× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ২৭ জুন ২০১৯, বৃহস্পতিবার

মাদকের বিরুদ্ধে যবিপ্রবি ভিসির যুদ্ধ ঘোষণা

বাংলারজমিন

স্টাফ রিপোর্টার, যশোর থেকে | ১১ মার্চ ২০১৯, সোমবার, ৮:৫২

মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে যবিপ্রবি কর্তৃপক্ষ। ক্যাম্পাসকে মাদকমুক্ত ঘোষণার মাধ্যমে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করায় যবিপ্রবির ভিসি ড. আনোয়ার হোসেনকে অভিনন্দন জানিয়েছেন শিক্ষক ও কর্মকর্তা কর্মচারী সমিতি। একই সঙ্গে দেশের একমাত্র গবেষণাধর্মী এই প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রকাশ্যে ধূমপান নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি মাদকাসক্ত ৮ ছাত্রকে বিশ্ববিদ্যালয় হল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। শনিবার গঠিত মাদক সেবন ও মাদকের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের চিহ্নিতকরণে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পর্যালোচনা শেষে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান যবিপ্রবির জনসংযোগ কর্মকর্তা আব্দুর রশীদ। মাদক সেবন ও মাদকের সঙ্গে প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে সংশ্লিষ্টতার দায়ে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) চার বিভাগের আটজন ছাত্রকে ছয় মাসের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মসিয়ূর রহমান হল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। গতকাল শহীদ মসিয়ূর রহমানের হলের প্রভোস্ট বডির সভায় মাদক সেবন ও মাদকের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পর্যালোচনা শেষে তাদের বিরুদ্ধে এ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়। বহিষ্কৃত ছাত্ররা হলেন- ইলেক্ট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের ২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র তানভীর মাহমুদ ফয়সাল (রোল-১২১১২১) ও তানীম আহমেদ (রোল-১২১১১৭), একই বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র মো. আক্তারাজ্জামান আপন (রোল-১৫১১২২), ইংরেজি বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র কেএম শাহেদ (রোল-১৬১৬০২), ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড প্রডাক্‌শন ইঞ্জিনিয়ারিং (আইপিই) বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র মো. ইখতিয়ার ইমাম আনান (রোল-১৬০৭০১), বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং (বিএমই) বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র দেবায়ন দাস জয় (রোল-১৬১৯৮১৮), অভিক মজুমদার (রোল-১৬১৯০৭) এবং নিলয় চন্দ্র মণ্ডল (রোল-১৬১৯১১)। এরমধ্যে তিন জন শিক্ষার্থী অনাবাসিক হওয়ায় তাদেরকে এক হাজার টাকা জরিমানাসহ ছয় মাসের মধ্যে হলে প্রবেশ ও রাত্রিযাপন নিষিদ্ধ করা হয়।
প্রভোস্ট বডির সভা থেকে জানা যায়, রুটিন কাজের অংশ হিসেবে গত ১২ই ফেব্রুয়ারি শহীদ মসিয়ূর রহমানের হলের প্রভোস্ট মো. আমজাদ হোসেনের নেতৃত্বে অন্য সহকারী প্রভোস্টগণ হল পরিদর্শনে যান। এ সময় তারা হলের ৪১২ নম্বর কক্ষে চারজন ছাত্রকে মাদক সেবনরত অবস্থায় দেখতে পান। পরের দিন হলের ১১০ নম্বর কক্ষে প্রভোস্ট বডির সদস্যরা গাঁজা সেবনের বিভিন্ন উপকরণ দেখতে পান। এ ছাড়া ওই কক্ষ তারা সারারাত ড্রাম ও উচ্চস্বরে সাউন্ডবক্স বাজিয়ে পড়াশোনার পরিবেশ বিনষ্ট করছে বলে অভিযোগ পান। গঠিত তদন্ত কমিটিও এসব ঘটনার সত্যতা পায়। পরে তদন্ত কমিটি প্রভোস্ট বডিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের রুলস অব ডিসিপ্লিন ফর স্টুডেন্টস এর পার্ট-১ এর ৩/সি অনুযায়ী অভিযুক্ত ছাত্রদের এক বছরের জন্য বহিষ্কারাদেশ দেয়া যেতে পারে বলে সুপারিশ করে।
তবে, শিক্ষার্থীদের আগামী দিনের ভবিষ্যৎ বিবেচনা এবং শোধরানোর শেষ সুযোগ দিতে প্রভোস্ট বডি বিশ্ববিদ্যালয়ের রুলস অব ডিসিপ্লিন ফর স্টুডেন্টসের পার্ট-২ এর ৬ ধারা অনুযায়ী আট শিক্ষার্থীকে ছয় মাসের জন্য হল থেকে বহিষ্কার এবং তিনজন ছাত্রকে এক হাজার টাকা জরিমানা করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। একই সঙ্গে বিষয়টি যবিপ্রবির ভিসি ড. আনোয়ার হোসেনকে অবহিত করলে তিনি গোটা ক্যাম্পাসকে মাদকমুক্ত ঘোষণা করেন। তিনি ঘোষণা দেন এই ঘটনার পর যদি অত্র ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে নতুন করে কোনো ছাত্র বা শিক্ষকের কোনো প্রকারের মাদক সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত হয় তাহলে তাকে বা তাদেরকে স্থায়ীভাবে ক্যাম্পাস থেকে বহিষ্কার করা হবে। দেশের একমাত্র গবেষণাভিত্তিক এই প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়কে বিশ্বমানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গড়ে তুলতে মাদক মুক্ত করার কোনো বিকল্প নেই বলেও মন্তব্য করেন যবিপ্রবি ভিসি ড. আনোয়ার হোসেন।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর