× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ২৬ মার্চ ২০১৯, মঙ্গলবার
মানবতাবিরাধী অপরাধ

ধোবাউড়ার পাঁচ জনের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত প্রতিবেদন

এক্সক্লুসিভ

স্টাফ রিপোর্টার | ১১ মার্চ ২০১৯, সোমবার, ৯:৪৯

মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে মানবতাবিরোধী অপরাধে ময়মনসিংহের ৫ আসামির বিরুদ্ধে চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। আসামিদের তিনজন কারাগারে আছেন। বাকি দুইজন গ্রেপ্তার না হওয়ায় তাদের নাম প্রকাশ করেনি তদন্ত সংস্থা।
কারাগারে আটক তিনজন হলেন-ধোবাউড়া থানার বালীগাঁও গ্রামের মো. কিতাব আলী (৮৫), মো. রমজান আলী (৬৮), মো. আবদুল কুদ্দুছ (৬২)। তারা সবাই বিএনপির রানজনীতির সঙ্গে জড়িত।
রাজধানীর ধানমণ্ডিস্থ তদন্ত সংস্থার প্রধান কার্যালয়ে গতকাল আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তদন্ত সংস্থার প্রধান সমন্বয়ক মো. আবদুল হান্নান খান এ তথ্য জানান।
.
প্রতিবেদনে আসামিদের বিরুদ্ধে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে অপহরণ, আটক, নির্যাতন, হত্যা, লুণ্ঠন, অগ্নিসংযোগ ও দেশান্তরিত হতে বাধ্য করার অভিযোগ রয়েছে। একাত্তরের ৩০শে মে ও ৯ই সেপ্টেম্বর অপরাধ সংঘটন এবং ধোবাউড়া থানার ঘোষগাঁও ইউনিয়নের বালিগাঁও গ্রাম এবং তারাইকান্দি গ্রামে অপরাধ ঘটেছে বলে তদন্ত সংস্থা জানিয়েছে।
২০১৭ সালের ৬ই আগস্ট তদন্ত শুরু করে গত ৭ই মার্চ পর্যন্ত তদন্ত চলে। মোট সাক্ষী ২৫ জন।
তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন মনোয়ারা বেগম।
এক নম্বর অভিযোগে বলা হয়েছে-১৯৭১ সালের ৩০শে মে আসামিরা ময়মনসিংহের বর্তমান ধোবাউড়া থানাধীন বালিগাঁও গ্রামের মুক্তিযোদ্ধাদের সহায়তাকারী হিসেবে চিহ্নিত হাতেম আলী ওরফে গেন্দা মুক্তিযুদ্ধে যোগদানের জন্য ভারতে যাওয়ার প্রস্তুতিকালীন সময়ে তাকে আটক করার উদ্দেশ্যে তার বাড়িতে হামলা করে। এ সময় পলায়নরত হাতেম আলীকে তার বাড়ির উঠানে এনে অমানুষিক নির্যাতন করে। তার দুই স্ত্রী তাকে রক্ষা করতে এলে তাদের তিনজনকে একসঙ্গে গাছে বেঁধে রেখে তাদের বাড়ির মূল্যবান জিনিসপত্র লুণ্ঠন করে এবং পরে তাদের তিনজনকে হত্যার উদ্দেশ্যে ঘরে ঢুকিয়ে রেখে বাইরে থেকে আসামিরা দরজায় তালা দিয়ে চলে যায়। পরে পার্শ্ববর্তী ভারতের শিববাড়ীস্থ মুক্তিযোদ্ধা ক্যাম্পের মুক্তিযোদ্ধারা সংবাদ পেয়ে হাতেম আলীকে উদ্ধারের পর সে তার স্ত্রী-সন্তান নিয়ে দেশ ত্যাগ করে ভারতে চলে যায়। আসামিরা এ সংবাদ জানতে পেরে হাতেম আলী বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ করে।
দ্বিতীয় অভিযোগে বলা হয়েছে-১৯৭১ সালের ৯ই সেপ্টেম্বর আসামিরা তাদের সঙ্গে সশস্ত্র রাজাকার ও পাকিস্তান দখলদার বাহিনী নিয়ে ময়মনসিংহের ধোবাউড়া থানাধীন তারাইকান্দি গ্রামের শহীদ নূর মোহাম্মদ হোসেন আকন্দের বাড়িতে হামলা চালিয়ে নূর মোহাম্মদ ও তার দুই স্ত্রীকে হত্যা এবং নাতির বউকে ধর্ষণের পর হত্যা করে। এরপর একই গ্রামের মো. ইছহাক আলী, মো. জমসেদ আলী (গুনা), মো. আবদুর রাজ্জাক, মো. আবদুল হাকিমসহ পার্শ্ববর্তী এলাকার মো. সিরাজ আলী, মো. হাইদার আলী, মো. আবদুল লতিফ, মো. মীর কাশেম, মো. রমজান আলীসহ অজ্ঞাত আরো ২৮ জনসহ মোট ৪১ জনকে অপহরণ, আটক, নির্যাতন এবং ৪৫ জনকে গুলি করে হত্যা করে।
মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয় ও সহযোগিতা করার অভিযোগে তারাইকান্দি গ্রামের মাহমুদ হোসেন আকন্দ ও মিয়া হোসেন আকন্দের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ঘরের মূল্যবান জিনিসপত্র লুণ্ঠন ও মোট ২২টি টিনের ঘরে অগ্নিসংযোগ করে ধ্বংস করে।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর