× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার মন ভালো করা খবর
ঢাকা, ১৫ অক্টোবর ২০১৯, মঙ্গলবার

নির্বাচনের দায়িত্ব থেকে সরানো হলো দুই কমিশনারসহ চার পুলিশ কর্তাকে

ভারত

পরিতোষ পাল, কলকাতা থেকে | ৭ এপ্রিল ২০১৯, রবিবার, ৯:৩২

পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ ওঠায় নির্বাচনের সব রকম দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে কলকাতার নতুন পুলিশ কমিশনার ও বিধাননগরের কমিশনারকে। সেই সঙ্গে নির্বাচনের কাজ থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে ডায়মন্ড হারবার ও বীরভূমের পুলিশ সুপারদেরও। শুক্রবার রাতে এক নির্দেশনামায় এই চার পুলিশ কর্তাকে নির্বাচনের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয়ার নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। রাজ্যের মুখ্য সচিবকে পাঠানো নির্দেশে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অপসারণপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করে কমিশনকে জানাতে বলা হয়েছে। কমিশনের চিঠিতে অবশ্য সরানোর কোনো কারণ দেয়া হয়নি। তবে পর্যবেক্ষক মহলের মতে, কলকাতার সাবেক পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমারকে সিবিআইয়ের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বাড়ি যাওয়ার প্রতিবাদে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ধর্মতলায় যে ধরনায় বসেছিলেন তাতে উপস্থিত ছিলেন দুই পুলিশ কমিশনার অনুজ শর্মা ও জ্ঞানবন্ত সিং। জানা গেছে, বীরভূম ও ডায়মন্ড হারবারের পুলিশ সুপারদের নিরপেক্ষতা নিয়ে বিভিন্ন দলের পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ জমা পড়েছিল। কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, কলকাতার পুলিশ কমিশনারের পদে অনুজ শর্মার পরিবর্তে নিয়োগ করা হয়েছে দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের এডিজি রাজেশ কুমারকে।
বিধাননগরের কমিশনার জ্ঞানবন্ত সিংহকে সরিয়ে সেই জায়গায় নিযুক্ত করা হয়েছে রাজ্য পুলিশের এডিজি (অপারেশন্স) নটরাজন রমেশ বাবুকে। ডায়মন্ড হারবারের এসপি এস সেলবামুরুগানের জায়গায় আনা হয়েছে কলকাতা সশস্ত্র পুলিশের তৃতীয় ব্যাটেলিয়নের ডিসি শ্রীহরি পান্ডেকে। বীরভূমের এসপি শ্যাম সিংহকে সরিয়ে সেই পদে পাঠানো হয়েছে বিধাননগরের ডিসি (এয়ারপোর্ট ডিভিশন) আভারু রবীন্দ্রনাথকে। নির্বাচন কমিশনের অফিসারদের মতে, এই চার আইপিএস অফিসার স্বপদে থাকলে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোট সম্ভব নয়। তাই সরানো হয়েছে। কমিশন সূত্রের খবর, ওই চারজনের বিরুদ্ধেই বিজেপিসহ বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো  অভিযোগ করেছিল। উল্লেখ্য, নির্বাচন শুরুর অনেক আগেই তিন বছরের বেশি পদে রয়েছেন এমন পুলিশ কর্তাদের সরিয়ে দেয়া হয়েছিল। তবে এবারের নির্দেশ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কেননা, চার পুলিশ কর্তাকে নির্বাচনের কোনো কাজে যুক্ত করা যাবে না। নির্বাচনের মুখে কমিশনের নির্দেশে পুলিশ কর্তাদের বদলির ঘটনাকে স্বাগত জানিয়েছেন বিরোধীরা। বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেছেন, কমিশন ঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ওই পুলিশ অফিসারদের কেউ মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ধরনায় বসেছিলেন, কেউ সোনা কাণ্ডে অভিযুক্তকে বাঁচাতে গিয়েছিলেন। ওদের দায়িত্বে রেখে নিরপেক্ষ ভোট সম্ভব হতো না। বাম পরিষদীয় নেতা সুজন চক্রবর্তীর বক্তব্য, অনেক আগেই এই সিদ্ধান্ত নেয়া দরকার ছিল। অনেক পুলিশ আধিকারিকদের বিরুদ্ধে যা অভিযোগ আসছে, তারা যা ভূমিকা নিচ্ছেন, তাতে ওসি পর্যন্ত নানা স্তরে আরও অনেক বদল জরুরি।  তৃণমূল কংগ্রেসের এ ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া অবশ্য এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।
বিজেপি’র বিরুদ্ধে ভোট দেয়ার
আহ্বান সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের
ইতিমধ্যেই বিজেপি সরকারের বিভিন্ন নীতি নিয়ে সরব হয়েছেন বিজ্ঞানী থেকে চলচ্চিত্র নির্মাতারা। বিজেপির আমলে দেশজুড়ে যে সংশয় তৈরি হয়েছে তা নিয়ে প্রতিবাদে সরব হয়েছিলেন তারা। তবে এবার সরাসরি বিজেপি ও তার সহযোগীদের ভোট না দেয়ার আবেদন জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন কবি শঙ্খ ঘোষ, নবনীতা দেবসেন, অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহ, অমল পালেকর, অনুরাগ কাশ্যপ, লিলেট দুবে, কঙ্কণা সেনশর্মাসহ প্রায় ছয়শ’ সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব। তারা এই বিবৃতিতে বলেছেন, একটি সামপ্রদায়িক রাজনৈতিক দল, যার নাম বিজেপি, তার উত্থানের সঙ্গে সঙ্গে এবং রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় সেই দল আসার পরে দেশের সার্বিক অবস্থা চূড়ান্ত অবক্ষয়ের রাস্তায়। আর তাই সরাসরি ধর্মান্ধতা, ঘৃণা এবং উদাসীনতাকে ক্ষমতা থেকে উৎখাত করার জন্য বিজেপি ও তার শরিকদের বিরুদ্ধে ভোট দেয়ার আবেদন জানানো হয়েছে।  কোনো রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের তরফে সরাসরি ভোট দেয়ার এমন আহ্বান সামপ্রতিককালে বিরল। বিবৃতিটি ১২টি ভাষায় প্রকাশ করা হয়েছে। এদিনের বিবৃতিতে বেকারত্ব, কৃষকের মৃত্যু, মূল্যবৃদ্ধি এবং ধর্মীয় হানাহানি ও জাতিগত বিদ্বেষের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে নানা পেশায় ‘কর্মরত ও কর্মহীন মানুষে’র তরফে তারা দেশের সমস্ত মানুষের কাছে আবেদন জানিয়েছেন, সামনের লোকসভা নির্বাচনে ফ্যাসিস্ট বিজেপি ও তার সঙ্গী রাজনৈতিক দলগুলোকে বর্জন করুন। ফ্যাসিবাদী বিজেপি ও সহযোগীদের পরাস্ত করার আহ্বান জানিয়ে ১২ই এপ্রিল কলকাতায় মৌলালি থেকে রবীন্দ্র সদন পর্যন্ত পদযাত্রারও ডাক দিয়েছেন তারা। তারা বলেছেন, দুর্বলতমের হাতে ক্ষমতা, সংহতি রক্ষা, পরিবেশ সুস্থ রাখা এবং বিজ্ঞানমনস্ক চিন্তার উন্মেষের জন্য ভোট দিন।  বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারী সাংস্কৃতি ব্যক্তিত্বদের মতে, ভারত নামের ধারণাটাই আজ বিপন্ন। আজ হাসি, গান, নাচ সবই হুমকির মুখে। দেশের সংবিধানও বিপন্ন। যে সব প্রতিষ্ঠানে যুক্তি, তর্ক, মতামত বিনিময়ের পরিসর ছিল, তাদের কণ্ঠরোধ করা হচ্ছে। প্রশ্ন করলে, মিথ্যের বিরুদ্ধে সরব হলে, সত্য বললে  জাতীয়তাবাদ-বিরোধী বলে চিহ্নিত করা হচ্ছে।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর