× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার মন ভালো করা খবর
ঢাকা, ১৫ অক্টোবর ২০১৯, মঙ্গলবার

ভোটের আগে মমতার বিস্ফোরক অভিযোগ পশ্চিমবঙ্গে কংগ্রেসকে সাহায্য করছে আরএসএস

ভারত

পরিতোষ পাল, কলকাতা থেকে | ১২ এপ্রিল ২০১৯, শুক্রবার, ৯:১৮

উত্তরবঙ্গে প্রচারে গিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, বিজেপি, কংগ্রেস ও বামরা তিন ভাই। আরো বলেছিলেন, কংগ্রেসের জন্যই বিজেপির বাড়বাড়ন্ত। কিন্তু বুধবার নদীয়ার চোপড়ায় এক জনসভায় বিস্ফোরক অভিযোগ করেছেন কংগ্রেসের বিরুদ্ধে। মমতা এদিন বলেছেন, কংগ্রেসকে সাহায্য করছে আরএসএস। আরএসএস হিন্দুবাদী বিজেপির প্রধান মাথা হিসেবেই পরিচিত। অবশ্য মমতার প্রধান আক্রমণের নিশানা ছিলেন বহরমপুর, জঙ্গিপুর এবং দার্জিলিংয়ের তিন কংগ্রেস প্রার্থী অধীর চৌধুরী, অভিজিৎ মুখোপাধ্যায় এবং শঙ্কর মালাকার। মুখ্যমন্ত্রী অবশ্য সরাসরি কারো নাম বলেন নি। মমতা বলেছেন, কংগ্রেস ও বিজেপির মিল হয়েছে।
বহরমপুরে কংগ্রেসের নেতা আরএসএস-এর মদতে ভোটে লড়ছেন। তেমনই জঙ্গিপুরে প্রণব মুখোপাধ্যায়ের ছেলে আরএসএস-এর মদতে লড়ছেন। দার্জিলিংয়ের কংগ্রেস প্রার্থীও আরএসএস-এর সাহায্য নিচ্ছেন। এরপরই জনগণের উদ্দেশ্যে তিনি বলেছেন, আপনারা কি চান আরএসএসকে সাহায্য করতে? উল্লেখ্য, বহরমপুর এবং জঙ্গিপুর দু’টি কেন্দ্রই সংখ্যালঘু অধ্যুষিত। জঙ্গিপুরে একমাত্র কংগ্রেস ছাড়া তৃণমূল, বিজেপি এবং বাম তিন দলই সংখ্যালঘু প্রার্থী দিয়েছে। তবে এদিন মমতার অভিযোগের জবাবে প্রণববাবুর পুত্র অভিজিৎ মুখোপাধ্যায় বলেছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানছেন কিভাবে যে, আমরা আরএসএস-এর সঙ্গে কথা বলছি, যোগাযোগ রাখছি? উনি কি আমাদের ফোন ট্র্যাপ করছেন নাকি গোয়েন্দাগিরি করছেন। আর বহরমপুরের কংগ্রেস প্রার্থী অধীর চৌধুরী তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কি আরএসএস-এর কোর কমিটির সদস্য? না হলে উনি জানছেন কিভাবে যে আমাকে আরএসএস মদত দিচ্ছে।  আসলে হাস্যকর সব কথা বলে উনি নিজেই বিজেপির সঙ্গে বোঝাপড়ার রাস্তাটা খোলা রাখতে চাইছেন। চোপড়ায় ভাষণে মমতা শুধু কংগ্রেস ও আরএসএস যোগ নিয়েই নয়, আরএসএস এবং বিজেপি রাজ্যের সংখ্যালঘুদের ওপর অত্যাচার করছে বলেও অভিযোগ করেছেন। তিনি বলেছেন, সংখ্যালঘুদের ওপর অত্যাচার করেছে বিজেপি ও সঙ্ঘ। গোরক্ষার নামে অত্যাচার, গণহত্যা হয়েছে। এখন বলছে আমি চৌকিদার। এই চৌকিদার চোর। আরএসএস নেতা জিষ্ণু বসু পাল্টা অভিযোগ করেছেন, তৃণমূল সরকারের আমলে রাজ্যে একের পর এক দাঙ্গা হয়েছে। সেসব থেকে মানুষের চোখ সরানোর জন্যই মুখ্যমন্ত্রী বারবার আরএসএসকে টার্গেট করছেন।
ভোটারদের রাজকীয় অভ্যর্থনা
ব্যাপারটা যেন রাজকীয়। রাজা আসবেন। তাকে ঢোল-কাসা বাজিয়ে স্বাগত জানানো হবে। ফুল দিয়ে বরণ করে নিতে হবে। হ্যাঁ, ভারতের উত্তর প্রদেশের বারাউতের একটি ভোটকেন্দ্রে ভোটাররা এমনই রাজকীয় অভিবাদন পাচ্ছেন। ভোটকেন্দ্রে তাদেরকে স্বাগত জানাতে মোতায়েন করা হয়েছে ব্যান্ড পার্টি। কেন্দ্রের সদর দরজা দিয়ে ভোটার প্রবেশ করা মাত্রই বেজে উঠছে ব্যান্ড। তাদের ওপর ছিটিয়ে দেয়া হচ্ছে গোলাপ ফুলের পাপড়ি। এমন আচরণে বেশ ফুরফুরে দেখা যাচ্ছে ভোটারদের। ভারতের বার্তা সংস্থা এএনআই এ বিষয়ে ভিডিওসহ একটি প্রতিবেদনে এ কথা জানান দিয়েছে। বলা হয়েছে, আপনি যদি বাঘপাতে ভোটার হয়ে থাকেন তাহলে জলদি যান, মিস করবেন না এই বিশেষ স্বাগত জানানোকে। কিন্তু ভোটারদের স্বাগত জানাতে কে এ আয়োজন করেছেন, কোনো প্রার্থী, নাকি সরকারের তরফে কেউ অথবা কোনো সমাজসেবক, তা জানা যায়নি।
কংগ্রেস বনাম মমতা
ফের জাঁকিয়ে উঠলো ‘পুরনো’ শত্রুতা! কংগ্রেস বনাম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূল সুপ্রিমো তথা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন যে, আরএসএসের থেকে কংগ্রেস সাহায্য নিচ্ছে দুটি লোকসভা আসনে। মমতার এই মন্তব্যে তুমুল চটেছেন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী। তিনি তীব্র কটাক্ষ করে বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কি কখনো বিজেপির সঙ্গে কোথাও কোনো সমঝোতা করেছেন? প্রসঙ্গত, কেন্দ্রে প্রথমবার মমতা পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রী হন বিজেপির আমলেই। এর আগে একটি জনসভা থেকে মমতা বলেছিলেন, বিজেপিকে একটা ভোটও দেবেন না। কংগ্রেসকেও কোনো ভোট দেবেন না। ওরা বিজেপির সঙ্গে হাতে হাত মিলিয়ে কাজ করে।
তিনি বলেন, ‘বহরমপুরে কংগ্রেস নেতা লড়ছেন, আমি শুনেছি আরএসএসের সাহায্য নিয়ে লড়াই করছেন তিনি। জঙ্গিপুরে আরএসএসের সাহায্য নিয়ে কংগ্রেসের হয়ে লড়ছেন প্রণব মুখোপাধ্যায়ের ছেলে। দার্জিলিং-এ ও কংগ্রেস প্রার্থীকে সাহায্য করছে আরএসএস।’
জবাবে রাহুল গান্ধী বলেন, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছেন যে, আমরা নাকি বিজেপির বিরুদ্ধে আসলে লড়াই করছি না। আমরা যদি লড়াই না করি, তাহলে এই প্রশ্নের জবাব দিন যে, রাফাল ইস্যু নিয়ে প্রতিবাদ প্রথম কারা করেছিল? ‘চৌকিদার চোর হ্যায়’ স্লোগানটাই বা প্রথম তুলেছিল কারা? আমরা কিন্তু কোনোদিন ভারতের কোনো রাজ্যে বিজেপির সঙ্গে সমঝোতা করিনি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কি কখনো বিজেপির সঙ্গে সমঝোতা করেছেন’? প্রসঙ্গত, তৃণমূল কংগ্রেসের জন্মের দু’বছর পরেই এনডিএ-র জোটশরিক হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অটলবিহারী বাজপেয়ী যে সময় দেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, তখন তিনি যথাক্রমে রেলমন্ত্রী এবং কয়লামন্ত্রী হন।
৫ ঘণ্টায় ২ ভোট
ভারতের ছত্তিশগড়ের দান্তেওয়াড়া জেলার কিলেপাল ভোটকেন্দ্র। সেখানে ৫ ঘণ্টায় ভোট পড়েছে মাত্র দুটি। ভোটকেন্দ্রের বাইরে লাল কালিতে দেয়াল লিখনে মাওবাদীরা জনগণকে ভোট বর্জন করার আহ্বান জানিয়েছে। অনলাইন বিবিসিতে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, জেলার অন্য অংশগুলোতে ভোটার উপস্থিতি ভালো।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর