× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ২৪ মে ২০১৯, শুক্রবার

সাকিবের আইপিএল বিসিবির ভাবনায়

খেলা

স্পোর্টস রিপোর্টার | ১৪ মার্চ ২০১৯, বৃহস্পতিবার, ৯:২৬

হ্যামিল্টনের পর ওয়েলিংটন, নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টানা দুই টেস্টেই ইনিংস ব্যবধানে হার দেখেছে বাংলাদেশ দল। সিরিজ খুইয়েছে, এখন ক্রাইস্টচার্চে মুখোমুখি হোয়াইটওয়াশের। ইনজুরির কারণে অধিনায়ক সাকিব আল হাসান গোটা নিউজিল্যান্ড সফরেই যেতে পারেননি। এরই মধ্যে অবশ্য মাঠে ফিরে অনুশীলন শুরু করেছেন। ধারণা করা হচ্ছিল হয়তো ১৬ই মার্চ থেকে শুরু হতে যাওয়া শেষ টেস্টে দলে পাওয়া যাবে তাকে। তবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) তাকে শেষ টেস্টে পাঠিয়ে কোনো ঝুঁকি নিতে চায়নি। কারণ সামনেই ওয়ানডে বিশ্বকাপ। দলের এই গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটারকে নিয়ে ঝুঁকি নেয়ার কোনো সুযোগ নেই। তবে ফিট হলেই সাকিব ভারতের ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট আইপিএল খেলতে যাবেন এমন কথা শোনা যাচ্ছে। আর এতেই শুরু হয়েছে নানা আলোচনা-সমালোচনা। বিশেষ করে বিশ্বের সেরা এই অলরাউন্ডার বাংলাদেশ ওয়ানডে দলের সহ-অধিনায়কও। তাই এপ্রিল মাস থেকে শুরু হতে যাওয়া বিশ্বকাপ ক্যাম্পে তাকে ভীষণ প্রয়োজন। শুধু তাই নয়, মে মাসেই বাংলাদেশ দল যাবে আয়ারল্যান্ড সফরে। সেখানে খেলবে ত্রিদেশীয় সিরিজ। এই সফরটিতে থাকবে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ দলই। মূলত এখানেই বিশ্বকাপ দলের চূড়ান্ত পরীক্ষার সঙ্গে প্রস্তুতি নেয়ারও বড় সুযোগ। তাই আইপিএল নয়, সাকিব যেন এবার দেশের ক্রিকেটে মন দেয় তা নিয়ে দাবি উঠেছে। এ বিষয়ে ভাবনা আছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) মিডিয়া বিভাগের চেয়াম্যান জালাল ইউনুস। তিনি বলেন, ‘এটা কিন্তু বোর্ডের মাথায় আছে। যাতে ওর (সাকিব) ওপর কোনো চাপ না থাকে।  আইপিএল বলেন বা অন্য কোনো টুর্নামেন্টে খেলতে যাওয়া বলেন, এখন আমাদের মেইন টার্গেট হচ্ছে বিশ্বকাপ। এই বিশ্বকাপের জন্য আমরা ডেফিনেটলি একটা গ্যাপ পাবো। যতগুলো প্লেয়ার স্কোয়াডে থাকবে তাদের নিয়ে সিরিয়াসলি একটা ক্যাম্প করার কথা আছে।’
সাকিব আল হাসানের বিপক্ষে ভীষণ অভিযোগ আছে। আগেও দেখা গেছে টেস্টের আগে তিনি ইনজুরিতে ছিলেন। কিন্তু আইপিএলের আগে ঠিকই ফিট হয়ে খেলতে চলে যান। সেখানে থেকে ফিরে আবারো ইনজুরিতে পড়েন। গতকাল সংবাদ মাধ্যমের এমন প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয় জালাল ইউনুসকে। তবে মিডিয়া বিভাগের চেয়ারম্যান তা উড়িয়ে দেন। তিনি বলেন, ‘যেটা বললেন এটা আপনাদের অনুমান মাত্র। আমার মনে হয় তা নয়। ইনজুরি তার আছে। এখন যে ইনজুরি ছিলো কিছুটা সে সেরে উঠেছে। তাকে আরো দশদিনের একটা বিশ্রাম দেয়া হয়েছে। এই দশদিনে ফিটনেস চলে আসলেও তৃতীয় টেস্টে খেলার সুযোগ নেই। এরপরে যদি সে ফিট হতে পারে এবং চিকিৎসক তাকে ক্লিয়ারেন্স দেয় যেকোনো ফর্মেটেই সে খেলতে যেতে পারে। নট অনলি আইপিএল বাট বাংলাদেশের খেলাও যদি থাকতো ডেফিনেটলি সে ওখানেও জয়েন করতো।’ এরপরও প্রশ্ন থেকে যায় তাহলে আইপিএলই কেন! ঢাকা প্রিমিয়ার ক্রিকেট চলছে সেখানেও সাকিব খেলতে পারেন চাইলে। এ বিষয়ে জালাল ইউনুস বলেন, ‘সাকিব কিন্তু প্রিমিয়ার লীগে খেলতে চাচ্ছিলো। তাকে আমরা অ্যালাউ করিনি। কারণ ন্যাশনাল টিমের কোনো প্লেয়ারকে আমরা এখানে রাখিনি।’
নিউজিল্যান্ডে একের পর এক হার। বোলিং-ব্যাটিং-ফিল্ডিং তিন বিভাগেই দারুণ ব্যর্থতা। ওয়ানডে সিরিজ  হোয়াটওয়াশ হয়েছে। টেস্টেও সেই ফলাফলের মুখে। কেন এমন বেহালদশা। এ নিয়ে মিডিয়া বিভাগের চেয়ারম্যান বলেন, ‘ডিজাস্টার বলবো না, এটা প্রত্যাশিত। তবে আরো প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হলে ভালো হতো। আমরা যদি একটা ড্র করতে পারতাম বা কাছাকাছিও যদি আমাদের পারফরম্যান্স হতো তাহলে আমাদের খুব ভালো লাগতো। চাইছিলাম যে একটা প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক সিরিজ হোক। যেটা গতবার হয়েছিল। গতবার সিরিজে কিন্তু একটি ওয়ানডে প্রায় জিতে গিয়েছিলাম এবং টেস্টেও আমরা ভালো করেছিলাম। কিন্তু এই সিরিজটায় দেখা যাচ্ছে আমরা তাদের কাছাকাছিই নেই। পার্থক্যটা খুব বেশি। কিছু রিজন আছে মনে হয়।’  
অন্যদিকে এমন পারফরম্যান্সের জন্য শুধু ক্রিকেটারদের দুষতে রাজি নন জালাল ইউনুস। তিনি বলেন, ‘আপনারা জানেন, প্রস্তুতির অভাব ছিলো, আবহাওয়া একটি কারণ, ইনজুরিও একটা বড় ফ্যাক্টর। আমাদের সেরা ক্রিকেটাররা খেলতে পারেনি। মুশফিক এখনো খেলতে পারেনি, সাকিবও খেলেনি। এগুলোতে আমাদের দলের মধ্যে বড় একটা এফেক্ট হয়েছে। তো আমি মনে করি না এটা বড় একটি সমস্যা। ক্রিকেটে এটা হয়ে থাকে। একটা সিরিজ খারাপ হবে, একটা সিরিজ ভালো হবে। এটা নিয়ে চিন্তিত হওয়ার কিছু নেই। তবে বিদেশের মাটিতে টেস্টে খারাপ করার পেছনে বেশি বেশি লঙ্গার ভার্সন ম্যাচ না খেলাকে দায়ী করলেন জালাল ইউনুস। তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ দেখেন আমাদের যে ফার্স্ট ক্লাস এতে খুব কমই ন্যাশনাল টিমের মেইনস্ট্রিমে খেলে তাদের পার্টিসিপেশন নাই বললেই চলে। খুব কম। এটাও বড় একটা এফেক্ট। আমার মনে হয় আমাদের ব্যবস্থা ওই ধরনের হওয়া উচিত। তারা ম্যান্ডেটারিলি যেন ফার্স্ট ক্লাস ম্যাচগুলো খেলে। না হলে কিন্তু কিছুটা অভ্যাসের বাইরে চলে যাচ্ছে। আরেকটা কারণ হচ্ছে তার সময় যাচ্ছে না। ইনজুরির কারণে তাদের বিশ্রাম দিতে হয়। সেজন্য তারা ফার্স্ট ক্লাস স্কিপ করে যাচ্ছে, অন্য কোনো টুর্নামেন্ট। স্কিপ করতে যাতে না হয়, বা লঙ্গার ভার্সন খেলে আমার মনে হয় এমন একটা পরিকল্পনা থাকা উচিত।’

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর