× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ২৪ মার্চ ২০১৯, রবিবার

সিনেমা হল বন্ধের সিদ্ধান্তে মিশ্র প্রতিক্রিয়া

বিনোদন

কামরুজ্জামান মিলু | ১৬ মার্চ ২০১৯, শনিবার, ৮:৪৯

চলচ্চিত্রের সংকট যেন ক্রমশ বেড়েই চলেছে। আশঙ্কাজনকহারে কমে গেছে দেশের সিনেমা নির্মাণ। অন্যদিকে প্রেক্ষাগৃহের আয় নিয়ে সন্তুষ্ট নন প্রেক্ষাগৃহের মালিকেরা। দেশের বাইরের ছবি প্রদর্শনেও রয়েছে কঠোর নিয়ম। লোকসান গুনতে গুনতে পিঠ নাকি দেয়ালে ঠেকেছে বলে মনে করছেন প্রদর্শক সমিতি। তাই গত বুধবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে দেশের সব প্রেক্ষাগৃহ বন্ধ করে দেয়ার ঘোষণা দেন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির নেতারা। এ সিদ্ধান্তে চলচ্চিত্রের প্রযোজক, শিল্পী ও নির্মাতারা দিয়েছেন ভিন্ন ভিন্ন মত। চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির বর্তমান সভাপতি ও জনপ্রিয় খল অভিনেতা মিশা সওদাগর এ প্রসঙ্গে বলেন, প্রদর্শক সমিতির সিদ্ধান্তকে ছোট করে দেখা উচিত হবে না।
তবে এ সমস্যার দ্রুত সমাধান করা উচিত। তাদের সমস্যার সমাধানে বেসরকারি এবং সরকারিভাবে কিছু সাহায্য পাওয়া উচিত। অন্যদিকে বলতে চাই তাদের মধ্যে কেউ যদি ভাবে, অন্যের বাসার খাবার এনে নিজের বাসার খাবার চালাবো সেটা ভাবাও ঠিক হবে না। এ কথার অর্থ হচ্ছে, অন্য দেশের বিদেশি ছবি এখানে চালিয়ে প্রেক্ষাগৃহ রমরমা ব্যবসা করবে এটা ভাবাও ঠিক হবে না তাদের। এটা সমস্যার সমাধান না। সিনেমা হলগুলো সংস্কার করার জন্য সরকারের সঙ্গে বসে সঠিকভাবে তাদের সব সমস্যাগুলো তুলে ধরতে হবে। সরকারিভাবে বিভিন্ন সুবিধা পেলে এবং প্রেক্ষাগৃহগুলো সঠিকভাবে সংস্কার হলে অবশ্যই এ সমস্যার সমাধান হবে। এদিকে দর্শকপ্রিয় নির্মাতা ও পরিচালক সমিতির সহ-সভাপতি মনতাজুর রহমান আকবর বলেন, সিনেমা হল টিকে রাখার দায়িত্ব তো পরিচালক বা প্রযোজকের না। সব দোষ এদিকে দিলে তো হবে না। তাদের তো আমরা অনেক জনপ্রিয় ছবি
উপহার দিয়েছি। সেই ছবির মাধ্যমে তারা দীর্ঘ সময় ব্যবসা করেছে। এখন তাদের সিনেমা হল টিকে রাখতে হলে নিজেদেরও চলচ্চিত্রে প্রযোজনা করা উচিত। উনারা ইনভেস্ট করেন না কেন? এদিকে আরেক দর্শকপ্রিয় নির্মাতা শাহীন সুমন বলেন, বেশকিছু সিনেমা হল চলচ্চিত্র প্রযোজকদের শেয়ার মানি ঠিকমতো দেয় না। প্রেক্ষাগৃহ বন্ধ করে দিতে চাইলে বন্ধ করে দিক তারা। এটা তাদের সিদ্ধান্ত। তবে আমি বলতে চাই সিনেমাহলগুলো অন্য প্রতিষ্ঠান থেকে মেশিন ভাড়া করে এনে প্রযোজকের পকেট থেকে টাকা বের করে নেবে এটাও তো ঠিক না। প্রতিটি সিনেমা হলের নিজস্ব মেশিন থাকা উচিত। আর সকল সিনেমা হল মালিকরা তো চায় না, সিনেমা হল বন্ধ হোক। এটা একটা আওয়াজ। সিনেমা হল বন্ধ করার হুমকি দিয়ে বিদেশি ছবি এনে চালানোর চেষ্টা এটা। আর বিদেশি ছবি একই দিনে ঢাকায় মুক্তি দেয়ার জন্য যে খরচ সেটা কি তারা বহন করতে পারবে? এসব আওয়াজ না দিয়ে সমস্যার সমাধান করা উচিত। চলচ্চিত্র প্রযোজক মোহাম্মদ হোসেন বলেন, একদিকে সিনেমা হলের মালিকরা দীর্ঘদিন ধরে চলচ্চিত্রের ব্যবসা না হবার কারণে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। কর্মচারীদের ঠিকমতো বেতন দিতে পারছে না অনেক সিনেমা হল। তাই দেশীয় ছবি চালানোর পাশাপাশি ভালো মানের বিদেশি সিনেমা হলে চালিয়ে দীর্ঘদিনের ক্ষতি পূরণ করতে চাইছে। মূলত এসব কারণে আন্দোলনের ডাক দিয়েছে। অপরদিকে আমি বলতে চাই সিনেমা হল মালিকদের নিজেদেরও উদ্যোগ নেয়ার সময় এসেছে। বিত্তশালী লোকদের ছবি নির্মাণের ব্যাপারে উৎসাহিত করার পাশাপাশি নিজেরাও সিনেমা প্রযোজনা করার সময় এসেছে। সিনেমা হল টিকিয়ে রাখার জন্য তাদেরও এখন দেশীয় সিনেমা প্রযোজনা করা উচিত। আলোচনায় বসে এসব সমস্যার সমাধান করা প্রয়োজন। সিনেমা হল বন্ধ কোনো সমাধান না।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর