× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ১৮ জুন ২০১৯, মঙ্গলবার

ফের ভোটের দাবিতে উত্তপ্ত ক্যাম্পাস

প্রথম পাতা

বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার | ১৪ মার্চ ২০১৯, বৃহস্পতিবার, ১০:১৪

পুনঃনির্বাচনের দাবিতে উত্তপ্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। এ দাবি জানিয়ে গতকালও বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে তারা নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সবার পদত্যাগ দাবি   করেছেন। আগামী তিনদিনের মধ্যে দাবি আদায় না হলে কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে নির্বাচন বর্জনকারী প্যানেলগুলো। একই দাবিতে রাজু ভাস্কর্যে গত মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে অনশন করছেন সাত প্রার্থী। এদিকে শিক্ষার্থীরা চাইলে শপথ নেবেন, না চাইলে শপথ নেবেন না বলে জানিয়েছেন নবনির্বাচিত ভিপি নুরুল হক নুর। আগামী ৩১শে মার্চের মধ্যে পুনঃনির্বাচনের দাবি করেন তিনি। যদিও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বলেছেন, নির্বাচনী কর্মযজ্ঞকে অশ্রদ্ধা করার এখতিয়ার আমার নেই।


তিনদিনের মধ্যে তফসিল, নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারসহ চার দফা দাবিতে ভিসিকে স্মারকলিপি দিয়েছে নির্বাচন বর্জনকারী পাঁচটি প্যানেল। দাবি মানা না হলে ক্যাম্পাসে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে তারা। গতকাল দুপুরে ভিসির কাছে স্মারকলিপি দেন নির্বাচিত ভিপি নুরুল হক নুরসহ নির্বাচন বর্জনকারী ১০ প্রতিনিধি। পরে সেখান থেকে তারা রাজু ভাস্কর্যের সামনে অবস্থান নেন। দাবি মেনে নেয়ার আগ পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তারা। এ বিষয়ে স্বতন্ত্র জোট থেকে ডাকসুতে ভিপি পদে নির্বাচন করা অরণি সেমন্তি খান বলেন, শনিবারের মধ্যে যদি ডাকসুর পুনঃতফসিল ঘোষণা না হয়, যারা ভোট কারচুপির সঙ্গে জড়িত তাদের পদত্যাগ না হয় এবং মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার না হলে আমরা কঠোর আন্দোলনে যাবো।

প্রগতিশীল ছাত্রঐক্য থেকে ডাকসুতে ভিপি পদে নির্বাচন করা লিটন নন্দী বলেন, গুরুত্বপূর্ণ পদে নির্বাচন পরিচালনার সঙ্গে যারা জড়িত ছিল, তারা পদত্যাগ না করলে, মামলা প্রত্যাহার না করলে এবং পুনরায় ডাকসু নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা না হলে আমরা কঠোর কর্মসূচির মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে অচল করে দিতে বাধ্য হবো। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গৌরব ও ঐতিহ্যকে যারা ধ্বংস করতে চায়, আমরা তাদের ছাড় দেবো না। বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন থেকে ডাকসুর জিএস পদে নির্বাচন করা উম্মে হাবিবা বেনজির বলেন, যে প্রহসনের নির্বাচন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আয়োজন করেছেন সেটা আমরা আঙ্গুল তুলে দেখিয়ে দিতে পেরেছি। শিক্ষক থেকে শুরু করে প্রত্যেকেই  ভোট কারচুপির সঙ্গে জড়িত ছিল। এ শিক্ষকরা যখন ক্লাসে যাবে, তখন তাদের সঙ্গে আমাদের কেমন আচরণ হতে পারে, আমি প্রশ্ন রেখে যেতে চাই। তিনি বলেন, নির্বাচনে কারচুপির দায়ে ভিসি পদত্যাগ না করলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষার্থী হলে ফিরে যাবে না।

‘ক্রিমিনালদের হাড্ডিগুড্ডি রাখা হবে না’ বলে হুমকির অভিযোগ ভিসির বিরুদ্ধে: এদিকে ভিসিকে স্মারকলিপি দিয়ে ফেরার সময় স্বতন্ত্র জোটের ভিপি প্রার্থী অরণি সেমন্তি খান সাংবাদিকদের বলেন, ‘উনি আমাদের সব কথাই শুনলেন এবং আমাদের সঙ্গে কথা বললেন। উনি বললেন, যারা ক্রিমিন্যাল অ্যাক্টিভিটির সঙ্গে জড়িত, তাদের হাড্ডিগুড্ডি রাখা হবে না।’ তিনি বলেন, ‘আমরা তখন বললাম, এক বছর ছাত্রলীগ যে ক্রিমিনাল অ্যাক্টিভিটি চালিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে, তাদের হাড্ডিগুড্ডি কেন আছে এখনো পর্যন্ত? এই প্রশ্নের উত্তরটা আমরা পাইনি। অনেক কথা প্যাঁচানো হয়েছে, কিন্তু আমরা আমাদের উত্তরটা পাইনি।’ এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভিসি অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বলেন, ‘এ ধরনের কোনো মন্তব্য করা হয়নি। এটা অসৎ উদ্দেশ্যে প্রচার করছে তারা।’
শিক্ষার্থীরা না চাইলে শপথ নেবো না: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) প্রশাসনের ক্লিয়ার মেসেজ পাওয়ার পর শপথের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে জানিয়েছেন ডাকসুর নবনির্বাচিত ভিপি নুরুল হক নুর।

গতকাল বিকালে হাজী মুহম্মদ মহসীন হলে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন নুর। বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিয়ার মেসেজ পাওয়ার পর ছাত্রদের চাওয়া-পাওয়ার ওপর ভিত্তি করে  শপথের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। নির্বাচিত হিসেবে শিক্ষার্থীদের সকল দাবির সঙ্গে আমার সমর্থন আছে। আমি কখনোই আমার অবস্থান থেকে সরে আসি নি। শিক্ষার্থীরা চাইলে শপথ নেবো, না চাইলে নেবো না। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সাজানো ছকে নির্বাচনে এগিয়েছে। লেডি মাস্তান বাহিনী শোভন ভাইয়ের নেতৃত্বে রোকেয়া হলে আমাদের ওপর হামলা চালিয়েছে। নীলনকশা করেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আমাকে ও আখতারকে হারাতে পারেনি। তিনি বলেন, প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন বাতিল করে ৩১শে মার্চের মধ্যে শিক্ষার্থীদের দাবি অনুযায়ী সকল পদেই পুনঃনির্বাচন দিতে হবে। একই সঙ্গে নির্বাচনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে পদত্যাগ করতে হবে। নুর বলেন, এই কারচুপির মধ্যেও আমি ভিপি নির্বাচিত হয়েছি। ফেয়ার নির্বাচন হলে আরো ৫ হাজার ভোট বেশি পাবো। আমার পদকে কখনোই বড় মনে করি না। শিক্ষার্থীদের চাওয়া সকল পদেই পুনঃনির্বাচন। আমি তাদের দাবির সঙ্গে সহমত পোষণ করেই বলছি, সকল পদেই পুনঃনির্বাচন দিতে হবে।  

ফলাফলের প্রতি অশ্রদ্ধা জ্ঞাপন করার ক্ষমতা ভিসির নেই: এদিকে দুপুরে ভিসি অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, নির্বাচনের কর্মযজ্ঞকে অশ্রদ্ধা জানানোর এখতিয়ার আমার নেই। তিনি বলেন, ২৮ বছর পর একটি নির্বাচন। এই নির্বাচনে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় সাড়ে চারশ’ সহকর্মী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীর যৌথ প্রয়াসে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সুতরাং এত মানুষের আন্তরিকতা, তাদের স্বচ্ছ দৃষ্টিভঙ্গি, সময়, শ্রম যেটি দিয়ে অর্জিত বড় আকারের একটি কর্মযজ্ঞের ফল সেগুলোকে নস্যাৎ বা অশ্রদ্ধা জ্ঞাপন করার ক্ষমতা ভিসির নেই। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থিতিশীল, শৃঙ্খলাপূর্ণ, সুষ্ঠু একাডেমিক পরিবেশ বিরাজ করছে। এখানে কেউ কোনোভাবে অশান্ত করার চেষ্টা করলে সেগুলো কোনোক্রমেই বিশ্ববিদ্যালয় সহ্য করবে না। সকলকে সেই বিষয়ে যত্নশীল থাকার আহ্বান জানান। দায়িত্ব গ্রহণ বিষয়ে তিনি বলেন, প্রত্যেকটি প্রক্রিয়ায় যথাযথ রীতিনীতি অনুসরণ করেই গৃহীত হবে।

রোকেয়া হলে ছাত্রীদের রাতভর বিক্ষোভ: এদিকে রোকেয়া হল সংসদের নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ এনে পুনঃনির্বাচন ও হল প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগ দাবিতে মঙ্গলবার রাতভর বিক্ষোভ করেছে হলটির আবাসিক ছাত্রীরা। রাত ১০টা থেকে শুরু হওয়া এ বিক্ষোভ চলে সকাল পর্যন্ত। এ সময় শিক্ষার্থীরা প্রাধ্যক্ষকে লাঞ্ছনার অভিযোগে করা মামলা প্রত্যাহারের দাবি করেন। রাত এবং গতকাল সকাল পর্যন্ত তারা হলের ভেতরের গেইটে বিক্ষোভ করেন। এসময় তারা হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. জিনাত হুদার পদত্যাগ চেয়ে ‘এক দফা এক দাবি, পদত্যাগ’ বলে স্লোগান দেয়। এসময় শিক্ষার্থীরা মিছিলের সময় হল প্রাধ্যক্ষকে হলে আসতে একাধিকবার কল দিলেও তারা সাড়া পাননি। এতে তাদের একটি অংশ ক্ষিপ্ত হয়ে হল প্রাধ্যক্ষের বাংলোর প্রধান গেইট ভাঙচুর করে। রাত আড়াইটার দিকে হলের সামনে প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম গোলাম রব্বানী আসলে শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে তিনি চলে যেতে বাধ্য হন। রোকেয়া হলের শিক্ষার্থী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মৌসুমি বলেন, সারারাত ধরে মেয়েরা বিক্ষোভ করেছে। প্রাধ্যক্ষের কোনো খোঁজ নেই। ফোন দিলেও ফোন ধরেন না। পূর্ণিমা দাস নামের আরেক ছাত্রী বলেন, আমরা হল সংসদে পুনঃনির্বাচন চাই আর মামলা প্রত্যাহার করা হোক। ছাত্রলীগের ইন্ধনেই ওই মামলা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ বিষয়ে রোকেয়া হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক জিনাত হুদা বলেন, পুনঃনির্বাচনের বিষয়ে আমার কিছু করার নেই। এটা নির্বাচন কমিশনের বিষয়।

তারা আমার পদত্যাগ দাবি করেছে সেখানে আমি কি করবো? মামলার বিষয়ে তিনি বলেন, আমি মামলার বিষয় গণমাধ্যম থেকে শুনেছি। এর সঙ্গে আমার এবং হল প্রাধ্যক্ষের কোনো সম্পর্ক নেই।
ছাত্রদলের বিক্ষোভ: এদিকে গতকাল বিশ্ববিদ্যালয়ে পুনঃনির্বাচনের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল বের করে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। বিক্ষোভ মিছিল শেষে তারা দুপুর ২টা পর্যন্ত ক্যাম্পাসে ছিলেন। এ বিষয়ে ছাত্রদলের প্যানেলে ডাকসুতে ভিপি পদে নির্বাচন করা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, নির্বাচনের আগের রাতেই ব্যালটে বাক্স ভর্তি করে রাখা হয়েছে। ভোটের দিন সকাল থেকে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের কারণে সাধারণ ভোটাররা ঠিকমতো ভোট দিতে পারেন নি। তিনি বলেন, তড়িঘড়ি করে নির্বাচনের ফল প্রকাশ করা হয়েছে। হলগুলোতে কেন্দ্রীয় সংসদের প্রার্থীদের ফল জানানো হয় নি, কারণ আগে থেকেই স্ক্রিপ্ট তৈরি করা ছিল। নিজেদের ইচ্ছামতোই প্রশাসন একটি সংখ্যা বসিয়ে দিয়েছে। নির্বাচন সুষ্ঠু হলে ছাত্রলীগের সঙ্গে ছাত্রদলের ভোটের এত বেশি ব্যবধান হওয়ার কথা নয়। তাই বলা যায়, এটা ছিল ভাগাভাগির নির্বাচন। পুনঃনির্বাচনের দাবিতে আন্দোলন করা পাঁচটি প্যানেলের সঙ্গে সমন্বিতভাবে আন্দোলন করা হবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আলোচনা চলছে। অচিরেই জানিয়ে দেয়া হবে।

বিক্ষোভে সমর্থন তিন হলের নির্বাচিত প্রার্থীদের: এদিকে রোকেয়া হলে রাতভর বিক্ষোভ এবং তাদের দাবির বিষয়ে পূর্ণ সমর্থন দিয়েছে হল সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী শামসুন নাহার হল সংসদ, বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল সংসদ এবং কবি সুফিয়া কামাল হল সংসদ। বুধবার বিকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলন থেকে এ সমর্থন দেয়া হয়। এসময় শামসুন্নাহার হল সংসদের জিএস আফসানা ছফা বলেন, রোকেয়া হলের সাধারণ ছাত্রীরা হলটিতে পুনঃনির্বাচনের দাবিতে যে বিক্ষোভ করছে তার প্রতি পূর্ণ সমর্থন করছি আমরা। তিনি বলেন, ছাত্রীরা যেসব বিষয়ে আন্দোলন করছে তা যৌক্তিক। গতকাল সারারাত ছাত্রীরা বাইরে বিক্ষোভ করলেও হল প্রাধ্যক্ষ কিংবা প্রক্টর তাদের সঙ্গে কথা বলতে যাননি। কিংবা তাদের দাবির বিষয়ে কোনা কথা বলেন নি। তাই আমরা হলটির সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছি। এ সময় উপস্থিত ছিলেন শামসুন নাহার হল সংসদের নবনির্বাচিত সহ-সভাপতি (ভিপি) শেখ তাসনিম আফরোজ, সাধারণ সম্পাদক (জিএস) আফসানা ছফা, কবি সুফিয়া কামাল হল সংসদের ভিপি তানজিনা আক্তার সুমা, জিএস মনিরা শারমিন, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের সংস্কৃতি সম্পাদক তাসনিম হালিম মিম প্রমুখ।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর