× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ২০ মার্চ ২০১৯, বুধবার

নবীগঞ্জে নৌকা পরাজয়ের নেপথ্যে-

বাংলারজমিন

এম এ বাছিত, নবীগঞ্জ থেকে | ১৬ মার্চ ২০১৯, শনিবার, ৮:৫৩

নবীগঞ্জে ১০ই মার্চ অনুষ্ঠিত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিদ্রোহী উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক (বহিষ্কৃত) আলহাজ ফজলুল হক চৌধুরী সেলিম এবং আওয়ামী লীগ (নৌকা) মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট আলমগীর চৌধুরীর পরাজয় নিয়ে বিশ্লেষণ শুরু হয়েছে। বিএনপিবিহীন ওই নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থীর (ঘোড়া) আর নৌকা প্রতীক ছাড়াও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের প্রচেষ্টায় মাত্র ৪২ শতাংশ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। নির্মোহ ভোট উৎসবে ভোটার উপস্থিতি ছিল অতি নগণ্য। এর মধ্যে বিরোধী ফ্রন্টের নেতাকর্মী বিদ্রোহী প্রার্থীর বিজয়ে স্বপ্রণোদিত ভূমিকা পালন করে। ওদিকে, বিরোধী দলবিহীন নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী নিয়ে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের নীরবতা ছাড়াও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে খুশি সাধারণ ভোটার। উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক হিসেবে বিজয়ী সেলিমের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার নিয়ে আশাবাদী আওয়ামী বলয়ের লোকজন। রাজনৈতিক ও দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, উপজেলা শহরের বনেদি পরিবারের সন্তান হিসেবে বিদ্রোহী প্রার্থী আলহাজ ফজলুল হক চৌধুরী সেলিমের সু-পরিচিতি রয়েছে। সর্বজনীন ইমেজ নিয়ে বাজিমাত করেন তিনি।
সদ্য অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থিতা নিয়ে আয়োজিত কাউন্সিলে মাত্র ৭ ভোটের ব্যবধানে (৯৭ ভোটের বিপরীতে ৯০ ভোট) পরাজিত হন। কাউন্সিলে বিজয়ী আলমগীর চৌধুরীকে দলীয় প্রতীক দেয়া হয়। বিএনপিবিহীন ওই নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে (ঘোড়া) প্রতীক নিয়ে প্রায় ২২ হাজার ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হন ফজলুল হক চৌধুরী সেলিম। ওদিকে, দলীয় প্রার্থী আলমগীর চৌধুরী (নৌকা) প্রতীক নিয়ে পরাজিত হন। নৌকার সমর্থনে সংসদ সদস্য আলহাজ গাজী মো. শাহ নওয়াজ মিলাদের কোনো প্রচেষ্টাই কাজে আসেনি। যুবলীগ থেকে সেলিমকে বহিষ্কার, উপজেলার ৬টি ইউনিয়ন যুবলীগের কমিটি বিলুপ্ত করেও লাভ হয়নি। বহিষ্কারের ফলে উপজেলা আওয়ামী লীগের বড় একটি অংশ সেলিমের সমর্থনে সরব হয়। এছাড়াও মৎস্যজীবী সম্প্রদায়ের সাম্প্রদায়িক গুজবে বেঁকে বসে নৌকার ঘাঁটিখ্যাত সনাতন ধর্মাবলম্বী অঞ্চলের লোকজন। এনিয়ে চরম সংকটে পড়েন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট আলমগীর চৌধুরী। দায়িত্বশীল একাধিক সূত্র জানায়, সাম্প্রদায়িক গুজব ছাড়াও সিন্ডিকেটকেন্দ্রিক নিয়োগ বাণ্যিজ্যের অভিযোগ, ভবিষ্যৎ জাতীয় নির্বাচনকেন্দ্রিক সিন্ডিকেট, কতিপয় নেতার এগ্রিসিভ অপ-প্রচারে নৌকার সমর্থনে বিপর্যয় দেখা দেয়। সাধারণ ভোটার বিদ্রোহী প্রার্থী আলহাজ ফজলুল হক চৌধুরী সিলেমের (ঘোড়া) প্রতীক নিয়ে একাট্টা হয়। এছাড়াও সদ্য অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচন নিয়ে বিরোধী ফ্রন্টের ক্ষোভের শিকারে পরিণত হন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোট আলমগীর চৌধুরী। হবিগঞ্জ জেলায় রাজনীতিবিদ হিসেবে পরিচিত মুখ আলমগীর চৌধুরীর বিরুদ্ধে শহরের বিতর্কিত বিশেষ একটি পরিবার ছাড়াও আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের বিতর্কিত নেতাদের বিশেষ সুবিধা দেয়ার অভিযোগ উঠে। এসব নিয়ে ক্ষুব্ধ সনাতন ধর্মাবলম্বী জনৈক প্রভাবশালী নেতা বিদ্রোহী প্রার্থী সেলিমকে নিয়ে বাজিমাত করেন। বিজয়ের নেপথ্যে কারিগর হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন শিক্ষিকা গৃহবধূ মিসেস পান্না চৌধুরী। উল্লেখ্য, উপজেলায় ১১৫টি কেন্দ্রভিত্তিক প্রাপ্ত ফলাফলে বিদ্রোহী প্রার্থী আলহাজ ফজলুল হক চৌধুরী সেলিম ঘোড়া প্রতীক নিয়ে ৪৭ হাজার ২৩০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটম প্রতিদ্ধন্দ্বী আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আলমগীর চৌধুরী (নৌকা) প্রতীকে পান ২৬ হাজার ১৩৩ ভোট।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর