× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ২৬ মার্চ ২০১৯, মঙ্গলবার

অবৈধ সোনার গোডাউন

এক্সক্লুসিভ

ইব্রাহিম খলিল, চট্টগ্রাম থেকে | ১৩ মার্চ ২০১৯, বুধবার, ৫:৩২

দুবাই থেকে চোরাইপথে আসছে সোনা। যার গোডাউন চট্টগ্রামের বাণিজ্য কেন্দ্র ‘রিয়াজউদ্দিন বাজার’। যেখান থেকে প্রতিদিন সারাদেশসহ ভারতে পাচার হচ্ছে কোটি কোটি টাকার সোনার বার। আর এসব সোনা পাচারে দু’-একজন বাহক ধরা পড়লেও ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকছে মূল হোতারা। আর তাই এবার মূল হোতাদের ধরতে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের বিশেষ নজর এখন এই রিয়াজউদ্দিন বাজারের উপরই। এমন তথ্য জানিয়েছেন চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মো. কামরুজ্জামান। তিনি বলেন, গত ৩ মার্চ বিকেলে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের জোরারগঞ্জে একটি প্রাইভেটকারে তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ২৬ কোটি ৪০ লাখ টাকা মূল্যের ৬০০ পিস স্বর্ণের বার উদ্ধার করে পুলিশ।
এর এক ঘণ্টা আগে নগরীর সিআরবি এলাকা থেকে অপর একটি প্রাইভেট কারে তল্লাশি চালিয়ে ৪ কোটি ৪৫ লাখ টাকা মূল্যের ১০০ পিস স্বর্ণের বার উদ্ধার করে পুলিশ।
এ সময় প্রাইভেটকার চালক বিলাল হোসেন (২৮) ও প্রলয় কুমার সাহা (৫৯) এবং জোরারগঞ্জ থেকে রাকিব ও করিম নামে ৪ জনকে আটক করে।
৪ঠা মার্চ আদালত থেকে দেয়া ৪ দিনের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে তারা স্বর্ণ চোরাচালান চক্রের সদস্য বলে স্বীকার করেন।
তাদের দেয়া তথ্যে অবৈধ সোনার গোডাউন রিয়াজউদ্দিন বাজারের নাম উঠে আসে।  
পাচারকারীদের তথ্যমতে, মধ্যপ্রাচ্যের দুবাই থেকে স্বর্ণের চোরাচালান চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আসছে। ওমান, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, সৌদি আরব থেকেও আসে। আর এসব স্বর্ণের চোরাচালান যায় রিয়াজউদ্দিন বাজারের গোডাউনে।  যেখানে ২০ সদস্যের একটি প্রভাবশালী চোরাচালান চক্র রয়েছে। এদের বেশির ভাগই নগরীর রাজনীতির পরিচিত মুখ। যাদের প্রভাবে শাহ আমানত বিমানবন্দর থেকে স্বর্ণ চোরাচালানে সহযোগিতা করে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। রিয়াজউদ্দিন বাজারে বসে বিদেশে থাকা স্বর্ণ চোরাচালানিদের সঙ্গে যোগাযোগ করে এরা।
কামরুজ্জামান বলেন, এদের বিষয়ে সরকারের উচ্চমহলে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। সেখান থেকে দিক-নির্দেশনা পেলেই পুলিশ আইনগত ব্যবস্থা নেবে। তবে পুলিশ এদের ওপর বিশেষ নজর রাখছে। অবৈধ স্বর্ণের গোডাউন খুঁজে বের করতে পুলিশ কাজ করছে।     
চট্টগ্রামের জেলা পুলিশ সুপার নূরেআলম মীনা জানান, জোরারগঞ্জ থেকে উদ্ধার করা স্বর্ণবারগুলোতে ইউএই লেখা আছে। এতেই বুঝা যায় স্বর্ণগুলো দুবাই থেকে এসেছে।
নগর গোয়েন্দা পুলিশের বন্দর জোনের উপ-কমিশনার এসএম মোস্তাইন হোসেন জানান, ২০১৬ সালে ২৫শে জানুয়ারি তৎকালীন নগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার বাবুল আক্তারের নেতৃত্বে রিয়াজউদ্দিন বাজারের বাহার মার্কেট থেকে তিনটি সিন্দুক জব্দ করে। এরমধ্যে একটি সিন্দুক থেকে ২৫০টি স্বর্ণের বার ও আরেকটিতে নগদ ৬০ লাখ টাকা পাওয়া যায়। অপরটি খালি ছিল।
এ ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় আন্তঃদেশীয় স্বর্ণ চোরাচালানকারী আবু আহম্মদ ও তার ম্যানেজার এনামুল হক ওরফে নাঈমকে আসামি করে একটি মামলা করে পুলিশ। দুবাইকেন্দ্রিক চোরাকারবারি আবু আহম্মদের সাবেক ম্যানেজার এনামুল হক ওরফে নাঈম পুলিশ রিমান্ডে স্বীকারোক্তি দেন, দুবাই থেকে চোরাচালান চক্রের পাঁচ সদস্য স্বর্ণ পাঠায় চট্টগ্রামে।
সেই স্বর্ণ রিয়াজউদ্দিন বাজারে নিয়ে আসা ও দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করে চক্রের আরও পাঁচ সদস্য। স্বর্ণ চোরাচালান ব্যবসা পরিচালনায় আবুকে সহযোগিতা করেন দুই ব্যবসায়ী নেতা ও এক ব্যবসায়ী। চোরাচালানের স্বর্ণ বিক্রির টাকা হুন্ডির মাধ্যমে আবুর কাছে পৌঁছে দেয়ার কাজে সহায়তা করেন এক বিতর্কিত স্বর্ণ ব্যবসায়ী ও সাবেক এক চসিক কাউন্সিলর।
২০১৫ সালের ৮ই এপ্রিল চট্টগ্রাম নগরের সদরঘাট থানার আনু মাঝির ঘাট এলাকায় ‘এসি মেলা’ নামে একটি ইলেক্ট্রনিক্স পণ্যের গুদামে অভিযান চালিয়ে অলঙ্কারসহ ২০ কেজি স্বর্ণ উদ্ধার করে পুলিশ। সে ঘটনাতেও আলোচনায় উঠে আসে রিয়াজউদ্দিন বাজারের নাম।
ওই ঘটনার দুই মাস পর ২০১৫ সালের ২৩ জুন নগরের বায়েজিদ বোস্তামি থানা এলাকায় প্রাইভেটকারের তল্লাশি চালিয়ে ১২০ পিস স্বর্ণের বার উদ্ধার করে পুলিশ। সেই স্বর্ণ পাচারের ঘটনার পেছনে ছিলেন ফটিকছড়ির জাফতনগর ইউনিয়নের বাসিন্দা মাহবুবুল আলম ওরফে আলমগীর।
২০১০ সালের নভেম্বরে চট্টগ্রাম রেলস্টেশন এলাকা থেকে বাবুল শেখ নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। তল্লাশি করে পাওয়া যায় তিনটি স্বর্ণের বার ও দুই লাখ ৩৮ হাজার ৯০০ ভারতীয় রুপি। সেই সূত্রেই নগরের রিয়াজউদ্দিন বাজার থেকে গ্রেপ্তার করা হয় আজিজ নামে আরও একজনকে। সে সময় র‌্যাব জানায়, গ্রেপ্তার দু’জনেই আন্তর্জাতিক স্বর্ণ চোরাচালান চক্রের সদস্য।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সোনা আমদানি নীতি না থাকায় চোরাই পথে সোনা আসছে। এ অবস্থায় একদিকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সোনা চোরাচালানের নিরাপদ রুট হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে বাংলাদেশ। অন্যদিকে দেশ হারাচ্ছে শত কোটি টাকার রাজস্ব।
শুল্ক বিভাগের হিসাব মতে, বাংলাদেশে বছরে কমপক্ষে ৫ টন সোনার চাহিদা রয়েছে। গত পাঁচবছরে দেশে আকাশপথে এক রতি সোনাও আমদানি হয়নি। তাহলে বাজারের চাহিদা মোতাবেক এ ৫ টন সোনা আসছে কোন পথে।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর