× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ২৩ জুলাই ২০১৯, মঙ্গলবার

লোকসভা নির্বাচনের ডায়েরি

ভারত

পরিতোষ পাল,কলকাতা | ৩০ মার্চ ২০১৯, শনিবার, ১১:০২

অভিযোগের অ্যাপে ও ফোনে নানা আবদার
ভারতের নির্বাচন কমিশন দেশের সাধারণ নাগরিকদের কাছ থেকে নির্বাচন সংক্রান্ত অভিযোগ জানানোর জন্য একটি টোলফ্রি নম্বর এবং তিনটি পোর্টাল চালু করেছেন। নির্বাচন সংক্রান্ত বিষয়ে কোনও অভিযোগ থাকলে বা কিছু জানার থাকলে এই নম্বরে ফোন করতে পারেন সাধারণ মানুষ। আছে তিনটি পোর্টাল। সেখানেও অভিযোগ জানাতে পারছেন ভোটারেরা। কিন্তু কমপ্লেন মনিটরিং সেলের কাজের সঙ্গে যুক্ত নির্বাচন কর্মীদের নানা আবদারও শুনতে হচ্ছে। অনেকে মজার পর্যায়ে নিয়ে যাচ্ছেন এই ব্যবস্থাকে। যেমন এক তরুণী বলেছেন, বয়ফ্রেন্ড পাত্তা দিচ্ছে না। কিছু করতে পারেন? আবার একজন ফোনে জানাচ্ছেন, দাদা আমার বউ রান্না করেনি।
কী করি বলতে পারেন ? এই ধরণের প্রশ্নে বিরক্ত নির্বাচনী কর্মীরা। তারা শুধু বলছেন, নির্বাচন সংক্রান্ত অভিযোগ থাকলেই জানান। এদিকে আবার  কেউ বা ‘সিটিজেন ভিজিল অ্যাপ’-এ পাঠিয়ে দিচ্ছেন গামছা পরা সেলফি। কেউ বা বাগানের গোলাপ ফুলের ছবি পাঠিয়ে দিচ্ছেন। এভাবে অপব্যবহারে খানিক হলেও হতাশ নির্বাচন কর্মীরা। আবার নির্বাচনী বিধিভঙ্গের নামে ভুয়ো খবর দেওয়াতেও বিভ্রান্ত হচ্ছে নির্বাচনী কর্মীরা। তবে শুধু মজা নয়, অনেকেই ফোনে বা পোর্টালে প্রশাসনিক বিষয়েও অভিযোগ জানাচ্ছেন। কর্মীদের বক্তব্য, ভুয়ো অভিযোগ যত কম আসবে তাদের কাজ করতে আরও সুবিধা হবে।

ভোটের আগে ধরা পড়ছে নগদ টাকাসহ সোনার গহনা
লোকসভা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকেই পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে পাওয়া যাচ্ছে বিপুল পরিমাণে হিসাব বহির্ভূত টাকা। কলকাতা পুলিশ, রাজ্য পুলিশ এবং আয়কর বিভাগের তল্লাশিতে এখন পর্যন্ত নগদ, গয়না মিলিয়ে রাজ্যে ২০ কোটি রুপি বাজেয়াপ্ত হয়েছে। এর মধ্যে নগদে ১১ কোটি রুপি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। শুধু টাকা নয়, পাল্লা দিয়ে আটক করা হচ্ছে সোনা এবং রুপোও। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর সূত্রে খবর, এখনও পর্যন্ত এ রাজ্যে প্রায় ১০ কোটি টাকার সোনা এবং রুপো আটক করা হয়েছে। গত কয়েক দিনে মধ্য কলকাতার অভিজাত বরদান মার্কেটে দু’জনের কাছ থেকে সাড়ে পাঁচ কোটি টাকার গয়না আটক করা হয়। সাধারণভাবে নির্বাচনের সময় নির্বাচন কমিশন বেআইনি লেনদেনের উপর কড়া নজর রাখে। বিপুল পরিমান নগদ টাকা নিয়ে ধরা পড়ার পর বৈধ নথিপত্র দেখাতে না পারলে তা বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এমনকি, কারও ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে যদি ১০ লক্ষ টাকার বেশি লেনদেন হয় এবং সেই গ্রাহক টাকার উৎস জানাতে ব্যর্থ হন, তা হলে পুলিশ এবং আয়কর দফতর পদক্ষেপ করতে পারে। ইতিমধ্যেই কমিশন রাজ্যের ৪২টি লোকসভা কেন্দ্রের খরচে নজরদারির জন্য ৪৪ জন পর্যবেক্ষক (এক্সপেনডিচার অবজারভার) নিয়োগ করেছেন।

সোস্যাল মিডিয়াতেও নজরদার অফিসার
ভোট পর্বে রাজনৈতিক ময়দানের মতোই ভোটের উত্তাপে তপ্ত হয়ে উঠছে সোশ্যাল মিডিয়া। সেখানে কখনও ট্রোল, কখন বা ভুয়ো খবর কিংবা বিদ্বেষ বা উস্কানিমূলক মন্তব্য করার অভিযোগ উঠছে। সেগুলো ক্রমশই মাথাব্যথা হয়ে উঠেছে নির্বাচন কমিশনের। তৃণমূল কংগ্রেসের দুই তারকা প্রার্থী নাম ঘোষণার পর থেকেই সোস্যাল মিডিয়াতে ক্রমাগত ট্রোলড হয়েছেন। এ-সবক্ষেত্রে নজরদারি করতে আলাদা নোডাল অফিসার নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। সংবাদমাধ্যম এবং গণমাধ্যম বা সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভিন্ন খুঁটিনাটি বিষয়ে নজর রাখার জন্য মিডিয়া সার্টিফিকেশন এবং মনিটরিং কমিটিও (এমসিএমসি) রয়েছে। এই কমিটিতে রয়েছেন সোশ্যাল মিডিয়া বিশেষজ্ঞদের। তবে এবার আরও এক ধাপ এগিয়ে শুধু সোশ্যাল মিডিয়ার বিষয়ে নজর রাখার জন্য পৃথক নোডাল অফিসার নিয়োগ করেছে কমিশন। সোশ্যাল মিডিয়ার কোনও কিছু নিয়ে অভিযোগ হলে কিংবা সিইও অফিসের মিডিয়া ওয়াচ টিমের নজরে কিছু এলে সেই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন নোডাল অফিসার। তার পরে তা কমিশনের তিন জন নোডাল অফিসারের কাছে পাঠিয়ে দেবেন। রাজ্যগুলির মতোই কমিশনেও নতুন তিনজন নোডাল অফিসার নিয়োগ করা হচ্ছে। তাঁরা তা বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ার জন্য নিযুক্ত গ্রিভান্স অফিসারের কাছে পাঠিয়ে দেবেন। তারপরে সেই অভিযোগের প্রেক্ষিতে কী করা উচিত, সিদ্ধান্ত নেবেন গ্রিভান্স অফিসার। এ ক্ষেত্রে কমিশনের ডিরেক্টর জেনারেল (মিডিয়া) অন্যতম ভূমিকা পালন করবেন।

নির্বাচনে হাতি থেকে সাবধান
পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুর পাঞ্চেৎ ডিভিশন এবং বাঁকুড়া উত্তর ডিভিশনে প্রতিবেশি রাজ্য থেকে হাতির পাল মাঝে মাঝেই নেমে আসে। কিছুদিন আগেই এসেছিল ২৮-৩০টি হাতির দল। বেলিয়াতোড়, বড়জোড়া, গঙ্গাজলঘাটি প্রভৃতি রেঞ্জে ফসল ও লোকজনের ঘরবাড়ি নষ্ট করে হাতির দল। হাতির হানায় মৃত্যুও হয়। তাছাড়া এই জেলার বিভিন্ন জঙ্গলে ন’টি ‘রেসিডেন্ট’ হাতি (স্থায়ী ভাবে থেকে যাওয়া) রয়েছে। এই মুহূর্তে ছ’টি হাতি বড়জোড়া, একটি বেলিয়াতোড় ও দু’টি গঙ্গাজলঘাটি রেঞ্জের জঙ্গলে রয়েছে। দলমার পাল আপাতত চলে গেলেও ফিরে আসতে পারে যে কোনও সময়। তাই  ভোট নির্বিঘœ করতে শুধু দুষ্কৃতিরাই নয়, বাঁকুড়া জেলা প্রশাসনের মাথাব্যথার কারণ হয়ে উঠেছে হাতিও। ইতিমধ্যেই জেলার হাতি উপদ্রুত এলাকার বুথের সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়েছে। সেখানে ভোটকর্মীদের কী ভাবে নিয়ে যাওয়া হবে, তা ঠিক করতে বন দফতরের কর্তাদের নিয়ে বৈঠকও হয়েছে। বাঁকুড়ার জেলাশাসক উমাশঙ্কর এস বলেছেন, জঙ্গল লাগোয়া এলাকার মানুষজন হাতিদের সম্পর্কে ওয়াকিবহাল। কিন্তু, ভোট কর্মীরা ওই এলাকা সম্পর্কে এবং হাতিদের মতিগতি নিয়ে ততটা সচেতন নন। এই অবস্থায় ভোট করাতে গিয়ে কোনওভাবেই যাতে হাতির মুখে ভোটকর্মীদের পড়তে না হয়, তা নিশ্চিত করতে বন দফতরকে ব্যবস্থা নিতে বলেছি। তবে হাতিদের উপদ্রবে ভোট ব্যাহত হবার মত কোনও তথ্য জানা নেই।্ কিন্তু ২০১৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচন ও ২০১৪ সালে লোকসভা নির্বাচনের সময় ওই এলাকায় হাতির উপদ্রব বেড়ে গিয়েছিল। বন দপ্তরের ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী  ভোটের কাজে যাওয়া বুথ কর্মীদের সঙ্গে পর্যাপ্ত পটকা (ক্র্যাকার) দেওয়ার ব্যবস্থা হচ্ছে। সেই সঙ্গে সতর্কতা হিসেবে সঙ্গে ফল, ডাল জাতীয় সামগ্রী, এমনকি গুড় রাখতে নিষেধ করা হচ্ছে। জেলার  ডিএফও (উত্তর) ভাস্কর জেভি অবশ্য বলেছেন, আমাদের লক্ষ্য ভোটের দু’দিন আগেই হাতিগুলিকে লোকালয় থেকে দূরের জঙ্গলে নিয়ে যাওয়া।

নির্বাচনের কাজে না যাবার বাহানা  
পশ্চিমবঙ্গের জেলায় জেলায় পোলিং পার্সোনেল সেলের কমীদের দিস্তা দিস্তা আবেদন খুটিয়ে দেখতে গিয়ে নাজেহাল অবস্থা। নির্বাচনের জন্য নির্বাচিতদের কাছ থেকে আসছে নানা ধরণের অজুহাত ও বাহানা দিয়ে আবেদন। অনেক আবেদনে অভিনবত্বও রযেছে। ভোটের কাজে যাতে যেতে না হয় সেজন্য একজন আবেদনে লিখেছেন, ক’দিন ধরেই ডান হাতে টনটনে ব্যথা। মনে হচ্ছে আমি প্রতিবন্ধী হয়ে যাব। যাব কী করে?  আবার একজনের করুণ আর্তি, ছেলেটা আমাকে ছাড়া পড়তেই বসে না। আমি গেলে তো ওর বড় ক্ষতি হয়ে যাবে। মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুরের এক শিক্ষক আবেদনের সঙ্গে জুড়ে দিয়েছেন বিয়ের কার্ড। লিখেছেন, বিয়ের ব্যাপার তো। বিবেচনা করলে বড় উপকার হয়। প্রতি নির্বাচনেই আপত্তি জানিয়ে আবেদন করেন অনেকে। তাতে কাজ না হলে কেউ কেউ নির্দল প্রার্থী হয়েও ভোটে দাঁড়িয়ে যান। তবে এবার অনিচ্ছুক ব্যাক্তির সংখ্যা অতীতের সব রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গিয়েছে। ৫৯ বছর বয়স পর্যন্ত রাজ্য সরকারি ও সরকারের আওতায় থাকা সংস্থার কর্মীদের ভোটের প্রশিক্ষণের জন্য চিঠি পাঠানো হয়েছিল। আর সেই চিঠি হাতে পাওয়ার পরেই ভোটের দায়িত্ব থেকে রেহাই পেতে তৎপর হয়েছেন অনেকেই। ইতিমধ্যে প্রত্যেক জেলায় অব্যাহতি চেয়ে কয়েক হাজার করে আবেদন জমা পড়েছে। তবে রিটার্নিং অফিসাররা জানিয়েছেন, কারও কারও সত্যিই সমস্যা থাকতে পারে। কিন্তু অনেকেই যা কারণ দেখিয়েছেন তা হাস্যকর বললেও কম বলা হয়। তবে শুধু আবেদনেই রেহাই মিলবে না। মেডিক্যাল বোর্ড, ভোটের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার কমিটি সব দেখে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পরীক্ষা করেই যা করার করা হবে।

ভোটযন্ত্রের প্রশিক্ষণ বৃহন্নলাদের
নির্বাচন কমিশন একজন ভোটারও যাতে ভোট দেওয়া থেকে বাদ না পড়েন সেজন্য নানাবিধ ব্যবস্থা নিয়েছে। এবছর ভোট হচ্ছে ইভিএমের মাধ্যমে। সঙ্গে থাকছে ভোটার ভেরিফায়েড পেপার অডিট ট্রেল (ভিভিপ্যাট) ব্যবস্থা। অনেকেরই এগুলি সম্পর্কে কোনও ধারণা নেই। হাতেকলমে যন্ত্রে ভোটদান শেখাতে নির্বাচন কমিশন এবার বৃহন্নলাদের জন্য শিবির করছে। বৃহন্নলাদের ভোটদান শেখাতে এমন শিবির আগে কখনও হয়নি বলেই জানিয়েছেন রাজ্যের ট্রান্সজেন্ডার ডেভেলপমেন্ট বোর্ডের সদস্য অঞ্জলি মন্ডল।  সম্প্রতি দক্ষিণ ২৪ পরগণার বারুইপুরে এমনি একটি শিবিরে প্রশিক্ষণের সূত্রে ওই দুই যন্ত্রের ব্যবহার রপ্ত  করেছেন একদল বৃহন্নলা। হাজির ছিলেন জনা পঁয়ত্রিশ বৃহন্নলা। তাদের সকলেই এবার ভোটার। কমিশন সুত্রে জানা গেছে, এমন অনেক এলাকা রয়েছে, যেখানে বৃহন্নলারা গোষ্ঠীবদ্ধভাবে বাস করেন। সেই জায়গাগুলি চিহ্নিত করা হচ্ছে। শিবির করে ওদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।  তবে তৃতীয় লিঙ্গের নাগরিকের সংখ্যা কম না হলেও তাদের মধ্যে ভোটার তালিকায় নাম নথিভুক্ত করিয়েছেন খুব কমজনই। বাকিরা যাতে ভোটার তালিকায় নাম তোলেন, তার চেষ্টা চলছে। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যের ছ’কোটি ৮০ লক্ষ ভোটারের মধ্যে তৃতীয় লিঙ্গ পরিচয়ে ভোটার তালিকায় নাম নথিভুক্ত করিয়েছেন মাত্র ১৪২৮ জন। জানা গেছে, ইভিএম ও ভিভিপ্যাটের ব্যবহার নিয়ে একটি ভিডিয়ো ক্লিপ তৈরি হয়েছে। ভিডিয়ো ক্লিপটি সব বৃহন্নলাদের মোবাইলে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। ট্রান্সজেন্ডার বোর্ডের সদস্য অঞ্জলি মন্ডল জানিয়েছেন, মহিলা অথবা পুরুষ পরিচয়ে ভোটার তালিকায় নাম রয়েছে, এমন বৃহন্নলার সংখ্যা অনেক। অনেকেই এ বার প্রথম ভোট দেবেন। তবে তিনি জানিয়েছেন, সুপ্রিম কোর্ট তৃতীয় লিঙ্গকে মর্যাদা দিয়েছে। তা সত্ত্বেও বৃহন্নলাদের অনেকেই সামাজিক কারণে নিজের লিঙ্গ পরিচয়ে ভোটার তালিকায় নাম নথিভুক্ত করাতে চান না।

নির্বাচনে প্রার্থীর কাছে ভিক্ষুকও ফেলনা নয়
নির্বাচনে ভিক্ষুকরাও যে ফেলনা নয় তা আর কেউ না বুঝলেও প্রার্থীরা ঠিকই বোঝেন। আর তাই ভিক্ষুকদের অবজ্ঞা না করে বরং তাদের জন্য জিতে এলে কিছু করার প্রতিশ্রুতি দিতেও দেখা গেছে উত্তর দিনাজপুরের বালুরঘাটের বিজেপি প্রার্থীকে। ভোটের আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরুর আগে বালুরঘাটের বুড়াকালী মন্দিরে পুজো দিতে গিয়েছিলেন বিজেপি প্রার্থী সুকান্ত মজুমদার। পুজো দেওয়ার পরে সবার প্রথমে মন্দির চত্বরের ভিক্ষুকদের কাছে গিয়ে ভোট চাইলেন তিনি। অনেকের মতে, সমাজের সব স্তরের মানুষের ভোট পেতে এটি নয়া কৌশল। তবে সুকান্ত মজুমদার বলেছেন, গুরুত্বপূর্ণ এই ভোটে ভিক্ষাবৃত্তিতে যুক্ত মানুষদেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাই তাঁদের কাছেও ভোট প্রার্থনা করেছি। মন্দির চত্বরে ছিলেন প্রায় শ’ খানেক ভিক্ষুক। এদের মধ্যে অনেকেই বৃদ্ধ ও বৃদ্ধা। তাদের সমস্যার কথা শোনেন তিনি। বিজেপির প্রার্থী হিসেবে তাকে ভোট দিতে আবেদনও করেছেন। আশ্বাস দেন, নির্বাচিত হলে ফুটপাথবাসী থেকে এলাকার ভিক্ষুকদের পাশে দাঁড়াবেন। অনেক প্রবীণ ভিক্ষুক তার মাথায় হাত দিয়ে আশীর্বাদও করেছেন। মন্দির লাগোয়া দোকানি ও পথচলতি মানুষের সঙ্গে হাত মিলিয়ে তাঁদের কাছেও ভোটের প্রচার করেছেন। ভিক্ষুকদের কাছে ভোট প্রার্থনার পাশাপাশি  তিনি  চকরাম এলাকায় গিয়ে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধে নিহত কিশোর চুরকা মুর্মুর স্মৃতিস্তম্ভে মালা দিয়েছেন। বালুরঘাটের সীমান্ত গ্রাম ডাঙ্গিতে ১৯৪২ সালের আন্দোলনের শহিদ স্মারক স্তম্ভেও মালা দিয়েছেন।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর