× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ২৪ মে ২০১৯, শুক্রবার

শহিদুল আলমের মামলার তদন্ত স্থগিত

শেষের পাতা

স্টাফ রিপোর্টার | ১৫ মার্চ ২০১৯, শুক্রবার, ১০:০৮

খ্যাতিমান আলোকচিত্রী ড. শহিদুল আলমের বিরুদ্ধে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) আইনে করা রমনা থানার মামলার তদন্ত কার্যক্রম তিন মাসের জন্য স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট। মামলাটি ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে বিচারাধীন। ওদিকে রাষ্ট্রপক্ষ এ আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করবে বলে জানিয়েছে। একইসঙ্গে তথ্য ও প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় করা এ মামলা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অধীনে তদন্ত চলমান রাখা কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ও সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র সচিব, পুলিশ মহাপরিদর্শক, রমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (উত্তর) পরিদর্শক মো. মেহেদী হাসান, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (উত্তর) পরিদর্শক আরমান আলী এবং ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিমকে চার সপ্তাহের মধ্যে এ রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮ কার্যকর হওয়ার পরেও তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় মামলার তদন্ত চলার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে গত ৩রা মার্চ শহিদুল আলমের করা রিট আবেদনের ওপর প্রাথমিক শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি রাজিক আল জলিল সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে শহিদুল আলমের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এ এফ হাসান আরিফ ও ব্যারিস্টার সারা হোসেন। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। সঙ্গে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোখলেছুর রহমান।

এর আগে গত মঙ্গলবার এ রিটের শুনানিতে আদালত ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে থাকা মামলার নথি তলব করে বৃহস্পতিবার শুনানির জন্য রাখেন। এর ধারাবাহিকতায় নথি আসার পর গতকাল শুনানি হয়।
শুনানিতে আদালত অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুব আলমের কাছে জানতে চান মামলাটি সাইবার ট্রাইব্যুনালে গিয়েছিল কিনা।

জবাবে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, মামলাটি ট্রাইব্যুনালে গিয়েছিল কিনা সেটা বড় কথা নয়। অপরাধ হয়েছে কিনা সেটা দেখতে হবে।

আদালত বলেন, ৫৭ ধারা বিলুপ্তি হয়েছে। এখন তদন্ত চলবে কিনা? জবাবে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ৫৭ ধারা বিলুপ্ত হলেও মামলা চলমান থাকবে। জেনারেল ক্লজেজ অ্যাক্ট তাই বলছে।
এ পর্যায়ে রিট আবেদনের আইনজীবী এএফ হাসান আরিফ বলেন, মামলাটি ৫৭ ধারায় করা হয়েছে। ৫৭ ধারা বিলুপ্ত হয়ে গেছে। আইনে বলা হয়েছে ট্রাইব্যুনাল বা আদালতে মামলা সূচিত হলে বিচার চলমান থাকবে। যেহেতু শহিদুল আলমের মামলা এখনো তদন্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং মামলাটি ট্রাইব্যুনালে যায়নি তাই মামলাটি চলতে পারে না। এরপর আদালত মামলার তদন্ত স্থগিতের আদেশ দেন।

আদেশের পর আইনজীবী সারা হোসেন বলেন, ‘উনার (শহিদুল আলম) বিরুদ্ধে যখন মামলাটি হয় তখন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনটি ছিল। পরে আইনটির ৫৭ ধারা বাতিল করে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন করা হয়। ওই আইনে বলা হয়েছে, সাইবার ট্রাইব্যুনালে যদি কোনো মামলা সূচিত বা গৃহীত হয়, তবে সেগুলো চলবে। অন্য কিছু চলার কোনো এখতিয়ার নতুন আইনে রাখা হয়নি। এর প্রেক্ষিতে আমরা বলেছি, শহিদুল আলমের মামলাটি যেহেতু এখনো তদন্তাধীন, এখন পর্যন্ত যেহেতু ট্রাইব্যুনালে যায়নি, তাই এ মামলাটি আসলে রক্ষা করা হয়নি। মামলাটি যেহেতু পাকেনি (তদন্ত শেষ হয়নি) আমরা বলেছি মামলাটি নষ্ট হয়ে গেছে। সেই প্রেক্ষিতে হাইকোর্ট শহিদুল আলমের মামলার তদন্ত স্থগিত করেছেন।

গত বছরের ৫ই আগস্ট আল জাজিরাতে একটি সাক্ষাৎকার দেন শহিদুল আলম। তখন রাজধানীতে নিরাপদ সড়ক আন্দোলন চলছিল শিক্ষার্থীদের। ওইদিন রাতে রাজধানীর ধানমণ্ডির বাসা থেকে শহিদুল আলমকে তুলে নেয় পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। পরদিন ৬ই আগস্ট রমনা থানায় আইসিটি আইনে করা মামলায় শহিদুল আলমকে সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। এরপর একই বছরের ১২ই আগস্ট তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। হাইকোর্ট থেকে জামিন পেয়ে ১০৭ দিন কারাভোগের পর ২০১৮ সালের ২০শে নভেম্বর জামিনে মুক্তি পান তিনি।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর