× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ২৪ মার্চ ২০১৯, রবিবার

সারা বিশ্ব বাংলাদেশকে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে দেখে

শেষের পাতা

স্টাফ রিপোর্টার, টাঙ্গাইল থেকে | ১৫ মার্চ ২০১৯, শুক্রবার, ১০:১১

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, স্বজন হারানোর বেদনা নিয়েই আমার যাত্রা শুরু। মা-বাবা-ভাই হারিয়েছি। তখন একটাই আলো পেয়েছিলাম তা হলো জনগণের ভালোবাসা। জনগণের ভালোবাসা পেয়েছি, জনগণের আস্থা পেয়েছি। জনসেবা করার জন্যই কাজ করছি। বাংলাদেশের মানুষকে ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত একটা সমাজ উপহার দেয়ার আকাঙ্ক্ষা নিয়ে সোনার বাংলা গড়তে আমার বাবা সারাটা জীবন ত্যাগ স্বীকার করেছেন।

আমি সেই কথা মনে রাখার চেষ্টা করেছি। তার অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করে যেতে পারেন নি।
তার সে কাজের একটুও যদি করতে পারি তাহলে মনে করবো সেটাই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় সাফল্য। গতকাল টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে কুমুদিনী ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট অব বেঙ্গল (বিডি) আয়োজিত প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর রণদা প্রসাদ সাহা স্মারক স্বর্ণপদক প্রদান ও কুমুদিনীর ৮৬তম বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, বাংলাদেশকে আজকে কেউ দরিদ্র দেশ হিসেবে অবহেলা করতে পারে না। কেউ করুণার চোখে দেখে না। বরং সারা বিশ্ব বাংলাদেশকে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে দেখে। বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। ১০ বছরের মধ্যে এই পরিবর্তন আনতে পেরেছি।

বাংলাদেশকে নিয়ে আমরা আরো অনেক দূর এগিয়ে যেতে চাই। এদেশকে গড়ে তুলতে চাই। আজকের শিশুদের জন্য আগামীতে সুন্দর জীবন, সুন্দর ভবিষ্যৎ রেখে যেতে চাই। রণদা প্রসাদ সাহা সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দানবীর রণদা প্রসাদ সাহা এক হাতে অর্থ উপার্জন করতেন, আরেক হাতে বিলিয়ে দিতেন। মানুষের কল্যাণে তিনি দান করেছেন। মেয়েদের শিক্ষায়, চিকিৎসায় তিনি গুরুত্ব দিয়েছেন। কুমুদিনী ট্রাস্টের মাধ্যমে অনেক কাজ করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, দানবীর রণদা প্রসাদ সাহা ব্যাপকভাবে মানুষের জন্য কাজ করেছিলেন, তিনি বিধবাদের জন্য কাজ করেছিলেন তিনি শুধু মানুষের সেবা করার জন্য এবং মানুষকে মানুষের মতো  বেঁচে থাকার সুযোগ করে দেয়ার জন্য বিরাট এক কর্মযজ্ঞ গড়ে তুলেছিলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, রণদা প্রসাদ দরিদ্র পরিবারে জন্মগ্রহণ করা সত্ত্বেও পরিশ্রম ও বুদ্ধিমত্তায় তিনি বাংলার অন্যতম ধনী হিসেবে পরিণত হয়েছিলেন। তবে, অর্থ-বিত্তের মালিক হওয়ার পরও তিনি ভোগ-বিলাসে ডুবে যাননি।

বরং অর্জিত অর্থ মানবকল্যাণে ব্যয় করেছেন। এর আগে প্রধানমন্ত্রী চারজন গুণী ব্যক্তিকে রণদা প্রসাদ সাহা স্মারক স্বর্ণপদক প্রদান করেন। হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর পক্ষে শেখ রেহানা, কবি কাজী নজরুল ইসলামের পক্ষে খিলখিল কাজী পদক গ্রহণ করেন। এ ছাড়া অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলাম ও চিত্রশিল্পী শাহাবুদ্দিন আহমেদকে স্বর্ণপদক প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছোট বোন শেখ রেহানা, টাঙ্গাইল-৭ (মির্জাপুর) আসনের সংসদ সদস্য একাব্বর হোসেন। সভাপতিত্ব করেন কুমুদিনী ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের পরিচালক প্রতিভা মুৎসুদ্দী। বক্তব্য রাখেন  কুমুদিনী ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাজিব প্রসাদ সাহা ও ট্রাস্টের পরিচালক শ্রীমতি সাহা। রণদা প্রসাদ সাহা স্মারক স্বর্ণপদক প্রদান অনুষ্ঠানে যোগ দেয়ার আগে প্রধানমন্ত্রী ১২টি প্রকল্পের উদ্বোধন ও ১৯টির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। আরপি সাহা নামে পরিচিত রণদা প্রসাদ সাহা ছিলেন একজন প্রখ্যাত ব্যবসায়ী ও জনহিতৈষী ব্যক্তিত্ব। তিনি তার সব সম্পদ দেশ ও মানুষের জন্য দান করেছেন।

ভারতেশ্বরী হোমস, কুমুদিনী উইমেনস মেডিকেল কলেজ, কুমুদিনী হাসপাতাল, রণদা প্রসাদ সাহা বিশ্ববিদ্যালয়, কুমুদিনী নার্সিং স্কুল ও কলেজ, টাঙ্গাইল কুমুদিনী গার্লস কলেজ, মির্জাপুর ডিগ্রি কলেজ, মির্জাপুর এস কে পাইলট বয়েজ অ্যান্ড গার্লস হাইস্কুল, মানিকগঞ্জ দেবেন্দ্র কলেজের মতো অনেক প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেছেন আরপি সাহা। ১৯৭১ সালের ৭ই মে পাকিস্তানি  সেনাবাহিনী আরপি সাহা ও তার ছেলে ভবানী প্রসাদ সাহাকে তাদের বাড়ি  থেকে তুলে নিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে। কুমুদিনী পরিবার এই দানবীরের নামে ২০১৫ সালে রণদা প্রসাদ সাহা স্বর্ণপদক প্রবর্তন করে।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর