৪ মে ২০১৯, শুক্রবার

মৌলভীবাজারে মেডিকেল সনদে প্রধান সহকারীর রমরমা বাণিজ্য

বাংলারজমিন

ইমাদ উদ দীন, মৌলভীবাজার থেকে | ১১ মার্চ ২০১৯, সোমবার, ৮:৫১

 টাকা দিলেই সব রিপোর্টই পজেটিব। দ্রুত সময়ে হাতে পৌঁছে স্বাস্থ্য পরীক্ষা নিরীক্ষার সকল সনদ। ভুক্তভোগীদের এমন অভিযোগ ওই অফিসের প্রধান সহকারীর অবাধ ঘুষ বাণিজ্যের নানা তথ্য। ওই অফিসে তার ইশারা ছাড়া হয় না কাজ। তার হাতে টাকা পৌঁছালেই সবই ঠিকঠাক আর গুছালো হয় সেবাগ্রহীতাদের সেবা। এমন অনৈতিক কাজের বাস্তবতা প্রমাণসহ অভিযোগ জানালেন স্থানীয় কয়েকজন দুর্ভোগে পড়া ব্যক্তি। অভিযুক্ত ওই অফিস হলো মৌলভীবাজার সিভিল সার্জন কার্যালয়। আর অনৈতিক কাজের খাত হলো মেডিকেল সনদ। এমন বাণিজ্য ওই অফিসে রমরমা ভাবে চলছে দীর্ঘদিন থেকে। বড় অঙ্কের টাকার বিনিময়ে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ছাড়াই চলে সনদ বিক্রি। সনদ বিক্রির অলিখিত একটি ফিও নির্ধারণ করে দিয়েছেন ওই প্রধান সহকারী। তার নাম মুহাদ্দিস বক্স চৌধুরী। ৫শত থেকে ১৫শ পর্যন্ত সনদ মূল্য নির্ধারণ করে রাখা হয়েছে। ছোট বড় প্রয়োজন অনুযায়ী নির্দিষ্ট টাকা দিলেই হাতে পৌঁছায় সনদ। আর ওই তালিকা অনুযায়ী টাকা না দিলে সনদের জন্য দিনের পর দিন ঘুরেও সনদ সমস্যার সুরাহা হয় না। এমন অভিযোগ দুর্ভোগ পোহানোদের। মুহাদ্দিস বক্স চৌধুরী’র সঙ্গে রয়েছেন এই অফিসের কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও কর্মচারী। কাজের প্রয়োজনীতা উপলব্ধি করে সনদ প্রাপ্তিতে বিলম্ব ক্ষতি হবে এমনটি ভেবে অনেকেই প্রতিবাদী না হয়ে বরং তার ধার্য করা নির্দিষ্ট ফি দিয়ে কাজ সারেন। আর যারা প্রতিবাদী হন তাদের আইনের ফাঁক ফুকর দেখিয়ে করা হয় চরম হয়রানি। বিশেষ করে প্রবাসী অধ্যুষিত এজেলার বিদেশগামীরা প্রতিনিয়ত হয়রানির শিকার হচ্ছেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে ক্ষোভের অন্তনেই। তারা সংশ্লিষ্ট বিভাগে অভিযোগ দিয়েও পাচ্ছেন না তার প্রতিকার। এমন বেপরোয়া ঘুষ বাণিজ্যে অতিষ্ঠ এজেলার সেবাগ্রহীতারা। জানা যায় সরকারি চাকরি, জন্ম সদন, বিদেশগামী, এফিডেভিট ও সরকারি-বেসরকারি ট্রেনিংসহ নানা প্রয়োজনে সিভিল সার্জন অফিস থেকে মেডিকেল সনদ নিতে হয় প্রতিনিয়ত। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে মুহাদ্দিস বক্স চৌধুরী চালিয়ে যাচ্ছেন রমরমা বাণিজ্য। এছাড়া জেলার বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টার, প্রাইভেট হাসপাতাল থেকেও নিয়মিত মাসোয়ারাও দিয়ে খুশি রাখতে হয় তাকে। সংশ্লিষ্ট বিভাগের অনেকেরই সমস্যা সমাধানের নামে নানা ছুঁতায় টাকা হাতিয়ে নেন তিনি। জানা যায় ২০০৫ সালে মৌলভীবাজার অফিসে যোগদান করেন মুহাদ্দিস। যোগদানের পর থেকে অনেকটা বেপরোয়া হয়ে উঠেন তিনি। এর কারণে ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে নানা অপরাধে ২ বছর কারাভোগ করেনও তিনি। কারাগার থেকে বের হয়ে ফের চাকরিতে যোগদানের কিছুদিনের মাথায় বেপরোয়া হয়ে উঠেন মুহাদ্দিস। এ জেলায় টানা ১৪ বছরের চাকরির সময়কালে সহজ সরল মানুষের সরলতাকে কাজে লাগিয়ে আর্থিক ফায়দা লুটেছেন। জানা যায় মৌলভীবাজার টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টারে ড্রাইভিং ট্রেডে ভর্তি পরীক্ষায় ১২৩ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন এবং প্রত্যেককে আবেদন ফরমের সঙ্গে সিভিল সার্জন অফিস কর্তৃক মেডিকেল সার্টিফিকেট জমা দিতে হয়। সিভিল সার্জন অফিসে মেডিকেল সার্টিফিকেট নিতে পৌর শহরের কাজিরগাঁও এলাকার ওবায়দুল হক ইমন আসলে তার কাছ থেকে ৫শ’ টাকা রেখে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ছাড়াই মেডিকেল সনদ দেন মুহাদ্দিস। একই কাজে হয়রানির স্বীকার হন পৌর শহরের শাহ মোস্তফা রোডের বাসিন্দা ফারুক। আবেদনকারী অধিকাংশ শিক্ষাথীর কাছ থেকেই টাকা আদায় করেন মুহাদ্দিস। নাম গোপন রাখার শর্তে সদ্য প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়োগপ্রাপ্ত রাজনগর উপজেলার মুন্সিবাজার ইউনিয়নের এক শিক্ষক বলেন চাকরিতে যোগদানের সময় সিভিল সার্জন অফিস থেকে ৫শ টাকা দিয়ে মেডিকেল সনদ এনেছি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে দু’জন বিদেশগামী জানান মেডিকেল সনদ নিতে তাদের কাছ থেকে নেয়া হয়েছে ২৪শ টাকা। টাকা না দিলে সনদ পেতে দেরি হবে এবং নানা ঝামেলা পোহাতে হবে জানালে তারা ওই টাকা দিয়েই তারা রেহাই পান। এ বিষয়ে অভিযুক্ত প্রধান সহকারী মুহাদ্দিস বক্স চৌধুরী মুঠোফোনে মানবজমিনকে জানান মেডিকেল সনদে কোনো অতিরিক্ত টাকা তিনি আদায় করেন না। তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগগুলো মিথ্যা। কারা তার বিরুদ্ধে এরকম অভিযোগ তুলছে কেন তুলছে তা তিনি বুঝে উঠতে পারছেন না। যারা অভিযোগ দিয়েছেন তারা কি মিথ্যা বলছেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন ভাই সামনাসামনি আসেন বিস্তারিত কথা হবে। এ বিষয়ে সিভিল সার্জন ডা. মো. শাহাজাহান কবীর চৌধুরী মুঠোফোনে মানবজমিনকে বলেন কেউ আমাকে এরকম কোনো লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে অবশ্যই তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব। জেলা রোগী কল্যাণ সমিতির সহ-সভাপতি ও জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট মুজিবুর রহমান মুজিব বলেন যারা নাগরিকের মৌলিক অধিকারের অন্যতম জরুরি স্বাস্থ্য খাতে এরকম অবাধে ঘুষ বাণিজ্য করছেন তারা হীনম্মন্যতার পরিচয় দিচ্ছেন। আমি এমন অনৈতিক কাজের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি রাখছি যাতে তদন্ত পূর্বক এমন অসৎ কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হয়। কতেক অসাধু লোকের আচরণে পুরো বিভাগের ভাবমূর্তি ও আস্থা নষ্ট হোক এটা কারো কাম্য নয়।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর