× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ২৫ এপ্রিল ২০১৯, বৃহস্পতিবার

মুনমুন সেন আশাবাদী

ভারত

পরিতোষ পাল, কলকাতা থেকে | ২১ মার্চ ২০১৯, বৃহস্পতিবার, ৩:৪৬

মহানায়িকা সুচিত্রা সেনের কন্যা তিনি। আর মায়ের নামকে সম্বল করেই মুনমুন সেন ওরফে শ্রীমতী দেববর্মা নতুন কেন্দ্র আসানসোলে ভোট প্রচার শুরু করেছেন। তাঁর প্রতিটি ফ্লেক্স ও ব্যানারে থাকছে মহানায়িকার ছবি। এই ভাবেই আবেদন রাখা হচ্ছে যে, মুনমুনকে ভোট দেওযা মানেই সুচিত্রা সেনকে সম্মান জানানো। গতবার বাঁকুড়া কেন্দ্রে প্রার্থী হিসেবে প্রচারেও সুচিত্রা সেনের কন্যা হিসেবেই নিজেকে তুলে ধরেছিলেন। তবে এবার আসানসোলে পা দিয়ে মুনমুন  প্রথমেই স্বীকার করে নিয়েছেন, আসানসোল সম্পর্কে বিশেষ কিছু জানেন না। ফলে তার ভরসা দলের জেলা নেতৃত্ব। সেই সঙ্গে দলের কর্মীসভায় মুনমুন একটিই আবেদন রেখেছেন, সব দ্বন্দ্ব দূরে সরিয়ে আসুন আমরা একসঙ্গে কাজ করি।
আসলে গতবার আসানসোল কেন্দ্রে পরাজয়ের প্রধান কারণ ছিল দলীয় গোষ্ঠী কোন্দল। সেটা মুনমুন জানেন বলেই সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার বার্তা দিযেছেন প্রথমেই।

সেইসঙ্গে জানিয়েছেন, তৃণমূল কংগ্রেস খুবই সংগঠিত দল। ফলে দলীয় নেতাদের সঙ্গে নিয়ে ঘরে ঘরে পৌঁছে যাবেন সহজেই। বলেছেন,  বাঁকুড়ার মানুষ জানে, আমি তাদের জন্য কি করেছি। তবে আসানসোলে আমাকে আরও পরিশ্রম করতে হবে। এই কেন্দ্রের উন্নয়নের গতিকে ত্বরান্বিত করার সুযোগও রয়েছে। আমি জিতে সেই কাজটিই করতে চাই।  

গতবার বাঁকুড়া কেন্দ্র থেকে সিপিআইএমের জাঁদরেল প্রার্থী বাসুদেব আচারিয়াকে পরাজিত করেছিলেন রাজনীতিতে নবাগতা অভিনেত্রী মুনমুন সেন। কিন্তু এবার তাঁকে প্রার্থী করা হবে কিনা তা নিয়ে বিস্তর গুঞ্জন তৈরি হযেছিল। দলের মধ্যেও মুনমুন সেনকে নিয়ে ক্ষোভ পুঞ্জীভ’ূত হয়েছিল। সাধারণ মানুষের অভিযোগ, সেলিব্রিটি হওযায় তাঁকে বিপদে আপদে খুব একটা পান নি। তাঁকে নিয়ে যে দলের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে সেটা মুনমুনের কানেও গিয়েছিল। সংসদে এলাকার বিভিন্ন দাবির কথা যেমন তোলেন নি, তেমনি বিতর্ক ও প্রশ্ন পর্বেও মুনমুন গত ৫ বছরে অংশ নেননি। অবশ্য সাংসদ তহবিলের প্রায় সবটা অর্থই খরচ করে উন্নয়নের কাজ করেছেন । বিছুদিন ধরেই  মিডিয়াতে যেভাবে বলা হচ্ছিল যে, দেব বাদে সব সেলিব্রিটি প্রার্থীদেরই বাদ দেওযা হবে তা শুনে মুনমুন ব্যাথিতই হয়েছিলেন। তবে মুম্বাই থাকাকালীনই স্বামী ভরত দেববর্মন ফোনে তাঁকে জানান যে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে ফের প্রার্থী করেছেন। অবশ্য কেন্দ্র বদল করে তাঁকে নিয়ে আসা হয়েছে আসানসোলে।

খবরটা জানার পর মুনমুন কি করে উঠবেন তা ভেবে পাননি। পরে ঠিক করেছেন, দিদি যখন আস্থা রেখেছেন তখন তিনি আসানসোল থেকেই লড়াই করবেন। আসানসোল অবশ্য বিজেপির জয়ী আসন। এই কেন্দ্র থেকে গতবার জয়ী হয়েছেন বিজেপির সেলিব্রিটি প্রার্থী গায়ক বাবুল সুপ্রিয়। এবারও তিনিই এই কেন্দ্রে প্রার্থী হবেন বলে ঠিক রয়েছে। তাই বাবুলের বিরুদ্ধে তাঁর লড়াইটা যে চ্যালেঞ্জ সেটা মুনমুন জানেন। তবে গলায় আত্মপ্রত্যয় রেখেই  বলেছেন, আমি এই কেন্দ্র থেকে জিতবই। রবিবার মুম্বাই থেকে কলকাতা বিমান বন্দরে পা দিয়ে সোজা চলে গিয়েছিলেন আসানসোলে। সেখানে কল্যাণেশ্বেরী মন্দিরে পুজো দিয়ে শুরু করেছেন প্রচার।

সেলিব্রিটি বলেই তাঁকে ঘিরে সহজেই মানুষের ভিড় তৈরি হচ্ছে।  কেন্দ্র পরিবর্তন নিয়ে মুনমুনের সাফ জবাব, দিদি চান, তাই আসানসোলে এসেছি। আসানসোলের বিশেষ কিছু জানি না। কিছু কয়লা খনি আছে বলে জানি। এক সময় এখানে অনেক অনুষ্ঠান করেছি। কাজ করতে এসেছি। তবে আমি জিতবোই।
বাংলা চলচ্চিত্রে মহানায়িকা সুচিত্রা সেনের কন্যা হয়েও অভিনয়ে তাঁর পদার্পণ ঘটেছিল বিয়ের পর । বাংলা, হিন্দি সহ অনেক দক্ষিনী চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। টিভি ধারাবাহিকেও অভিনয় করেছেন। তবে অন্য অভিনেত্রীদের মত গ্ল্যামার কুইন না হয়ে উঠলেও সুচিত্রার কন্যা হিসেবে আলাদা আভিজাত্য ছিল মুনমুনের। সুচিত্রার মৃত্যুর আগে হাসপাতালে থাকাকালীন সময়েই তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়।

সুচিত্রার চিকিৎসার জন্য মমতা যেভাবে হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন তাতে মুনমুন কৃতজ্ঞ। এই কৃতজ্ঞতার জন্যই ২০১৪ সালে প্রার্থী হওয়ার প্রস্তাবে মুনমুন না বলতে পারেননি। প্রথম নির্বাচনেই সিপিআইএমের ৯ বারের সাংসদকে পরাজিত করে হৈচৈ ফেলে দিয়েছিলেন। অন্যদের মত মুনমুন ভোকাল নয়। কথা বলেন বিনীতভাবে। নেপথ্যে থাকতেই বেশি পছন্দ করেন। রাজনীতির ক্ষেত্রে যা অনেকটাই বেমানান। আসানসোল কেন্দ্রে প্রচার শুরু করে গতবারের বিজয়ী প্রার্থী বিজেপির বাবুল সুপ্র্রিয়কে নিয়ে কোনও কথাই বলেন নি। পরে অবশ্য বলেছেন, ও মিস্টি ছেলে। কে বলতে পারে বাবুল তৃণমূল কংগ্রেসে আসবে না।  অথচ মুনমুন সেনকে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে ঘোষনার পরেই বাবুল টুইট করে লিখেছিলেন, নির্বাচনে মমতাদি সবসময়ই আমাকে সেন-সেনাল প্রার্থী উপহার দেন। আগেরবার দিয়েছিলেন দোলা সেন, এবার মুনমুন সেন। 

বাবুলের এই কটাক্ষ শুনে তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী বাবুলকে আনকালচারড বললেও মুনমুন কোনও মন্তব্য করেন নি। বরং বিনয়ীই থেকেছেন। দলীয় সহ প্রার্থী শতাব্দী রায়ের মত প্রচারে ঝড় তোলার চেয়ে মুনমুন ধীর লয়েই চলতে আগ্রহী। বিতর্ক এড়িয়ে চলতেও আগ্রহী। কেন্দ্র চেনার দিকেই প্রথমে তিনি জোর দিয়েছেন। ভোটারদের কাছে তাঁর একটিই আবেদন, আমাকে ভালবেসে ভোট দিন। মহানায়িকার কথাও মনে করিয়ে দিয়েছেন ভোটারদের। সুচিত্রার দুই নাতিও যে এই কেন্দ্রে প্রচারে গা ঘামাবেন সেটাও প্রকাশ্যে জানিযে দিযেছেন। মমতাদির ক্যারিশ্মার পাশাপাশি মা ও মেয়েদের ক্যরিশ্মাকেও মুনমুন কাজে লাগানোর জন্য তৈরি। তিনি বলেছেন, কোনও দিন তাঁর অভিনেত্রী দুই মেয়ে রিয়া ও রাইমাও রাজনীতিতে আসবে। তার আগে গতবারের মত এবারও মায়ের নতুন কেন্দ্রে ঝড় তুলবেন দুই কন্যা।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর