× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ২৪ মে ২০১৯, শুক্রবার

‘গ্যাসের দাম বাড়ানোর গণশুনানি তামাশা’

প্রথম পাতা

স্টাফ রিপোর্টার | ১৪ মার্চ ২০১৯, বৃহস্পতিবার, ১০:১৮

গ্যাসের দাম বাড়ানোর আগে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) গণশুনানির নোটিশের কার্যকারিতা স্থগিত চেয়ে করা রিটের    আংশিক শুনানি হয়েছে হাইকোর্টে। রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি শেষ করেছে। বিইআরসি ও পেট্রোবাংলার বক্তব্য শেষে ৩১শে মার্চ আদেশ দেবেন আদালত।
শুনানি শেষে রিট আবেদনের আইনজীবী ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া বলেছেন, ‘গ্যাসের দাম দ্বিগুণ বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়ে গণশুনানি করা তামাশার শামিল। একটা বিশেষ মহলকে সুবিধা দেয়ার জন্যই গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়ে গণশুনানির আয়োজন করা হয়েছে।’
বুধবার বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চে এ রিটের শুনানি হয়। গ্যাসের দাম বাড়াতে বিইআরসির গণশুনানি স্থগিত চেয়ে রিট আবেদনটি করে কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)।

আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া। পেট্রোবাংলার পক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম এবং বিইআরসির পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এফএম মেসবাহ উদ্দিন।
আইনজীবী জ্যোতির্ময় বড়ুয়া সাংবাদিকদের বলেন, গত বছর ১৬ই অক্টোবর গ্যাসের সঞ্চালন ও বিতরণ ফি বৃদ্ধি করেছিল বিইআরসি। এর বিরুদ্ধে রিট করলে রুল জারি করেন হাইকোর্ট। রুল বিচারাধীন থাকা অবস্থায় আবারো গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির প্রস্তাব করে গণশুনানির নোটিশ দিয়েছে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানটি। ওই নোটিশের কার্যকারিতা স্থগিত চেয়ে একটি আবেদন করেছি। ওই আবেদনের আংশিক শুনানি হয়েছে।

শুনানিতে জ্যোতির্ময় বড়ুয়া বলেন, ২০১০ সালের আইন অনুযায়ী বিতরণ ও সঞ্চালন সংক্রান্ত কতগুলো প্রাক বিধান আছে। বিধিমালা অনুযায়ী গ্যাস বিতরণ বা সঞ্চালনের জন্য যেসব সংস্থা কাজ করছে তারা যদি গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি বা পরিবর্তনের দাবি করে কোনো প্রস্তাব দেয়। তাহলে ওই প্রস্তাব তারা কিসের ভিত্তিতে দিয়েছে তার একটা যৌক্তিকতা সেখানে থাকতে হবে। এমনকি আইনে এটাও পরিষ্কার করে বলা আছে যে, ওই যৌক্তিকতা মূল্যায়ন করে দেখবে বিইআরসির কমিটি। মূল্যায়ন কমিটি দেখার পরে ওই প্রস্তাবের যৌক্তিকতার বিষয়ে তাদের নিজস্ব একটা সিদ্ধান্ত থাকবে। কমিটি যদি যৌক্তিক মনে করে তাহলে তারা নোটিশ দেবে গণশুনানির জন্য। আর যদি তারা এটাকে যৌক্তিক মনে না করেন তাহলে গণশুনানির জন্য নোটিশ দেবেন না।

তিনি বলেন, এখানে তিতাস গ্যাস বা আরো যেসব সংস্থা আছে তারা কোথাও দাম বাড়ানোর কারণ উল্লেখ করেনি। কেন তারা দাম বাড়াতে চাইছে তা বলেনি। এমনকি দাম বাড়ানোর কোনো যৌক্তিকতাও উল্লেখ করেনি। তারা ১০ ডলার করে গ্যাস আমদানির কথা বলেছেন।

এ সময় আদালত প্রশ্ন করেছেন যেখানে ভারত বাইরে থেকে ৬ ডলার করে গ্যাস আমদানি করে সেখানে আমরা কেন ১০ ডলার দিয়ে গ্যাস আমদানি করছি। আদালতের এ প্রশ্নের জবাব দিতে পারেনি পেট্রোবাংলা ও বিইআরসি।

জ্যোতির্ময় বড়ুয়া বলেন, গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির পুরো প্রক্রিয়াটি বেআইনিভাবে করা হয়েছে। আইন অনুযায়ী এক অর্থবছরে গ্যাসের দাম দুইবার বাড়ানো যাবে না। গত ১৬ই অক্টোবর দাম বৃদ্ধির পর আবার কিভাবে ১১ই মার্চ ২০১৯ সালে গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির জন্য গণশুনানি করতে পারে। আমি বলেছি, কোনো একটি বিশেষ মহলকে সুবিধা দেয়ার জন্য এই ধরনের তামাশা (মক ট্রায়াল) করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গ্যাসের দাম প্রায় দ্বিগুণ বাড়ানোর আবেদন করেছে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি। এর প্রেক্ষিতে গত ১১ই মার্চ থেকে গণশুনানি করছে বিইআরসি। গণশুনানির শুরুতে তিতাস গ্যাস আবাসিকে একচুলা ৭৫০ টাকা থেকে এক হাজার ৩৫০ টাকা, দুই চুলা ৮০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ৪৪০ টাকা, বাণিজ্যিকে ১৭ দশমিক ০৪ টাকার পরিবর্তে ২৪ দশমিক ০৫ টাকা করার প্রস্তাব দিয়েছে।
গণশুনানিতে গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রস্তাবের বিরোধিতা করে ব্যবসায়ীরা বলেছেন, এতে তাদের কারখানার চাবি তুলে দেয়া ছাড়া কিছু করার থাকবে না। নাগরিক সমাজ গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
পাঠকের মতামত
**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।
Shajusa
১৩ মার্চ ২০১৯, বুধবার, ৯:৪০

যত টাকা দুরনীতি করে দুরনীতি বন্ধকরুক গ্যাসের দাম বাডাতে হবে না

অন্যান্য খবর