× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ১৮ জুন ২০১৯, মঙ্গলবার

ধুলোর শহরে ফুটবল উৎসব

খেলা

স্পোর্টস রিপোর্টার (বিরাটনগর) নেপাল থেকে | ১৪ মার্চ ২০১৯, বৃহস্পতিবার, ৯:২৬

নেপালের বাণিজ্যিক নগর বিরাটনগরে বসেছে নারী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের পঞ্চম আসর। কাঠমান্ডু থেকে বিরাটনগরের দূরত্ব প্রায় চারশ’ কিলোমিটার। রাজধানী কাঠমান্ডু থেকে আঁকা বাঁকা পাহাড়ি সড়ক পথে এই শহরে আসতে সময় লাগে প্রায় ১৫ ঘণ্টা। নেপালের রাজধানীর মতো আধুনিকতার ছোঁয়া লাগেনি এই শহরটিতে। নামে বাণিজ্যিক নগর হলেও শহরের আশপাশে শিল্প কারখানার বালাই নেই। টুর্নামেন্টের ভেন্যু শহীদ রঙ্গশালা স্টেডিয়ামের পরিবেশটাও বেশ অস্বাস্থ্যকর। স্টেডিয়ামটা ভালো হলেও এর চারিদিক ধুলো বালিতে সয়লাব।
২০১০ সালে বাংলাদেশের পর্যটন নগরী কক্সবাজারে অনুষ্ঠিত হয় নারী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের প্রথম আসর।
২০১২ সালে পরের আসরটি বসে শ্রীলঙ্কাতে। ২০১৪ ও ২০১৬ সালে পরের দুটি আসর অনুষ্ঠিত হয় পাকিস্তান ও ভারতে। আগের চার আসরে আয়োজন নিয়ে কোনো ধরনের প্রশ্ন না থাকলেও এবারের সাফ নিয়ে অভিযোগের অন্ত নেই।
নেপালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী গিরিজা প্রসাদ কৈরালার স্মৃতিময় শহর বিরাটনগর। এই শহরের প্রতিটি অলিগলিতে স্মৃতি জড়ানো রয়েছে নেপালের চারবারের প্রধানমন্ত্রীর। কিন্তু তারপরও কোথায় যেন একটা আন্তর্জাতিক পরিচিতির অভাব রয়েই গেছে এখানে। শ্রীলঙ্কায় শুরুতে হওয়ার কথা ছিল মেয়েদের সাফ। কিন্তু রাজনৈতিক অস্থিরতায় শ্রীলঙ্কান ফুটবল ফেডারেশন অনাগ্রহ দেখায় সাফের স্বাগতিক হতে। এরপরই প্রস্তাবটা লুফে নেয় নেপাল। গত বছরের সেপ্টেম্বরে ওমানে অনুষ্ঠিত এএফসি অ্যাওয়ার্ড নাইট অনুষ্ঠানে সাফ সভাপতিদের সভায় প্রস্তাবটি লুফে নেয় তারা। আনফা (অল নেপাল ফুটবল এসোসিয়েশন) সিদ্ধান্ত নেয় কাঠমান্ডুর বদলে এই বিরাটনগরেই সাফের আয়োজনের। কিন্তু যে শহরে ফুটবল নিয়ে যেখানে উন্মাদনা নেই, সেখানে এমন বড় আসর আয়োজনের সার্থকতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।
বিরাটনগর পৌরসভা থেকে রঙ্গশালা স্টেডিয়ামের পুরো চার সড়কটিই খানাখন্দকে ভরা। চারিদিকে ধুলো আর ধুলো। নাকে হাত দিয়ে চলাফেরারও অবস্থা নেই। এখানকার অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিয়ে এরই মধ্যে আপত্তি জানিয়েছে বাংলাদেশের টিম ম্যানেজমেন্ট। ভারতীয়রাও খুশি নন এই শহরের আয়োজন নিয়ে। কিভাবে বিরাটনগরের মতো অপ্রস্তুত এ শহরে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের বড় টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হচ্ছে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে সাউথ এশিয়ান ফুটবল ফেডারেশন (সাফ) এর কোনো কর্মকর্তা বিরাটনগরে আসেননি। সাফের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুল হক হেলালের প্রতিনিধি এখানে এসেছিলেন শহিদুল ইসলাম লিমন। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের এক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তার রিপোর্টে এখানকার সকল প্রতিবন্ধকতাই ছিল। কিন্তু তার ওই রিপোর্ট আমলে নেয়নি সাফ। অল নেপাল ফুটবল ফেডারেশনের (আনফা) প্রবল আগ্রহের কারণেই বিরাটনগরকে আয়োজক শহর হিসেবে চূড়ান্ত করেছেন তারা। সাফের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুল হক হেলাল জানান, গত বছরের অক্টোবরে ওমানে এএফসি নাইট অনুষ্ঠানে সাফের সভাপতি পর্যায়ের মিটিংয়ে নেপালকে আয়োজক দেশ হিসেবে চূড়ান্ত করা হয়। আমরা কাঠমান্ডুতেই টুর্নামেন্টটি করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু আনফার বিশেষ অনুরোধে বিরাটনগরে টুর্নামেন্টটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ধুলাবালি ছাড়াও বিরাটনগরের সমস্যা অনেক। সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে ভূতুড়ে শহরে পরিণত হয় বিরাটনগর। কাঠমান্ডুর তুলনায় এখানে জীবনযাত্রার ব্যয়ও বেশি। বিদেশিদের বেলায় সকল জিনিসের দামও বেশি। স্থানীয়রা যেখানে এক লিটারের এক বোতল খাবার পানি কিনেন ২০ রুপি দিয়ে, বিদেশিদের বেলায় সেটির দাম ত্রিশ রুপি। খাবার দাবারের মূল্য প্রায় দ্বিগুণ। কথা বলার জন্য এখানে নেই কোনো সাফের প্রতিনিধি। সাফ ও বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন এসব টুর্নামেন্টে খুব একটা আসেন না। সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুল হক হেলাল বরাবর টুর্নামেন্টের শুরু থেকে থাকলেও, শারীরিক অসুস্থতার কারণে এবার তার আসার সম্ভাবনা কম। তবে এসব নিয়ে উদ্বিগ্ন নন নেপাল ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি কারমা কেরিং শেরপা। এসব প্রতিবন্ধকতা উড়িয়ে দিয়ে এই নেপালি কর্মকর্তা বলেন, সবকিছু ঠিক আছে। পৌরসভার রাস্তাটা বড় হচ্ছে বলে একটু ধুলো বালি দেখা দিয়েছে। এটা নিয়েই কেবল বাংলাদেশিরা অভিযোগ করছে।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর