× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ২০ মার্চ ২০১৯, বুধবার

রাঘববোয়ালদের দখলে করতোয়া নদী

বাংলারজমিন

প্রতীক ওমর, বগুড়া থেকে | ১১ মার্চ ২০১৯, সোমবার, ৮:৫২

এক সময়ের প্রমত্তা খরস্রোতা করতোয়া নদী দখলদারদের হাতে জিম্মি হয়ে আছে। নদী ভরাট করে স্থায়ী অস্থায়ী স্থাপনা গড়ে তুলেছে অনেকেই। দিনের আলোয় প্রশাসনের চোখের সামনেই এই নদী দিনের পর দিন রাঘববোয়ালরা দখলে নিয়েছে। ফলে এই নদীর বুকে এখন বিল্ডিং আর বিল্ডিং। নদীটির বিভিন্ন স্থানে মাটি ভরাট করার ফলে একেবারেই মৃত হয়ে পড়েছে। ভরা বর্ষা মৌসুমেও হাঁটুজল থাকে এই করোতোয়ায়।
এদিকে করোতোয়া দখলের সঙ্গে জড়িত আছে বগুড়ার রাঘববোয়াল কিছু ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠান। এই তালিকার শীর্ষে আছে ঠেঙ্গামারা মহিলা সবুজ সংঘ (টিএমএসএস)।
এই সংগঠনের বিরুদ্ধে এক জায়গায় মহিষাবাথান মৌজার ১৫৫৩ নং দাগের করতোয়া নদীর ৪.৯০ একর জমি দখল করে মাটি ভরাট করে আধাপাকা ঘর তৈরি করে ক্যান্টিন ও ছাত্রাবাস হিসেবে ব্যবহার, কিছু জমি পুকুর হিসেবে ব্যবহার ও ভরাটকৃত জমিতে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ লাগিয়েছেন এবং বগুড়া শহরের নবাববাড়ী রোডে নির্মিত টিএমএসএস মহিলা মার্কেটের সঙ্গে নদী দখল করে টিনসেড ঘর তৈরি করেছে। তার বিরুদ্ধে মামলায় এভাবেই উল্লেখ রয়েছে। এদিকে মামলার বাইরে টিএমএসএস দুরদহ-মহিষাবাথান মৌজায় করোতোয়া নদীর দুটি মুখ বন্ধ করে ১০.৩৭ একর নদী ক্রমাগত দখল করছে। ইতিমধ্যেই সেখানে একটি একতলা ইটের ঘর তৈরি করেছে। অপর একটি মুখে বগুড়া পৌরসভার সঙ্গে গোপন চুক্তি করে ময়লা ফেলে ভরাট করছে। ময়লার পাশাপাশি মূল করতোয়া থেকে সারা বছর বালি তুলে করতোয়ার ওই শাখা অংশে ফেলে ভরাট করছে। ঢাকা-বগুড়া-রংপুর মহাসড়কের সঙ্গেই করতোয়ার ওই শাখা অংশে ময়লা ফেলায় প্রায় দুই বর্গ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তরও কখনো এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়নি। এদিকে প্রশাসনের কাছে দখল হয়ে যাওয়া তালিকার মধ্যে ১০.৩৭ একর জমি নেই। পানি উন্নয়বোর্ড ভূমি অফিসের কাছেও নেই। অথচ প্রকাশ্যে এনজিওটি এখানে নদীর অংশ দখল করছে। যে অংশে ময়লা আবর্জনা ফেলা হচ্ছে সেখানে বসবাসরত সাধারণ মানুষ অতি কষ্টে আছেন। তাদের অনেকের সাথেই কথা হলে তারা বলে এসব শুনে লাভ নেই। ম্যাডাম আপনাদের নিউজ করতে দেবে না। এলাকাবাসী কোথাও অভিযোগ করলেই তাদের হুমকি এমন কি বিভিন্ন ধরনের মিথ্যা মামলা দিয়ে কোনঠাসা করে রাখে। স্থানীয় শেকের কোলা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান রশিদুল ইসলাম জানান, টিএমএসএস এনজিওটি করতোয়া নদীর অনেক বড় একটা অংশ দখল করে স্থায়ী স্থাপনা গড়ে তুলেছে। প্রশাসন বিষয়গুলো জানলেও কখনোই কার্যকরী পদক্ষেপ নেইনি। তিনি আরো জানান, ওই এনজিওর বিরুদ্ধে কেউ কিছু বললে তার ওপর নানা ধরনের হুমকি দেয়া হয়। ওই সাবেক চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অসংখ্য মামলা দিয়েছে এনজিওটি। এদিকে টিএমএসএস এর বিরুদ্ধে টিএমএসএস মার্কেটের পূর্ব পাশে সূত্রাপুর মৌজার ১৭১৬ নং দাগের করতোয়া নদীর পশ্চিম পাশে মাটি ভরাট করে টিনের ছাপড়া তৈরি, গোপীনাথ মন্দির কমিটির বিরুদ্ধে সূত্রাপুর মৌজার ১৭১৬ নং দাগের করতোয়া নদীর পশ্চিম পাশে মাটি ভরাট করে আধা পাকা ঘর তৈরি করেছেন যার আংশিক নদীর জমি, বগুড়া ডায়াবেটিকস হাসপাতালের বিরুদ্ধে সূত্রাপুর মৌজার ১৭১৬ নং দাগের করতোয়া নদীর পশ্চিম পাশে নদীর ওপর পিলার নির্মাণ করে ছয়তলা বিল্ডিং নির্মাণ করেছেন। যার উত্তর পাশে ৬০ ফুট ও দক্ষিণে ৪০ ফুট অংশ নদীর ভেতরে। এছাড়াও করতোয়া নদী দখলের সঙ্গে ৩৮ ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠানের নামে মামলা হয়েছে। ওই মামলাও ধীর গতিতে চলছে। এদিকে বর্তমান সরকার দেশের বিভিন্ন নদী দখলদারের হাত থেকে উদ্ধার করতে বদ্ধ পরিকর। সেই অনুযায়ী উল্লেখযোগ্য বেশ কিছু নদীতে অভিযান চালানো হয়েছে। ফলে বগুড়াবাসীও করতোয়া রাঘববোয়াদের হাত থেকে উদ্ধার করতে সোচ্চার হয়ে উঠেছে। প্রতিদিন পরিবেশবাসী সংগঠনগুলো শহরের সাতমাথায় মানববন্ধন করছে। এ বিষয়ে টিএমএসএস-এর নির্বাহী পরিচালক হোসনে আরার সঙ্গে যোগাযোগ হলে তার একান্ত সহকারী রফিকুল ইসলাম জানান, তিনি বর্তমানে ফ্রান্সে আছেন। এ বিষয়ে অন্য কোনো কর্মকর্তা কথা বলতে রাজি হননি। এদিকে বগুড়া জেলা প্রশাসক ফয়েজ আহমেদ জানান, দখলদার যত ক্ষমতাশালীই হোক না কেন অচিরেই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে। তিনি জানান, ইািতমধ্যেই যারা করোতোয়া নদী দখল করেছে তাদের নোটিশ দেয়া হয়েছে। কিছু ব্যক্তি নোটিশের জবাব দিয়েছে অনেকেই দেয়নি। বর্তমানে জবাবগুলো নিয়ে পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর