× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ২৬ মার্চ ২০১৯, মঙ্গলবার

ডলার, রিয়ালের প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণা

এক্সক্লুসিভ

স্টাফ রিপোর্টার | ১৬ মার্চ ২০১৯, শনিবার, ৮:৪৭

ডলার, রিয়ালের প্রলোভন দেখিয়ে অভিনব কৌশলে হাতিয়ে নিতো সর্বস্ব। কুড়িয়ে পাওয়ার অভিনয় করে টার্গেট ব্যক্তির কাছে গিয়ে জানতে চাইতো, এগুলো কোন দেশের টাকা, কীভাবে বিদেশি মুদ্রাগুলো বাংলাদেশি টাকায় ভাঙানো যাবে? এভাবে প্রতারণা শুরু করতো চক্রের সদস্যরা। এরপর কম টাকাতে হলেও বিদেশি মুদ্রাগুলো ভাঙাতে চায় জানিয়ে সহযোগিতা চাইতো। প্রলোভনে পড়ে কম দামে এসব মুদ্রা কিনে প্রতারণার শিকার হয়েছেন অনেকেই। কারণ, বান্ডেলে দু’একটি ডলার, রিয়াল নোট মিললেও ভেতরে থাকতো কাগজ।

এই প্রতারক চক্রের সাত সদস্যকে গ্রেপ্তার করার পর এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানিয়েছে র‌্যাব। গতকাল দুপুরে র‌্যাবের কাওরান বাজারের মিডিয়া সেন্টারে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। তার আগে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে রাজধানীর ভাটারা থানার কুড়িল বিশ্বরোড এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রতারক চক্রের সদস্যদের গ্রেপ্তার করা হয়।
প্রতারণার পাশাপাশি তারা সবাই রং মিস্ত্রি হিসেবে কাজ করে। গ্রেপ্তারকৃতরা হচ্ছে, আবু শেখ (৩৮), শাহিন মাতব্বর (৩৭), মহসিন মিয়া (৪৫), আবুল বাশার (৪০), কামরুল শেখ (৩৫), ইশারত মোল্লা (২৭) ও আবদুর রহমান মোল্লা (৪০)। তাদের কাছ থেকে এক হাজার ৫০০ রিয়াল, তিন হাজার ৮২২ টাকা ও ১০টি মোবাইলফোন জব্দ করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব-১ এর অধিনায়ক (সিও) লে. কর্নেল সারওয়ার বিন কাশেম বলেন, আবু শেখ এই প্রতারক চক্রের মূল হোতা। তার নেতৃত্বে দীর্ঘদিন ধরে চক্রটি অভিনব পন্থায় প্রতারণা চালিয়ে আসছিল। প্রতারক চক্রটি কখনো বাসায় ঢুকে বয়স্ক ব্যক্তিদের টার্গেট করতো। কখনো আবার রাস্তায় দামি গাড়ির যাত্রীদেরও টার্গেট করতো। তারা রিয়াল দেখিয়ে কম মূল্যে বিক্রির কথা বলে প্রলোভন দেখাতো। ব্যক্তি রাজি হলেই, টাকার বিনিময়ে উপরে কয়েকটি রিয়াল নোট আর ভেতরে কাগজ দিয়ে বানানো বান্ডেল হস্তান্তর করে কেটে পড়তো। চক্রটি বিভিন্নভাবে সাধারণ মানুষকে ফাঁদে ফেলে প্রতারণা করতো বলে জানান তিনি।

তিনি আরো বলেন, গুলশান-বনানীর মতো অভিজাত এলাকায় যানজটে আটকে থাকা প্রাইভেটকারের যাত্রীদের টার্গেট করতো এই চক্রের সদস্যরা। তারা গাড়ির বাইরে থেকে ডলার বা রিয়ালের নোট দেখাতো এবং অনেক নোট আছে বলে জানাতো। এ সময় কম দামে কিনতে আগ্রহী সেজে প্রতারক চক্রের অন্য সদস্যরা দর কষাকষি করতো। তখন টার্গেটকৃত ব্যক্তি কেনার ফাঁদে পা দিলে, টাকার বিনিময়ে রিয়াল ভর্তি ব্যাগ দিয়ে পুলিশ দেখে ফেলবে বলে দ্রুত কেটে পড়তো। কিছু বুঝে ওঠার আগেই কাগজ বা কাপড় দিয়ে মোড়ানো ভুয়া বান্ডেলে প্রতারণার শিকার হোন ক্রেতা।
ইজতেমা ময়দান ও হজ ক্যাম্পেও একই কৌশলে চক্রটি প্রতারণা করেছে অনেকের সঙ্গে। সেখানে গ্রাম থেকে আসা লোকদের ফাঁদে ফেলে এ পর্যন্ত কয়েক লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে তারা। চক্রটি রিয়াল হস্তান্তরের জন্য বিভিন্ন শপিংমল কিংবা জনবহুল জায়গা ঠিক করতো, যেন টাকা নিয়ে দ্রুত কেটে পড়তে পারে।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর