× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ২৪ মার্চ ২০১৯, রবিবার

ইব্রাহিমের লাশের অংশ নিয়ে গেলেন স্বজনরা

এক্সক্লুসিভ

স্টাফ রিপোর্টার | ১৪ মার্চ ২০১৯, বৃহস্পতিবার, ৮:৫৮

ইব্রাহিম। বয়স ৩৫। বাড়ি কামরাঙ্গীরচরের মজিবর ঘাটে। গত ১০ বছর ধরে পুরান ঢাকার চকবাজার এলাকায় রিকশা চালাতেন। এই উপার্জন দিয়ে চলতো তার সংসার। গত ২০শে ফেব্রুয়ারি চকবাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মারা যান ইব্রাহিম। ১৯ দিন পর ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে  ইব্রাহিমের লাশ শনাক্ত করা হয়।
কিন্তু পুরো লাশ পায়নি স্বজনরা।
মঙ্গলবার ঢাকা মেডিকেলের মর্গ থেকে লাশের কিছু অংশ নিয়ে যায় ইব্রাহিমের স্ত্রী রোকসানা বেগম ও তার শ্যালক শামীম আহমেদ। পরে আগুনে পুড়ে যাওয়া বিকৃত লাশটি আজিমপুর কবরস্থানে দাফন করা হয়।
ইব্রাহিমের শ্যালক শামীম মানবজমিনকে বলেন, ডিএনএ টেস্ট করার পর মঙ্গলবার ওনার লাশের কিছু অংশ হস্তান্তর করে পুলিশ। তিনি মারা যাওয়ায় এখন তার সংসার চালানোর কেউ নেই। গত মাসের বাড়ি ভাড়া আমি দিয়েছি। আমার ছোট ভাগ্নিটি অল্প বয়সে বাবাহারা হয়েছে। তাদের সংসার চলবে কীভাবে- সরকার যদি এই অসহায় পরিবারটির পাশে এসে দাঁড়াতো?
বৃষ্টি নামের ১০ বছরের একটি মেয়ে রয়েছে নিহত ইব্রাহিমের। বৃষ্টি চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ে। বাবাকে হারানোর পর থেকে নীরব হয়ে গেছে এই শিশুটি। প্রায়ই ‘বাবা বাবা’ বলে কান্না করে বৃষ্টি।         
চুড়িহাট্টার ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ডিএনএ টেস্টের মাধ্যমে নিহত আরো পাঁচ জনের পরিচয় শনাক্ত করা গেছে। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) শনাক্তের কাজটি করেছে। মঙ্গলবার বিকালে ঢাকা মেডিকেলের মর্গ থেকে শনাক্ত করা লাশগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
শনাক্ত হওয়া বাকি চারজনের মধ্যে রিকশাচালক গোলাম মোস্তফার (৩৯) লাশ নিয়ে যায় তার স্বজনরা। তার গ্রামের বাড়ি রংপুর জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার ডাসারপাড়ায়। তিনি একজন রিকশাচালক ছিলেন। ঘটনার সময় মোস্তফা রিকশা নিয়ে চুড়িহাট্টা এলাকায় ছিলেন। তার লাশ গ্রহণ করেন স্ত্রী জেসমিন আক্তার। এ ছাড়া নিহতদের মধ্যে হাজী ইসমাইল (৫৫) একজন প্লাস্টিক ব্যবসায়ী ছিলেন। তার লাশ ছেলে সোহরাব হোসেন বুঝে নেন। অপর ব্যবসায়ী ফয়সাল সাগর (৫৩)’র লাশ তার চাচাতো ভাই আব্দুস সামাদ গ্রহণ করেন। ক্যান্টনমেন্ট কলেজের ল’র ছাত্রী রেনুমা তাবাসসুম দোলা (২২)’র লাশ তার বাবা দলিলুর রহমান বুঝে নেন। তিনি জানান, ঘটনার সময় দোলা ও তার বান্ধবী বৃষ্টি বাসায় ফিরছিলো। বিভীষিকাময় আগুনে দুই বান্ধবী পুড়ে মারা গেছে। কয়েক দিন আগে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে বৃষ্টির লাশ শাক্ত করা হয়। দোলার লাশ শনাক্তের পর গতকাল তা গ্রহণ করেন স্বজনরা। দোলার লাশ আজিমপুর কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে বলে জানান তারা।
এসব বিষয়ে সিআইডির প্রধান শেখ হিমায়েত হোসেন বলেন, চকবাজারের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এখনো দু’টি লাশের পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি। সংগৃহীত ডিএনএ নমুনার এই দু’জনের ডিএনএ নমুনার মিল পাওয়া যায়নি। এখনো দুটি লাশের ও তিনটি পরিবারের ডিএনএ নমুনা আমাদের কাছে রয়েছে। শনাক্ত না হওয়া লাশগুলো মর্গে থাকবে। কেউ লাশগুলো দাবি করলে তার ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে মেলানো হবে বলে জানান তিনি।
ঘটনার পর এ নিয়ে ডিএনএ টেস্টের মাধ্যমে ১৬টি লাশের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। এর আগে গত ৬ই মার্চ ১১ লাশের পরিচয় শনাক্ত করে সিআইডি। তারা হচ্ছেন- এনামুল হক, তানজীল হাসান, নাসরিন জাহান, নুরুজ্জামান, নুরুল হক, শাহীন আহমেদ, হাসান উল্লাহ, ফাতেমা-তুজ-জোহরা, সালেহ আহমেদ, মো. ইব্রাহীম ও দুলাল কর্মকার।
গত ২০শে ফেব্রুয়ারি রাতে চকবাজারের চুড়িহাট্টায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ঘটনাস্থলে ৬৭ জন নিহত হন। পরে আহত ও দগ্ধ অবস্থায় চিকিৎসাধীন আরো চার জন মারা যান।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর