× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ২৪ মার্চ ২০১৯, রবিবার

নোটারিতে নজরদারি নেই

এক্সক্লুসিভ

নাজমুল আহসান রাজু | ১৩ মার্চ ২০১৯, বুধবার, ৫:৩৪

আইন পেশার পাশাপাশি নোটারি পেশায় ঝুঁকছেন আইনজীবীরা। দিন দিন কদর বাড়ছে নোটারি পেশার। এ কারণেই আইনজীবী পেশার পাশাপাশি ‘নোটারি পাবলিক’ হতে প্রভাবশালীদের তদ্বির নিয়ে হাজির হচ্ছেন আইন মন্ত্রণালয়ে।
তবে প্রকৃত নোটারিদের জন্য হুমকি হয়ে উঠছেন কিছু ভুয়া নামধারী নোটারি। নোটারি হয়েছেন কিন্তু মারা গেছেন এমন ব্যক্তির নামেও চলছে নোটারির কারবার। ফটোকপি, সংবাদপত্র ও চায়ের দোকানে নোটারি করানোর বিজ্ঞাপনে সুনামহানি হচ্ছে সম্মানজনক এ পেশার। আইন মন্ত্রণালয়ের নজরদারির অভাবে এমনটি হচ্ছে বলে জানা গেছে।
দলিল ও নথি সত্যায়নে প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেটের পর্যায়ের ক্ষমতা রয়েছে একজন নোটারিরও। ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে সত্যায়নের ঝক্কি এড়াতে মানুষ ছুটে যায় নোটারির কাছে।
সামান্য অর্থের বিনিময়ে নোটারির কাছ থেকে পাওয়া যায় কাঙ্ক্ষিত সত্যায়ন।
সূত্র জানিয়েছে সারা দেশে ১৫০০ নোটারি পাবলিক রয়েছেন। গত ছয় মাসে ১৬৭ জনকে নোটারি নিয়োগ দিয়েছে সরকার। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে নিয়োগ দেয়া হয়েছে ৪৫ নোটারি। ফেব্রুয়ারি মাসে ১৩ জনকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। ২৫ ফেব্রুয়ারি নিয়োগ পেয়েছেন ৪ জন। সর্বশেষ ঢাকা জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য মোহাম্মদ আবদুল হান্নান খন্দকার, মনির হোসেন, শফিকুর রহমান ভূঁইয়া ও মো. বাবুল হোসাইন নাটারি পাবলিক নিয়োগ পেয়েছেন।
আইন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. আনোয়ারুল হক মানবজমিনকে বলেছেন, যোগ্যতাপূরণ সাপেক্ষে সাত বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আইনজীবী নোটারি হওয়ার জন্য আবেদন করতে পারেন। আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় নোটারি শাখা এ নিয়োগ দিয়ে থাকে। শর্ত পরণ সাপেক্ষে নির্ধারিত ফরমে আবেদনের পর মন্ত্রণালয় যাচাই-বাছাই শেষে রাষ্ট্রপতির অনুমোদনক্রমে প্রজ্ঞাপন জারি করে। নোটারির জন্য মনোনীত ব্যক্তিকে তিন বছর মেয়াদের একটি সনদ দেয়া হয়। এরমধ্যে প্রতিবছরের হিসাব বিবরণী জমা দিতে হয় আইন মন্ত্রণালয়ে। সনদের মেয়াদ শেষে পুনরায় নবায়ন করতে ইচ্ছুক হলে আগের নিয়মে আবেদন করতে হয়।
দেশে ও বিদেশে গুরুত্বপূর্ণ দলিল বা ডকুমেন্ট সত্যায়িত করতে প্রয়োজন হয় নোটারির। উচ্চ শিক্ষার জন্য বিদেশ যেতে চাইলেও নোটারি চাই-ই চাই। নোটারি করতে হয়। কারণ বিদেশে নোটারিকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়ে থাকে। এ সুযোগে অসাধু চক্র নেমে পড়েছে নোটারি বাণিজ্যে। সাধারণ জমিজমা সংক্রান্ত দলিল, হলফনামা, বিবাহবিচ্ছেদ, গাড়ি বেচাকেনা, শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদপত্র, চারিত্রিক সনদপত্র, জন্ম-মৃত্যুর সনদপত্র এবং বিদেশে নাগরিকত্বের জন্য আবেদনের ক্ষেত্রে নোটারি পাবলিক দিয়ে সত্যায়িত করা বাধ্যতামূলক।
নোটারি অধ্যাদেশ ১৯৬১ (১৯৬১ সালের ১৯ নম্বর আইন) বলে নিয়োগ এবং নোটারি বিধিমালা ১৯৬৪ দ্বারা বাংলাদেশে নোটারি পাবলিকের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রিত হয়। আইন মন্ত্রণালয় এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে অধ্যাদেশ ও বিধিমালা সংশোধন করে ১৯৮৯ সালের ২৪শে অক্টোবর নতুন করে ফি ধার্য করে।
অভিযোগ রয়েছে ভুয়া ও অবৈধ নোটারিদের তৎপরতার। রাজধানীর প্রেস ক্লাব, দৈনিক বাংলা ও পুরান ঢাকার আদালত পাড়ায় এক শ্রেণির দালাল অতিরিক্ত অর্থের বিনিময়ে দলিল বা মূল্যবান নথি সত্যায়ন করে দেন। পররাষ্ট্র ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে কেন্দ্রে করে গড়ে ওঠা এসব দোকানের নোটারি পাবলিকের অফিস নেই। আবার সনদ নেয়ার পর মৃত ব্যক্তির সিল ব্যবহার করেও চলছে নোটারি কার্যক্রম। জাতীয় প্রেসক্লাবের বিপরীত দিকে চারটি ফটোকপি দোকানে ঝুলছে নোটরি করিয়ে দেয়ার বিজ্ঞাপন। সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে দোকানগুলোতে কোনো নোটারির অস্তিত্ব নেই। ফুটপাতে পত্রিকা বিক্রি করার একটি দোকানেও নোটারির বিজ্ঞাপন ঝুলতে দেখা গেছে। সূত্র জানিয়েছে, ওই এলাকায় দুজন নোটারি পাবলিক রয়েছে। তারাই দোকানির মাধ্যমে মক্কেল সংগ্রহ করেন। নিয়ম অনুযায়ী একজন নোটারির নিজস্ব অফিস থাকতে হবে। আইন মন্ত্রণালয় থেকে পরিদর্শনের পর অনুমোদন দেয়া হবে। কিন্তু জনবল সংকটের অজুহাতে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে নোটারি হতে ইচ্ছুক ব্যক্তির অফিস পরিদর্শন ছাড়াই সনদ দেয়া হচ্ছে।
অতিরিক্ত ফি আদায় নিয়েও রয়েছে এন্তার অভিযোগ। ১৯৮৯ সালের ২৪শে অক্টোবরের সংশোধিত প্রজ্ঞাপনে নোটারি ফি নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে; তবে এলাকাভেদে নেয়া হচ্ছে কয়েকগুণ অর্থ। ২০,০০০ টাকার ক্ষেত্রে ২৫ টাকা, ২০ থেকে ৫০,০০০ হাজার টাকা মূল্যমানের দলিলে জন্য ৫০ টাকা এবং ৫০,০০০ থেকে এক লাখ টাকা মূল্যমানের দলিলের জন্য ১০০ টাকা এবং ১ লাখা টাকা মূল্যমানের দলিলের জন্য ১৫০ টাকা ফি নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে। অধিকাংশ নোটারি ২০ টাকা ফির কাজ ৩০০ টাকায় করছেন।
নোটারিদের অভিযোগ তিন দশক আগে করা ফির বর্তমানে অনুপযোগী। কারণ ১৯৮৯ সালের ২০ টাকা যথেষ্ট থাকলে বর্তমান প্রেক্ষাপটে এ টাকা অপ্রতুল। এ সময়ে বাজারে দ্রব্যমূল্য বেড়েছে। মানুষের জীবনমানও বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমান সময় অনুযায়ী ফির পরিমাণ যুগোপযোগী করতে হবে।
বাংলাদেশ নোটারি পাবলিক সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আজিজুল ইসলাম বলেছেন, দেশের বাইরে নোটারিদের সম্মানজনক মর্যাদা রয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশে দিন দিন এটি অমর্যাদার পেশায় পরিণত হচ্ছে কিছু অযোগ্য ও লোভী ব্যক্তির কারণে। তারা ফটোকপির দোকান বা মুদি দোকানে নোটারি করিয়ে দেয়ার বিজ্ঞাপন ঝুলিয়ে রাখছেন। এটা পেশার সঙ্গে বেমানান এবং অবমাননাকর।
সাবেক ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ও নোটারি পাবলিক কাজী ওয়ালিউল ইসলাম বলে, তার মতে নোটারি সনদ দেয়ার আগে একজন আইনজীবীর অফিস আছে কি না, সেটা পরিদর্শনপূর্বক অনুমোদন দিতে হবে। বাড়াতে হবে ভুয়া নোটারি চিহ্নিত করতে তদারকি।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর