× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ২৬ মার্চ ২০১৯, মঙ্গলবার

হলে হলে নিয়ন্ত্রিত ভোট

এক্সক্লুসিভ

হাফিজ মুহাম্মদ | ১২ মার্চ ২০১৯, মঙ্গলবার, ১০:১৩

সকাল ৭:৪০ মিনিট। ভোটগ্রহণ শুরু হতে তখনও ২০ মিনিট বাকি। এরই মধ্যে প্রতিটি হলের সামনে ভোটারদের দীর্ঘ লাইন। হলের মূল গেট ছাড়িয়ে লাইন রাস্তায় পৌঁছে যায়। ভোটগ্রহণ শুরু হলে ধীর গতিতে লাইন আগুতে থাকে। তবে তা কিছু সময় পর মন্থর হয়ে পড়ে। লাইনে দাঁড়ানো শিক্ষার্থীদের গলায় ঝুলানো ছাত্রলীগ প্রার্থীদের কার্ড। লাইনের কেউ কেউ ভেতরে গিয়ে ভোট দিয়ে আবার ফিরে এসে লাইনে দাঁড়ান।
দিনভর এমন চিত্র দেখা গেছে হলগুলোর প্রবেশ পথে। বেলা দুইটায় ভোট গ্রহণ শেষ হওয়ার আগেও দেখা গেছে ভোটারদের দীর্ঘ সারি। ঘোষণা ছিল লাইনে ভোটার থাকলে যত সময় লাগুক ভোট নেয়া হবে। বেলা দুইটায় হল ফটকে দীর্ঘ সারি থাকলেও হঠাৎ উধাও হয়ে যায় সেখানে থাকা শিক্ষার্থীরা। বিরোধী প্রার্থীদের অভিযোগ সকাল থেকে হলে হলে নিজেদের কর্মী-সমর্থক ও হলের আবাসিক শিক্ষার্থীদের জিম্মি করে লাইনে দাঁড়িয়ে রাখে ছাত্রলীগ। এতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের অনেকে ভোট দিতে পারেননি। সকালে ভোটগ্রহণ শুরুর সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টারদা সূর্যসেন, কবি জসীম উদ্দীন, বিজয় একাত্তর, মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের সামনে ভোটারদের সরব উপস্থিতি দেখে নির্বাচন নিয়ে সকলের মাঝে আশার সঞ্চার হয়। কিন্তু তা বেশি সময় ছিল না। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দীর্ঘ লাইন দেখে ভুল ভাঙে ভোটার ও প্রার্থীদের। সকাল থেকে যেভাবে লাইন দেখা যায় দুপুরেও থাকে একই লাইন। সিরিয়ালে দাঁড়ানো ভোটারদের চেহারাগুলোও একই। তাদের ভোট শেষ হলেও তারাই ঘুরেফিরে থাকছেন। নির্বাচনী কর্মকর্তারা বুথের নাম ধরে ধরে ঢাকলেও লাইনের সামনের ভোটারদের কেউ যান না। তাই পিছনে থাকা ভোটাররাই আগে আগে চলে যান। মাস্টারদা সূর্যসেন হল। ভোটার সংখ্যা ২১৭০। ভোট শুরুর আগেই এ হলের ভোট কেন্দ্রের লাইনে দাঁড়িয়ে যান ছাত্রলীগের কর্মীরা। তাদের প্রায় সকলের গলায় ঝুলানো দেখা যায় ছাত্রলীগ প্যানেলের কোনো না কোনো প্রার্থীর ব্যাচ। আর হলের মূল ফটকে এবং নির্ধারিত ফটকে ছাত্রলীগের হলের নেতারা দাঁড়িয়ে ছিলেন। স্বেচ্ছাসেবী স্কাউট ও বিএনসিসি সদস্যরা থাকলেও তারা থাকেন অনেকটা নীরব। তাদের কাজ থাকে শুধু দাঁড়িয়ে থাকা। বেলা বাড়লেও লাইন আর কমে না। এরইমধ্যে অনেক ভোটারকে ভিতরে প্রবেশ করতে দেয়া হয় না। তাদেরকে ফিরিয়ে দেয়া হয়। আবার লাইন দীর্ঘ দেখে কিছু কিছু ভোটার লাইনে দাঁড়াননি। যারা পরবর্তীতে আর ভেতরে প্রবেশ করতেই পারেননি। ফারুক হোসেন নামে এক ভোটার অভিযোগ করে বলেন, তিনবার চেষ্টা করেও তিনি ভোট দিতে ভিতরে যেতে পারেননি। পরবর্তীতে ভোটগ্রহণের সময় সাংবাদিকদের সামনে প্রবেশ করলে ছাত্রলীগ কর্মীরা আর তাকে বাধা দেননি। এ হলের রিটার্নিং কর্মকর্তা আবদুল মোমিন বলেন, ভোটারদের উপস্থিতি বেশি। এজন্য একটু সময় লাগছে। ডামি লাইনের প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কার্ড দেখেই কেন্দ্রের মূল স্থানে কেবল ঢুকতে দেয়া হয়।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল। সকাল সাড়ে ৮টা। হলের মূল ফটকের বাইরে দীর্ঘ লাইন। হলের বারান্দার লাইনই বাইরে ছড়িয়ে পড়ে। ভোটগ্রহণও শুরু হয়। তবে তা ধীরগতিতে। ভোট শুরুর সময় যাদের লাইনে দেখা যায় সাড়ে ১০টায় তারাই লাইনে দাঁড়িয়ে থাকেন। এসময় হলের প্রাধ্যক্ষ ও রিটার্নিং কর্মকর্তা এসএম মফিজুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা লাইনের শুরুর থেকে ১০ জন চেক করে দেখছি। তারা সকলেই এই হলের ভোটার। ডামি লাইনের অভিযোগ সত্য নয়। এ হলে ১৭৯৯ জন ভোটার। আমরা ভোট নিচ্ছি তবে নির্দিষ্ট সময়ে সবাই ভোট দিতে পারবে।
প্রায় একই চিত্র দেখা যায় জিয়াউর রহমান হল ও বিজয় একাত্তর হলে। সকাল ৮টা ভোট গ্রহণ শুরু হওয়ার পূর্বে এ হল দুটিতে দীর্ঘ লাইন পড়ে। বেলা গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বিজয় একাত্তর হলের লাইন কমলেও সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র দেখা যায় জিয়াউর রহমান হলে। এ হলের লাইন এতই দীর্ঘ ছিল যে সাধারণ ভোটাররা ভোট দিতে বেশ বেগ পেতে হয়। লাইনটি যে ডামি ছিল তা ছাত্রলীগ ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের কথাবার্তায় প্রকাশ পায়। লাইন থেকে কেউ বের হয়ে গেলেই ছাত্রলীগ নেতারা বলে, জুনিয়ররা কই ওদের লাইনে দাঁড়াতে বল। লাইন যেন ফাঁকা না হয়। দুপুর ১টা ৪০ মিনিট। হঠাৎ এ হলের লাইন হাওয়া। সবাই ছাত্রলীগের হয়ে কেন্দ্রের বাইরে মিছিল করছে। প্রায় ১০ মিনিট এ মিছিল চলে। তখন রুম থেকে বের হয়ে হলের প্রাধ্যক্ষ জিয়াউর রহমান বলেন, যা হওয়ার হইছে এখন তোমরা চলে যাও।
কিছুটা ভিন্ন চিত্র দেখা যায় কবি জসীম উদ্‌দীন হলে। কেন্দ্রে তেমন লাইন দেখা যায় না। ভোটাররা নির্বিঘ্নে তাদের ভোট দেয়। তবে দুপুরের ছাত্রলীগের সভাপতি ও ভিপি প্রার্থী পরপর দুবার হলে প্রবেশ করেন। তখন কেন্দ্রের বাইরের চিত্র হ-য-ব-র-ল হয়। পরবর্তীতে আবার ঠিক হয়ে যায়। এ হলের এজিএস (স্বতন্ত্র) প্রার্থী দিদারুল ইসলাম বলেন, সার্বিকভাবে এ হলে ভোট ভালো হয়েছে। তারপরেও ছাত্রলীগের কর্মীরা ভোটারদের চাপ প্রয়োগ করছে। যারা প্রথমে ভোট দিতে যায় তারা পরের ভোটারকে নির্দিষ্ট প্রার্থীকে ভোট দিতে চাপ দেয় বলে জানান তিনি। এ পাঁচটি হল ঘুরে কেন্দ্রীয় সংসদের স্বতন্ত্র প্যানেল স্বধিকারের এজিএস প্রার্থী রায়হান জানান, সাধারণ ভোটাররা কেন্দ্রের ভেতরে ঢুকতে পারছে না। সরকারি ছাত্র সংগঠনের প্যানেলকে জেতানোর জন্য সব ব্যবস্থা করা হয়েছে।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর